খুঁজুন
সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ভাঙছে কুয়াকাটা সৈকত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ভাঙছে কুয়াকাটা সৈকত

কুয়াকাটা সৈকত

ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মৌসুম আসতে না আসতেই কুয়াকাটায় ফের শুরু হয়েছে সৈকতের ভাঙন। উত্তাল ঢেউয়ের কারণে ভাঙছে পূর্ব অংশের বিস্তীর্ণ এলাকা। যুগ যুগ ধরে এই ভাঙন চললেও তা প্রতিরোধে নেওয়া হয়নি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা। বরং, ভাঙন প্রতিরোধের নামে বালুভর্তি টিউব আর বস্তা ফেলে নষ্ট করা হয়েছে সৈকতের সৌন্দর্য। কুয়াকাটার মতো একটি পর্যটন কেন্দ্রের প্রতি কেন এ অবহেলা সেটাই এখন প্রশ্ন সেখানকার বাসিন্দাদের।

জানা গেছে, সৈকত রক্ষার লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমা দেওয়া প্রকল্প পরপর চারবার ফেরত দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। টেকসই সাগর-রক্ষা বাঁধ নির্মাণের বিষয়টিও রয়ে গেছে অবহেলিত। ফলে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মৌসুম এলেই সৈকত গিলে খেয়ে লোকালয়ের দিকে এগোতে শুরু করে সমুদ্র। এভাবে গত ৫০ বছরে কম করে হলেও ৩ কিলোমিটার এগিয়েছে বঙ্গোপসাগর।

সাগর পারের বাসিন্দা সোহরাব হোসেন বলেন, শীত মৌসুমে শান্ত থাকে সমুদ্র। কিন্তু গ্রীষ্ম এলেই রুদ্র রূপ দেখা যায় সাগরের। উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ে সৈকতে। ভাঙনের ভয়াবহতাও বাড়ে তখন। বর্তমানে যেখানে বেড়িবাঁধের জিরো পয়েন্ট, সেখান থেকে কয়েক কিলোমিটার সামনে ছিল সমুদ্র। প্রতিবছর ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মৌসুমে ভাঙতে ভাঙতে এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। সাগরের এই অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে কয়েকশ একরজুড়ে থাকা ফয়েজ মিয়ার নারিকেল বাগান, ডিসি পার্কের বিশাল অংশ, পূর্বে থাকা ঝাউ বাগান, স্থানীয় সরকার বিভাগের গেস্টহাউজ, হোটেল, মোটেল ও দোকান, প্রতিষ্ঠানসহ বহু মানুষের ঘরবাড়ি।

পর্যটন ব্যবসায়ী আজাদ রহমান বলেন, এখানে আমার একটি গেস্টহাউজ আছে। বেড়িবাঁধের সঙ্গেই সাগর পারে যার অবস্থান। প্রথম যখন জমি কিনেছি তখন সাগর ছিল অনেক দূরে। আস্তে আস্তে তা বেড়িবাঁধ ছুঁয়েছে। বহু বছর ধরে শুনছি ভাঙন ঠেকাতে ব্যবস্থা নেবে সরকার। কিন্তু কোনো উদ্যোগ আজ পর্যন্ত চোখে পড়েনি।

ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুম্মান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, কয়েক বছর আগে একবার জিও টিউব আর জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ভাঙন ঠেকানো তো দূরে থাক, টিউব আর ব্যাগগুলোই এখন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতদূর জানি, এখানে ভাঙন ঠেকাতে ৫-৬ বছর আগে একটি প্রকল্প জমা দিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। নানা অজুহাতে এ পর্যন্ত ৪ বার সেই প্রকল্প ফেরত পাঠিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। সর্বশেষ গত বছরের মার্চে নতুন আরেকটি প্রকল্প জমা দেয় পাউবো। ৭শ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ সেই প্রকল্পের আওতায় ভাঙন প্রতিরোধে গ্রোইন বাঁধ নির্মাণসহ সাগর পারে থাকা বেড়িবাঁধের উন্নয়ন ও ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে। তবে কী জুটেছে সেই প্রস্তাবনার ভাগ্যে তা জানে না কেউ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, বিকল্প আরেকটি প্রস্তাব তৈরি করছি আমরা। ওই প্রস্তাবনায় নিজস্ব অর্থায়ন অর্থাৎ সরকারের উদ্যোগে যাতে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয় সেই অনুরোধ জানাব। এটা এখন অত্যন্ত জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রতিবছরই আরও উন্মত্ত হয়ে উঠছে সাগর। এখনই প্রতিরোধ করা না গেলে কুয়াকাটার অস্তিত্বই সংকটের মুখে পড়বে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে যে ভাঙন চলছে তা ঠেকাতে কয়েক হাজার জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করছি আমরা।

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ-সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, যে প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে সেটি কিভাবে অনুমোদন করানো যায় সেই চেষ্টা করছি।

বরিশালে কোরবানির হাট কাঁপাবে ‘লাল মিয়া’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
বরিশালে কোরবানির হাট কাঁপাবে ‘লাল মিয়া’

বরিশালের কোরবানির হাটকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বাবুগঞ্জ উপজেলার মানিকাঠী গ্ৰামের বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘লাল মিয়া’। প্রায় ১ টন ৬ কেজি (১০০৬ কেজি) ওজনের এই শাহিওয়াল জাতের ষাঁড়টি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন শুধু এক নজর লাল মিয়াকে দেখতে।

জানা গেছে, বাবুগঞ্জের মানিকাঠীর যুবক মো. মামুন হোসেনের গড়ে তোলা ‘ভাই ভাই ডেইরি ফার্ম’ এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এখন এই বিশালাকৃতির ষাঁড়টি। প্রায় চার বছর ধরে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ষাঁড়টিকে।

খামার মালিক মামুন  বলেন, কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ ছাড়াই ঘাস, ভুসি ও প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে বড় করা হয়েছে লাল মিয়াকে। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘লাল মিয়া’র দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা।

শুধু ‘লাল মিয়া’ই না, খামারটিতে বর্তমানে গাভীসহ মোট ২৬টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে আরও ৭টি ষাঁড় বিক্রির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেগুলোর দাম ১ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত। পাশাপাশি রয়েছে ৭টি দুধেল গাভী।

খামার মালিক মামুন হোসেনের সফলতার গল্পও অনুপ্রেরণার। ঢাকায় একটি বেসরকারি চাকরি ছেড়ে ২০১৫ সালে মাত্র তিনটি গরু দিয়ে শুরু করেছিলেন তার যাত্রা। ধীরে ধীরে কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতায় ছোট সেই উদ্যোগ আজ একটি সফল খামারে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ‘লাল মিয়া’ শুধু একটি গরু না, এটি মামুন হোসেনের পরিশ্রম, ধৈর্য ও স্বপ্নের প্রতীক। অনেক তরুণ এখন তার খামার দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন স্বনির্ভর হওয়ার পথে হাঁটতে।

মামুন বলেন, চাকরির অপেক্ষায় না থেকে তরুণরা উদ্যোক্তা হলে নিজেদের পাশাপাশি সমাজের জন্যও অবদান রাখতে পারবেন।

মামুনের বড় ভাই লতিফুর রহমান লিটন বলেন, শুরু থেকেই পরিবার মামুনের পাশে ছিল। তার পরিশ্রম ও লক্ষ্যপূরণের মানসিকতাই আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। মামুনের এই উদ্যোগ স্থানীয় তরুণদের মধ্যেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। অনেকে তার খামার পরিদর্শন করে খামার ব্যবসায় আগ্রহী হচ্ছেন।

প্রবীণ সাংবাদিক ও আইনজীবী নেগাবান মন্টুর ইন্তেকালে, বিভিন্ন মহলের শোক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
প্রবীণ সাংবাদিক ও আইনজীবী নেগাবান মন্টুর ইন্তেকালে, বিভিন্ন মহলের শোক

বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মু. ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টু ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি ঢাকা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

পারিবারিক সূত্র বলেছে, ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টু স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অনেক আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শ‌নিবার বাদ এশা আমানতগঞ্জ টিবি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সন্ধ্যার পর শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাঁর মরদেহ বরিশাল প্রেসক্লাবে নেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রবীণ সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টুর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিল‌কিস আক্তার জাহান শিরীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, সদর আস‌নের সংসদ সদস্য (এম‌পি) ম‌জিবর রহমান সারওয়ার, ব‌রিশাল প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনি‌টি এবং নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিল, বরিশালসহ বিভিন্ন ব্যক্তি-বিশেষ।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে চলছে ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে চলছে ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ

লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরাইলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন।  খবর আল জাজিরার। 

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালা লঙ্ঘন করে চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিনত জবেইল জেলার কালাউইয়া ও তিবনিন এলাকায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দুটি স্থাপনায় পৃথক হামলা চালানো হয়েছে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এখন তৃতীয় সপ্তাহ অতিবাহিত হতে চলছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ইসরাইল নতুন সামরিক অভিযান শুরু করার পর দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৪৬ জন নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ওই সময়ের পর থেকে ১৩০টির বেশি ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১০৩ জন লেবানিজ চিকিৎসাকর্মী নিহত এবং ২৩০ জন আহত হয়েছেন।

দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহরের সিভিল ডিফেন্স প্রধান আলি সাফিউদ্দিন আল জাজিরাকে বলেন, ‘প্রতিটি সেকেন্ড, প্রতিটি দিন আমরা হুমকির মধ্যে আছি। আমরা প্রতিনিয়ত ভাবি— বেঁচে থাকব, নাকি মারা যাব। এখানে কাজ করতে এসে আমরা যেন আগেই জীবন ছেড়ে দিয়েছি। এত মানুষ হারিয়েছি যে মনে হয় আমরাও যেন আর বেঁচে নেই।’

টাইর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক উবাইদা হিত্তো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইন স্পষ্টভাবে বলা আছে যে সশস্ত্র সংঘাতে চিকিৎসাকর্মী ও উদ্ধারকর্মীদের সুরক্ষা দিতে হবে। কিন্তু এই যুদ্ধফ্রন্টে প্রশ্ন হলো, আরেকটি হামলা হবে কি না— তা নয়; বরং হামলার পর সাহায্যের আহ্বানে সাড়া দেয়ার মতো কতজন মানুষ অবশিষ্ট থাকবে।

গাজা ও লেবানন— দুই জায়গাতেই কাজ করা যুদ্ধ সার্জন ও মানবিক সহায়তাকর্মী ডা. তাহির মোহাম্মদ বলেন, ইসরাইলের কর্মকাণ্ডে তিনি দুই অঞ্চলের মধ্যে মিল খুঁজে পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘গাজায় আমরা নিয়মিত সহকর্মীদের মরদেহ হাসপাতালে আসতে দেখেছি। আমার সহকর্মী, নার্স, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ইসরাইলি  হামলায় নিহত হতে দেখেছি। লেবাননেও স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার একই নীতি দেখা যাচ্ছে।