খুঁজুন
বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন, ১৪৩২

১১তম গ্রেড পাচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা, বেতন বাড়বে কত?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
১১তম গ্রেড পাচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা, বেতন বাড়বে কত?

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মাঠ পর্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষকদের বেতন দুই ধাপ বাড়িয়ে ১১তম গ্রেড করার প্রস্তাব করেছে। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থেকে বিভাগীয় উপপরিচালক পর্যন্ত সব কর্মকর্তার বেতন এক গ্রেড করে উন্নীত করার সুপারিশ আগামী সপ্তাহে করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উচ্চ আদালতের নির্দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন জাতীয় বেতন স্কেলের দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়। এ কারণে সহকারী শিক্ষক ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কারণ, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বেতনও বর্তমানে দশম গ্রেডে থাকায় প্রধান শিক্ষক ও তদারকি কর্মকর্তার একই গ্রেডে থাকা প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করছে। অপরদিকে, সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে অবস্থান করছেন।

বেতন কাঠামোয় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মধ্যে তিন ধাপ পার্থক্য রয়েছে, যা টাকা হিসেবে প্রায় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। সহকারী শিক্ষকরা এ ব্যবধানকে ‘বৈষম্য’ হিসেবে দেখছেন। এই অসন্তোষ দূর করতে সরকার বেতন গ্রেড উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানান, সহকারী শিক্ষকদের পদনাম পরিবর্তন করে ‘শিক্ষক’ করা হয়েছে এবং তাদের বেতন স্কেল ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব সরকারকে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ইউপিইও), জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) ও বিভাগীয় উপপরিচালকদের (ডিডি) বেতন এক ধাপ বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার পর অর্থ উপদেষ্টা, অর্থ সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবের সঙ্গে বৈঠকে বেতন বাড়ানোর যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং নতুন পে-কমিশনের কাছে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দেওয়া হচ্ছে।

নতুন প্রস্তাবে কার বেতন কত হবে:

সরকারের কাছে দেওয়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রস্তাবে শিক্ষকদের বেতন ১৩তম গ্রেডের (১১ হাজার টাকা স্কেল) পরিবর্তে ১১তম গ্রেড (১২ হাজার ৫০০ টাকা স্কেল) করার কথা বলা হয়েছে। সারা দেশে ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন সাড়ে তিন লাখের বেশি।

সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের (ইউএপিইও) বেতন ১০ম গ্রেডের (১৬ হাজার টাকা স্কেল) পরিবর্তে নবম গ্রেড (২২ হাজার টাকা স্কেল) দেওয়া হবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে। সারাদেশে এই পদের সংখ্যা দুই হাজার ৬০৭টি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের (ইউপিইও) বেতন নবম গ্রেডের (২২ হাজার টাকা স্কেল) থেকে অষ্টম গ্রেড (২৩ হাজার টাকা স্কেল) এ উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ পদে সারাদেশে কর্মরত ৫১৬ জন কর্মকর্তা রয়েছেন।

দেশে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) আছেন ৬৮ জন। তাদের বেতন সপ্তম গ্রেডের (২৯ হাজার টাকা স্কেল) পরিবর্তে ষষ্ঠ গ্রেড (৩৫ হাজার ৫০০ টাকা স্কেল) দেওয়া হবে বলে সুপারিশ করা হচ্ছে।

এর বাইরে বিভাগীয় উপপরিচালকদের বেতন পঞ্চম গ্রেডের (৪৩ হাজার টাকা স্কেল) পরিবর্তে চতুর্থ গ্রেড (৫০ হাজার টাকা স্কেল) দেওয়া হবে বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সুপারিশ করবে।

মঠবাড়িয়ায় হোল্ডিং ট্যাক্সের টাকা আত্মসাৎ

মোঃ শাহজাহান, মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি ।।
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৯:২৪ অপরাহ্ণ
মঠবাড়িয়ায় হোল্ডিং ট্যাক্সের টাকা আত্মসাৎ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ১০ নং হলতা গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্সের টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম ঝনো, অবসরপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) হেমায়েত উদ্দিন, বর্তমানে কর্মরত সচিব কাইয়ূম হাওলাদার এবং আদায়কারী ও ভুয়া এনজিও কর্মী সোহেল রানার বিরুদ্ধে। হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে প্রাপ্ত টাকা জনগনের কল্যানে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করেছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদটিতে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৬ বছরের হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা হয়েছে। তবে মোট কত টাকা আদায় করা হয়েছে তার কোন হিসাব নেই পরিষদে। এ বিষয়ে কিছুই জানে না ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশরাও।স্থানীয় সরকারের বিধিমালা না মেনে মনগড়াভাবে ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ট্যাক্স আদায় করে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের নেতৃত্বে ভাগাভাগি করা হয়েছে। আদায়কৃত এ টাকা দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকারের বিধিমালা অনুযায়ী, হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে প্রাপ্ত টাকা ব্যয় করার জন্য একটি কমিটি করার কথা থাকলেও আদৌ কোন কমিটি করা হয়নি।৯ ওয়ার্ডে ৯টি রিভিউ কমিটিও করা হয়নি।তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়নি ইউপি সদস্যদের।স্থানীয় জনগনের কোন অভিযোগ আছে কিনা তা অবগত করার জন্য কোন নোটিশ দেওয়া হয়নি।খানা ভিত্তিক জরিপের মাধ্যমে হোল্ডিং ট্যাক্সের খসড়া তালিকা ও চুড়ান্ত তালিকা অদ্যাবধি পর্যন্ত কোনটিই করা হয়নি।

ট্যাক্স আদায়কারী সোহেল রানার বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়।তিনি নিজেকে কখনো সাংবাদিক আবার কখনো এনজিও কর্মী পরিচয় দেন।সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের পিরোজপুর জেলা সমন্বয়কারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে জানান তিনি।বাস্তবে সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারনা করে আসছেন তিনি।২ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ কর্মী নিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের সচিবদের সাথে যোগসাজশ তৈরি করে ট্যাক্স আদায়ের নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এ চক্রটি।সচিবরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে তাল মিলিয়ে চলায় তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায় না কেউ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইউপি সদস্য জানান,৬ বছরে কত টাকা আদায় করা হয়েছে এর কোন হিসাব দিতে হয়নি আদায়কারীদের।এ নিয়ে এখন পর্যন্ত আদৌ কোন মিটিং করা হয়নি।

আরেকজন ইউপি সদস্য জানান,আদাযকৃত ট্যাক্সের টাকা কোথায় ব্যয় করা হয়েছে তা কেউ জানে না।যদি কোন মেম্বার এ নিয়ে কথা বলে তাহলে সে তার এলাকার জন্য পরিষদ থেকে কোন বরাদ্দ পাবেনা।

হলতা গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার জামাল হোসেন জানান, এখন গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে ট্যাক্স আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাহিরের লোক দিয়ে আর আদায় করা হবে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আকলিমা আক্তারকে একাধিকবার ফোন দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

রেশনিংয়ের তেলে গন্তব্যে পৌঁছাবে না গাড়ি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
রেশনিংয়ের তেলে গন্তব্যে পৌঁছাবে না গাড়ি

বরিশাল নগরী থেকে প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার দূরে বরগুনার আমতলীতে অফিস নগরীর বটতলা এলাকার বাসিন্দা সোহাগের। প্রতিদিনই মোটরসাইকেলে করেন আসা যাওয়া। শনিবার থেকে দিনে ২ লিটারের বেশি জ্বালানি নিতে পারছেন না রাকিব। অথচ অফিসে যেতে আসতে দৈনিক কম করে হলেও তিন লিটার তেল দরকার তার। যুগান্তরকে রাকিব বলেন, ‘আগে থেকে ট্যাংকিতে থাকা তেলে সামলাচ্ছেন পরিস্থিতি। এভাবে হয়তো চলবে কয়েক দিন। তারপর আসা যাওয়া করতে হবে বাসে, নয়তো স্ত্রী সন্তানদের বরিশালে রেখে আমতলিতে করতে হবে থাকার ব্যবস্থা।

 

জ্বালানি সংকটে যে গণপরিবহণে যাতায়াতের কথা ভাবছেন রাকিব সেই বাসের চালক-মালিকরাও আছেন দুশ্চিন্তায়। রেশনিংয়ের আওতায় লোকাল বাসে দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ লিটার জ্বালানি দেওয়ার নিয়ম করেছে সরকার। অথচ দক্ষিণাঞ্চলে এমনও অভ্যন্তরীণ রুট রয়েছে যেখানে একবার যেতে আসতেই ১০০ লিটারের মতো জ্বালানি খরচ হয়। দিনে ৭০-৮০ লিটারের বেশি তেল না দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কার্যকর হলে বিপদে পড়বে এসব গণপরিবহণ মালিকরা। এখন যেখানে দিনে একটি রাউন্ড ট্রিপ দেয় তারা সেখানে আজ যাত্রী নিয়ে গেলে পরদিন ছাড়া আর ফেরার উপায় থাকবে না। বরিশালের রূপাতলী বাস মালিক গ্রুপের সদস্য আল আমিন বলেন, ‘বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত একটি বাসের যাওয়া আসায় ৭০ থেকে ৮০ লিটার তেল দরকার হয়। যাত্রী চাপ বেশি থাকলে কোনো কোনো দিন দুবারও রাউন্ড ট্রিপ হয়। এখন পাম্প থেকে যদি দিনে ৭০-৮০ লিটারের বেশি তেল না দেয় তাহলে দিনে একবার রাউন্ড ট্রিপ দিয়ে বসে থাকতে হবে। এ পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ হবে আসন্ন ঈদে। ঈদের আগে পড়ে কোনো কোনো রুটে দিনে ৩-৪ বারও রাউন্ড ট্রিপ দিতে হয় আমাদের। জ্বালানি তেল প্রশ্নে এরকম রেশনিং চালু থাকলে একদিকে যেমন সেভাবে ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হবে না তেমনি যাত্রীরাও পড়বে চরম দুর্ভোগে।’

লোকাল পরিবহণের মতো জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন দূরপাল্লার বাসের চালকরা। সাগর পাড়ের কুয়াকাটা থেকে দেশের প্রায় সব প্রান্তে চলাচল করে যাত্রীবাহী বাস। বরিশালসহ অন্যান্য জেলাগুলো থেকেও যান দূর-দূরান্তে। জ্বালানি তেলের রেশনিং পুরোপুরি চালু হলে এসব বাসের চলাচল মুশকিল হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন চালক ও মালিকরা। কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বাস ‘আরপি রোকেয়া’ পরিবহণের চালক রুহুল আমিন বলেন, ‘প্রতিবার কেবল যেতেই ২৭০-২৮০ লিটার ডিজেল লাগে আমাদের। অথচ সরকার বলছে ২২০ লিটারের বেশি দেবে না। তাহলে কি আমরা মাঝপথে দাঁড়িয়ে থাকব?’ কুয়াকাটা থেকে চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী সৌদিয়া পরিবহণের কাউন্টার ইনচার্জ ইমাম হোসেন বলেন, ‘প্রতিবার চট্টগ্রাম পর্যন্ত গাড়ি পৌঁছাতে ৩০০ লিটারের বেশি তেল লাগে। ২০০-২২০ লিটার তেলে কি হবে? সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এ বিষয়টির দিকে খেয়াল রাখা উচিত ছিল।’ একইরকম সমস্যার কথা জানিয়েছেন বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, নিলফামারী, পঞ্চগড়ের পথে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া বাসগুলোর চালকরা। মাপা তেল নিয়ে আর যাই হোক সড়কে চলা সম্ভব নয়, বলেন তারা। সাকুরা পরিবহণের মালিক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাউফল থেকে রাজধানী ঢাকায় একবার যেতে আসতে ১৮০ লিটারের মতো তেল লাগে একটি বাসের। বর্তমান রেশনিংয়ে কোনোভাবে চালিয়ে নিতে পারলেও ঈদের সময় যখন একেকটি বাস দিনে ২-৩ বার ট্রিপ দেবে তখন কী হবে? অতিরিক্ত ট্রিপ দিতে না পারলে তো ঈদযাত্রায় সবাইকে বাড়ি পৌঁছানো সম্ভব হবে না।’ বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, ‘এখনো দূরত্ব বুঝে বাসগুলোকে তেল দিচ্ছে ফিলিং স্টেশনগুলো। কিন্তু সরকার যেভাবে বলছে সেই পদ্ধতি মানে রেশনিং পুরোপুরি চালু হলে এসব রুটের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। এ বিষয়টির দিকে সবার খেয়াল দেওয়া দরকার।’

বাসচালকদের মতো বিপাকে পড়ার আশঙ্কায় পড়েছেন ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকার মাইক্রোবাসের মালিকরা। বরিশালের রেন্ট-এ-কার প্রতিষ্ঠান রংধনুর মালিক সোহাগ হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের মাইক্রোবাসগুলোর জন্য দিনে ২০-২৫ লিটার তেলের বরাদ্দ রেখেছে সরকার। আমাদের গাড়িগুলো তো সারা বাংলাদেশ ছুটে বেড়ায়। একটি ১৮০০ সিসির গাড়ি এক লিটার তেলে সর্বোচ্চ ৬-৭ কিলোমিটার চলতে পারে। বরিশাল থেকে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব ১৭০ কিলোমিটার। আসা যাওয়ায় পাড়ি দিতে হবে ৩৪০ কিলোমিটার পথ। সরকারের বেঁধে দেওয়া তেলে যেখানে মাত্র ১৭৫ কিলোমিটার চলতে পারব আমরা সেখানে বাকি পথ পৌঁছাব কেমন করে? এ তো গেল কেবল বরিশাল-ঢাকা পথের হিসাব। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর ধরলে তো যাত্রী নিয়ে রওনাই হতে পারব না।’ রেশনিং প্রশ্নে তেলের পরিমাণ এত কম ধরা নিয়ে ক্ষুব্ধ ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরাও। বরিশাল নগরীর বাসিন্দা জিয়াউল হাসান বলেন, ‘আমার জিপের সিসি ৩০০০। প্রতি লিটার তেলে যায় সর্বোচ্চ তিন কিলোমিটার। আমাকে আপনি বলছেন দিনে ২৫ লিটার তেল নিতে। এই তেল দিয়ে আমি কি করব? ২৫ লিটার তেলে তো মাত্র ৭৫ কিলোমিটার যাবে গাড়ি। আমি যদি ঢাকা থেকে বরিশালে যাই তাহলেও তো আমার ৫৫-৬০ লিটার তেল লাগবে। এগুলো হিসাব না করেই কিভাবে এরকম সিদ্ধান্ত দিল?’

পরিচয় না প্রকাশের শর্তে বরিশালের একাধিক ফিলিংস্টেশনের মালিক যুগান্তরকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ডিজেলের ওপর তেমন কোনো চাপ পড়েনি এখানে। পেট্রোল আর অকটেন নিয়ে চলছে টানাটানি। রোববার স্থানীয় ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া হয়নি আমাদের। বরিশালে যেহেতু গাড়ি কম তাই প্রাইভেটকার কিংবা মাইক্রোবাসগুলোতে পুরোপুরি রেশনিং চালু করিনি আমরা। যার যার চাহিদা মতো দেওয়া হচ্ছে তেল। তবে এটা আর কতদিন পারব জানি না। ডিপো থেকে দেওয়া তেলের পরিমাণ যদি কমিয়ে দেয় তাহলে আমাদেরও তো কম দিতে হবে। ছোট শহরে সবাই সবার পরিচিত। কাউকে তো সরাসরি না বলতেও পারছি না। তবে ছোট গাড়ির জন্য রেশনিংয়ের যে পরিমাণ তা আরেকটু বাড়ানো উচিত। সারাদিনে মাত্র ১০ লিটার তেল, দূরের যাত্রা বাদ দিলাম, শহরে এখন যে পরিমাণ জ্যাম হয়, গাড়িগুলোকে যেভাবে জ্যামে বসে থাকতে হয়, সেটা বিবেচনা করে হলেও পরিমাণ আরেকটু বাড়ানো উচিত। তাছাড়া ছোট ছোট যেসব মালবাহী পিকাপভ্যান রয়েছে, সেগুলোও কিন্তু দূর-দূরান্তে পণ্য পরিবহণ করে। সরকারের উচিত হবে রেশনিং প্রশ্নে তেলের পরিমাণ আরেকটু বাড়ানো।’ বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট এবায়েদুল হক চান বলেন, ‘অর্থনীতির গতি হচ্ছে গাড়ির চাকা। সেই চাকা থামিয়ে কোনো কিছুই করা সম্ভব হবে না। সংকটে রেশনিং আমরাও চাই। তবে তা যৌক্তিক হতে হবে। বিষয়টি নতুনভাবে বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নয়তো গাড়ির চাকা বন্ধ হলে সবকিছুই থেমে যাবে।’

মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টার নাম সংশোধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টার নাম সংশোধন

সরকারের পাঁচজন মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার নাম সংশোধন করা হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) নাম সংশোধন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। ওইদিনই ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে দলটি। নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সংশোধনে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ‘আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী’র নাম পরিবর্তন করে করা হয়েছে ‘আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী’; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ‘আব্দুল আউয়াল মিন্টু’র নাম করা হয়েছে ‘আবদুল আউয়াল মিন্টু’; ধর্মমন্ত্রী ‘কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ’ এর নাম ‘কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)’ করা হয়েছে।

কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ‘মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ’ এর নাম ‘মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ’; পানিসম্পদ মন্ত্রী ‘মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি’র নাম সংশোধন করে ‘মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি’ করা হয়েছে।

এছাড়া, প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম’ এর নাম সংশোধন করে করা হয়েছে ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম’।

এছাড়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এর নাম সংশোধন করে ‘হাফিজ উদ্দিন আহমদ’ করার আবেদন করেছেন। এরইমধ্যে এ সংক্রান্ত আবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।