খুঁজুন
বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

রেশনিংয়ের তেলে গন্তব্যে পৌঁছাবে না গাড়ি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
রেশনিংয়ের তেলে গন্তব্যে পৌঁছাবে না গাড়ি

বরিশাল নগরী থেকে প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার দূরে বরগুনার আমতলীতে অফিস নগরীর বটতলা এলাকার বাসিন্দা সোহাগের। প্রতিদিনই মোটরসাইকেলে করেন আসা যাওয়া। শনিবার থেকে দিনে ২ লিটারের বেশি জ্বালানি নিতে পারছেন না রাকিব। অথচ অফিসে যেতে আসতে দৈনিক কম করে হলেও তিন লিটার তেল দরকার তার। যুগান্তরকে রাকিব বলেন, ‘আগে থেকে ট্যাংকিতে থাকা তেলে সামলাচ্ছেন পরিস্থিতি। এভাবে হয়তো চলবে কয়েক দিন। তারপর আসা যাওয়া করতে হবে বাসে, নয়তো স্ত্রী সন্তানদের বরিশালে রেখে আমতলিতে করতে হবে থাকার ব্যবস্থা।

 

জ্বালানি সংকটে যে গণপরিবহণে যাতায়াতের কথা ভাবছেন রাকিব সেই বাসের চালক-মালিকরাও আছেন দুশ্চিন্তায়। রেশনিংয়ের আওতায় লোকাল বাসে দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ লিটার জ্বালানি দেওয়ার নিয়ম করেছে সরকার। অথচ দক্ষিণাঞ্চলে এমনও অভ্যন্তরীণ রুট রয়েছে যেখানে একবার যেতে আসতেই ১০০ লিটারের মতো জ্বালানি খরচ হয়। দিনে ৭০-৮০ লিটারের বেশি তেল না দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কার্যকর হলে বিপদে পড়বে এসব গণপরিবহণ মালিকরা। এখন যেখানে দিনে একটি রাউন্ড ট্রিপ দেয় তারা সেখানে আজ যাত্রী নিয়ে গেলে পরদিন ছাড়া আর ফেরার উপায় থাকবে না। বরিশালের রূপাতলী বাস মালিক গ্রুপের সদস্য আল আমিন বলেন, ‘বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত একটি বাসের যাওয়া আসায় ৭০ থেকে ৮০ লিটার তেল দরকার হয়। যাত্রী চাপ বেশি থাকলে কোনো কোনো দিন দুবারও রাউন্ড ট্রিপ হয়। এখন পাম্প থেকে যদি দিনে ৭০-৮০ লিটারের বেশি তেল না দেয় তাহলে দিনে একবার রাউন্ড ট্রিপ দিয়ে বসে থাকতে হবে। এ পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ হবে আসন্ন ঈদে। ঈদের আগে পড়ে কোনো কোনো রুটে দিনে ৩-৪ বারও রাউন্ড ট্রিপ দিতে হয় আমাদের। জ্বালানি তেল প্রশ্নে এরকম রেশনিং চালু থাকলে একদিকে যেমন সেভাবে ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হবে না তেমনি যাত্রীরাও পড়বে চরম দুর্ভোগে।’

লোকাল পরিবহণের মতো জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন দূরপাল্লার বাসের চালকরা। সাগর পাড়ের কুয়াকাটা থেকে দেশের প্রায় সব প্রান্তে চলাচল করে যাত্রীবাহী বাস। বরিশালসহ অন্যান্য জেলাগুলো থেকেও যান দূর-দূরান্তে। জ্বালানি তেলের রেশনিং পুরোপুরি চালু হলে এসব বাসের চলাচল মুশকিল হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন চালক ও মালিকরা। কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বাস ‘আরপি রোকেয়া’ পরিবহণের চালক রুহুল আমিন বলেন, ‘প্রতিবার কেবল যেতেই ২৭০-২৮০ লিটার ডিজেল লাগে আমাদের। অথচ সরকার বলছে ২২০ লিটারের বেশি দেবে না। তাহলে কি আমরা মাঝপথে দাঁড়িয়ে থাকব?’ কুয়াকাটা থেকে চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী সৌদিয়া পরিবহণের কাউন্টার ইনচার্জ ইমাম হোসেন বলেন, ‘প্রতিবার চট্টগ্রাম পর্যন্ত গাড়ি পৌঁছাতে ৩০০ লিটারের বেশি তেল লাগে। ২০০-২২০ লিটার তেলে কি হবে? সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এ বিষয়টির দিকে খেয়াল রাখা উচিত ছিল।’ একইরকম সমস্যার কথা জানিয়েছেন বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, নিলফামারী, পঞ্চগড়ের পথে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া বাসগুলোর চালকরা। মাপা তেল নিয়ে আর যাই হোক সড়কে চলা সম্ভব নয়, বলেন তারা। সাকুরা পরিবহণের মালিক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাউফল থেকে রাজধানী ঢাকায় একবার যেতে আসতে ১৮০ লিটারের মতো তেল লাগে একটি বাসের। বর্তমান রেশনিংয়ে কোনোভাবে চালিয়ে নিতে পারলেও ঈদের সময় যখন একেকটি বাস দিনে ২-৩ বার ট্রিপ দেবে তখন কী হবে? অতিরিক্ত ট্রিপ দিতে না পারলে তো ঈদযাত্রায় সবাইকে বাড়ি পৌঁছানো সম্ভব হবে না।’ বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, ‘এখনো দূরত্ব বুঝে বাসগুলোকে তেল দিচ্ছে ফিলিং স্টেশনগুলো। কিন্তু সরকার যেভাবে বলছে সেই পদ্ধতি মানে রেশনিং পুরোপুরি চালু হলে এসব রুটের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। এ বিষয়টির দিকে সবার খেয়াল দেওয়া দরকার।’

বাসচালকদের মতো বিপাকে পড়ার আশঙ্কায় পড়েছেন ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকার মাইক্রোবাসের মালিকরা। বরিশালের রেন্ট-এ-কার প্রতিষ্ঠান রংধনুর মালিক সোহাগ হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের মাইক্রোবাসগুলোর জন্য দিনে ২০-২৫ লিটার তেলের বরাদ্দ রেখেছে সরকার। আমাদের গাড়িগুলো তো সারা বাংলাদেশ ছুটে বেড়ায়। একটি ১৮০০ সিসির গাড়ি এক লিটার তেলে সর্বোচ্চ ৬-৭ কিলোমিটার চলতে পারে। বরিশাল থেকে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব ১৭০ কিলোমিটার। আসা যাওয়ায় পাড়ি দিতে হবে ৩৪০ কিলোমিটার পথ। সরকারের বেঁধে দেওয়া তেলে যেখানে মাত্র ১৭৫ কিলোমিটার চলতে পারব আমরা সেখানে বাকি পথ পৌঁছাব কেমন করে? এ তো গেল কেবল বরিশাল-ঢাকা পথের হিসাব। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর ধরলে তো যাত্রী নিয়ে রওনাই হতে পারব না।’ রেশনিং প্রশ্নে তেলের পরিমাণ এত কম ধরা নিয়ে ক্ষুব্ধ ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরাও। বরিশাল নগরীর বাসিন্দা জিয়াউল হাসান বলেন, ‘আমার জিপের সিসি ৩০০০। প্রতি লিটার তেলে যায় সর্বোচ্চ তিন কিলোমিটার। আমাকে আপনি বলছেন দিনে ২৫ লিটার তেল নিতে। এই তেল দিয়ে আমি কি করব? ২৫ লিটার তেলে তো মাত্র ৭৫ কিলোমিটার যাবে গাড়ি। আমি যদি ঢাকা থেকে বরিশালে যাই তাহলেও তো আমার ৫৫-৬০ লিটার তেল লাগবে। এগুলো হিসাব না করেই কিভাবে এরকম সিদ্ধান্ত দিল?’

পরিচয় না প্রকাশের শর্তে বরিশালের একাধিক ফিলিংস্টেশনের মালিক যুগান্তরকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ডিজেলের ওপর তেমন কোনো চাপ পড়েনি এখানে। পেট্রোল আর অকটেন নিয়ে চলছে টানাটানি। রোববার স্থানীয় ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া হয়নি আমাদের। বরিশালে যেহেতু গাড়ি কম তাই প্রাইভেটকার কিংবা মাইক্রোবাসগুলোতে পুরোপুরি রেশনিং চালু করিনি আমরা। যার যার চাহিদা মতো দেওয়া হচ্ছে তেল। তবে এটা আর কতদিন পারব জানি না। ডিপো থেকে দেওয়া তেলের পরিমাণ যদি কমিয়ে দেয় তাহলে আমাদেরও তো কম দিতে হবে। ছোট শহরে সবাই সবার পরিচিত। কাউকে তো সরাসরি না বলতেও পারছি না। তবে ছোট গাড়ির জন্য রেশনিংয়ের যে পরিমাণ তা আরেকটু বাড়ানো উচিত। সারাদিনে মাত্র ১০ লিটার তেল, দূরের যাত্রা বাদ দিলাম, শহরে এখন যে পরিমাণ জ্যাম হয়, গাড়িগুলোকে যেভাবে জ্যামে বসে থাকতে হয়, সেটা বিবেচনা করে হলেও পরিমাণ আরেকটু বাড়ানো উচিত। তাছাড়া ছোট ছোট যেসব মালবাহী পিকাপভ্যান রয়েছে, সেগুলোও কিন্তু দূর-দূরান্তে পণ্য পরিবহণ করে। সরকারের উচিত হবে রেশনিং প্রশ্নে তেলের পরিমাণ আরেকটু বাড়ানো।’ বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট এবায়েদুল হক চান বলেন, ‘অর্থনীতির গতি হচ্ছে গাড়ির চাকা। সেই চাকা থামিয়ে কোনো কিছুই করা সম্ভব হবে না। সংকটে রেশনিং আমরাও চাই। তবে তা যৌক্তিক হতে হবে। বিষয়টি নতুনভাবে বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নয়তো গাড়ির চাকা বন্ধ হলে সবকিছুই থেমে যাবে।’

বরিশালে কোরবানির হাট কাঁপাবে ‘লাল মিয়া’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
বরিশালে কোরবানির হাট কাঁপাবে ‘লাল মিয়া’

বরিশালের কোরবানির হাটকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বাবুগঞ্জ উপজেলার মানিকাঠী গ্ৰামের বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘লাল মিয়া’। প্রায় ১ টন ৬ কেজি (১০০৬ কেজি) ওজনের এই শাহিওয়াল জাতের ষাঁড়টি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন শুধু এক নজর লাল মিয়াকে দেখতে।

জানা গেছে, বাবুগঞ্জের মানিকাঠীর যুবক মো. মামুন হোসেনের গড়ে তোলা ‘ভাই ভাই ডেইরি ফার্ম’ এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এখন এই বিশালাকৃতির ষাঁড়টি। প্রায় চার বছর ধরে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ষাঁড়টিকে।

খামার মালিক মামুন  বলেন, কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ ছাড়াই ঘাস, ভুসি ও প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে বড় করা হয়েছে লাল মিয়াকে। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘লাল মিয়া’র দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা।

শুধু ‘লাল মিয়া’ই না, খামারটিতে বর্তমানে গাভীসহ মোট ২৬টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে আরও ৭টি ষাঁড় বিক্রির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেগুলোর দাম ১ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত। পাশাপাশি রয়েছে ৭টি দুধেল গাভী।

খামার মালিক মামুন হোসেনের সফলতার গল্পও অনুপ্রেরণার। ঢাকায় একটি বেসরকারি চাকরি ছেড়ে ২০১৫ সালে মাত্র তিনটি গরু দিয়ে শুরু করেছিলেন তার যাত্রা। ধীরে ধীরে কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতায় ছোট সেই উদ্যোগ আজ একটি সফল খামারে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ‘লাল মিয়া’ শুধু একটি গরু না, এটি মামুন হোসেনের পরিশ্রম, ধৈর্য ও স্বপ্নের প্রতীক। অনেক তরুণ এখন তার খামার দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন স্বনির্ভর হওয়ার পথে হাঁটতে।

মামুন বলেন, চাকরির অপেক্ষায় না থেকে তরুণরা উদ্যোক্তা হলে নিজেদের পাশাপাশি সমাজের জন্যও অবদান রাখতে পারবেন।

মামুনের বড় ভাই লতিফুর রহমান লিটন বলেন, শুরু থেকেই পরিবার মামুনের পাশে ছিল। তার পরিশ্রম ও লক্ষ্যপূরণের মানসিকতাই আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। মামুনের এই উদ্যোগ স্থানীয় তরুণদের মধ্যেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। অনেকে তার খামার পরিদর্শন করে খামার ব্যবসায় আগ্রহী হচ্ছেন।

প্রবীণ সাংবাদিক ও আইনজীবী নেগাবান মন্টুর ইন্তেকালে, বিভিন্ন মহলের শোক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
প্রবীণ সাংবাদিক ও আইনজীবী নেগাবান মন্টুর ইন্তেকালে, বিভিন্ন মহলের শোক

বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মু. ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টু ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি ঢাকা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

পারিবারিক সূত্র বলেছে, ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টু স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অনেক আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শ‌নিবার বাদ এশা আমানতগঞ্জ টিবি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সন্ধ্যার পর শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাঁর মরদেহ বরিশাল প্রেসক্লাবে নেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রবীণ সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টুর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিল‌কিস আক্তার জাহান শিরীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, সদর আস‌নের সংসদ সদস্য (এম‌পি) ম‌জিবর রহমান সারওয়ার, ব‌রিশাল প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনি‌টি এবং নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিল, বরিশালসহ বিভিন্ন ব্যক্তি-বিশেষ।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে চলছে ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে চলছে ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ

লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরাইলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন।  খবর আল জাজিরার। 

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালা লঙ্ঘন করে চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিনত জবেইল জেলার কালাউইয়া ও তিবনিন এলাকায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দুটি স্থাপনায় পৃথক হামলা চালানো হয়েছে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এখন তৃতীয় সপ্তাহ অতিবাহিত হতে চলছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ইসরাইল নতুন সামরিক অভিযান শুরু করার পর দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৪৬ জন নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ওই সময়ের পর থেকে ১৩০টির বেশি ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১০৩ জন লেবানিজ চিকিৎসাকর্মী নিহত এবং ২৩০ জন আহত হয়েছেন।

দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহরের সিভিল ডিফেন্স প্রধান আলি সাফিউদ্দিন আল জাজিরাকে বলেন, ‘প্রতিটি সেকেন্ড, প্রতিটি দিন আমরা হুমকির মধ্যে আছি। আমরা প্রতিনিয়ত ভাবি— বেঁচে থাকব, নাকি মারা যাব। এখানে কাজ করতে এসে আমরা যেন আগেই জীবন ছেড়ে দিয়েছি। এত মানুষ হারিয়েছি যে মনে হয় আমরাও যেন আর বেঁচে নেই।’

টাইর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক উবাইদা হিত্তো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইন স্পষ্টভাবে বলা আছে যে সশস্ত্র সংঘাতে চিকিৎসাকর্মী ও উদ্ধারকর্মীদের সুরক্ষা দিতে হবে। কিন্তু এই যুদ্ধফ্রন্টে প্রশ্ন হলো, আরেকটি হামলা হবে কি না— তা নয়; বরং হামলার পর সাহায্যের আহ্বানে সাড়া দেয়ার মতো কতজন মানুষ অবশিষ্ট থাকবে।

গাজা ও লেবানন— দুই জায়গাতেই কাজ করা যুদ্ধ সার্জন ও মানবিক সহায়তাকর্মী ডা. তাহির মোহাম্মদ বলেন, ইসরাইলের কর্মকাণ্ডে তিনি দুই অঞ্চলের মধ্যে মিল খুঁজে পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘গাজায় আমরা নিয়মিত সহকর্মীদের মরদেহ হাসপাতালে আসতে দেখেছি। আমার সহকর্মী, নার্স, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ইসরাইলি  হামলায় নিহত হতে দেখেছি। লেবাননেও স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার একই নীতি দেখা যাচ্ছে।