খুঁজুন
বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে ফের চালু প্যাডেল স্টিমার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:০২ অপরাহ্ণ
ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে ফের চালু প্যাডেল স্টিমার

ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে চলাচলের জন্য আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) উদ্বোধন হচ্ছে প্যাডেল স্টিমার পি এস মাহসুদ। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) শতবর্ষী ঐতিহ্যের এ স্টিমার আগামী মাস থেকে নদীকেন্দ্রিক পর্যটন সার্ভিসে যুক্ত করতে গত ২৪ অক্টোবর সদরঘাট থেকে ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ রুটে পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করে।

শনিবার সদরঘাটের ভিআইপি টার্মিনাল থেকে ঐতিহ্যবাহী এ জাহাজের যাত্রা শুরু হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শতবর্ষী এ জাহাজের যাত্রা শুরু উদ্বোধন করবেন।

বিআইডব্লিউটিসি থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন সংরক্ষণের পর আধুনিক সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন রূপে নদীপথে ফিরছে এ ঐতিহ্যবাহী জলযান।

বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্টিমারটি এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ট্রায়াল ট্রিপের মাধ্যমে যান্ত্রিক ও নেভিগেশন সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। উদ্বোধনের পর এটি নিয়মিত পর্যটন সার্ভিস হিসেবে চলাচল শুরু করবে।

বিআইডব্লিউটিসি থেকে জানানো হয়েছে, স্টিমারটির সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ায় মূল কাঠামো ও ঐতিহাসিক নকশা অক্ষুণ্ণ রেখে ইঞ্জিন, নিরাপত্তা ও ফায়ার সেফটি সিস্টেম সম্পূর্ণ নবায়ন করা হয়েছে। এতে রয়েছে আধুনিক কেবিন, পর্যটকবান্ধব ডেক এবং ডিজিটাল নেভিগেশন ব্যবস্থা।

স্টিমারটি প্রতি শুক্রবার ঢাকা থেকে বরিশাল এবং শনিবার বরিশাল থেকে ঢাকা রুটে চলবে। যাত্রীরা উপভোগ করতে পারবেন নদীর সৌন্দর্য, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অনন্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে এতে সংযোজন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা সরঞ্জাম, লাইফ বোট, ফায়ার সেফটি ও জিপিএস ব্যবস্থা। ইঞ্জিনে ব্যবহৃত হয়েছে কম ধোঁয়া নির্গমনকারী প্রযুক্তি, যা নদীপথে দূষণ হ্রাসে সহায়ক হবে। স্টিমার পরিচালনায় থাকবেন ২৫ জন প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা ও নাবিক।

বরিশালে কোরবানির হাট কাঁপাবে ‘লাল মিয়া’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
বরিশালে কোরবানির হাট কাঁপাবে ‘লাল মিয়া’

বরিশালের কোরবানির হাটকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বাবুগঞ্জ উপজেলার মানিকাঠী গ্ৰামের বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘লাল মিয়া’। প্রায় ১ টন ৬ কেজি (১০০৬ কেজি) ওজনের এই শাহিওয়াল জাতের ষাঁড়টি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন শুধু এক নজর লাল মিয়াকে দেখতে।

জানা গেছে, বাবুগঞ্জের মানিকাঠীর যুবক মো. মামুন হোসেনের গড়ে তোলা ‘ভাই ভাই ডেইরি ফার্ম’ এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এখন এই বিশালাকৃতির ষাঁড়টি। প্রায় চার বছর ধরে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ষাঁড়টিকে।

খামার মালিক মামুন  বলেন, কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ ছাড়াই ঘাস, ভুসি ও প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে বড় করা হয়েছে লাল মিয়াকে। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘লাল মিয়া’র দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা।

শুধু ‘লাল মিয়া’ই না, খামারটিতে বর্তমানে গাভীসহ মোট ২৬টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে আরও ৭টি ষাঁড় বিক্রির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেগুলোর দাম ১ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত। পাশাপাশি রয়েছে ৭টি দুধেল গাভী।

খামার মালিক মামুন হোসেনের সফলতার গল্পও অনুপ্রেরণার। ঢাকায় একটি বেসরকারি চাকরি ছেড়ে ২০১৫ সালে মাত্র তিনটি গরু দিয়ে শুরু করেছিলেন তার যাত্রা। ধীরে ধীরে কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতায় ছোট সেই উদ্যোগ আজ একটি সফল খামারে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ‘লাল মিয়া’ শুধু একটি গরু না, এটি মামুন হোসেনের পরিশ্রম, ধৈর্য ও স্বপ্নের প্রতীক। অনেক তরুণ এখন তার খামার দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন স্বনির্ভর হওয়ার পথে হাঁটতে।

মামুন বলেন, চাকরির অপেক্ষায় না থেকে তরুণরা উদ্যোক্তা হলে নিজেদের পাশাপাশি সমাজের জন্যও অবদান রাখতে পারবেন।

মামুনের বড় ভাই লতিফুর রহমান লিটন বলেন, শুরু থেকেই পরিবার মামুনের পাশে ছিল। তার পরিশ্রম ও লক্ষ্যপূরণের মানসিকতাই আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। মামুনের এই উদ্যোগ স্থানীয় তরুণদের মধ্যেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। অনেকে তার খামার পরিদর্শন করে খামার ব্যবসায় আগ্রহী হচ্ছেন।

প্রবীণ সাংবাদিক ও আইনজীবী নেগাবান মন্টুর ইন্তেকালে, বিভিন্ন মহলের শোক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
প্রবীণ সাংবাদিক ও আইনজীবী নেগাবান মন্টুর ইন্তেকালে, বিভিন্ন মহলের শোক

বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মু. ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টু ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি ঢাকা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

পারিবারিক সূত্র বলেছে, ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টু স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অনেক আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শ‌নিবার বাদ এশা আমানতগঞ্জ টিবি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সন্ধ্যার পর শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাঁর মরদেহ বরিশাল প্রেসক্লাবে নেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রবীণ সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টুর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিল‌কিস আক্তার জাহান শিরীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, সদর আস‌নের সংসদ সদস্য (এম‌পি) ম‌জিবর রহমান সারওয়ার, ব‌রিশাল প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনি‌টি এবং নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিল, বরিশালসহ বিভিন্ন ব্যক্তি-বিশেষ।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে চলছে ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে চলছে ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ

লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরাইলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন।  খবর আল জাজিরার। 

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালা লঙ্ঘন করে চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিনত জবেইল জেলার কালাউইয়া ও তিবনিন এলাকায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দুটি স্থাপনায় পৃথক হামলা চালানো হয়েছে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এখন তৃতীয় সপ্তাহ অতিবাহিত হতে চলছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ইসরাইল নতুন সামরিক অভিযান শুরু করার পর দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৪৬ জন নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ওই সময়ের পর থেকে ১৩০টির বেশি ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১০৩ জন লেবানিজ চিকিৎসাকর্মী নিহত এবং ২৩০ জন আহত হয়েছেন।

দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহরের সিভিল ডিফেন্স প্রধান আলি সাফিউদ্দিন আল জাজিরাকে বলেন, ‘প্রতিটি সেকেন্ড, প্রতিটি দিন আমরা হুমকির মধ্যে আছি। আমরা প্রতিনিয়ত ভাবি— বেঁচে থাকব, নাকি মারা যাব। এখানে কাজ করতে এসে আমরা যেন আগেই জীবন ছেড়ে দিয়েছি। এত মানুষ হারিয়েছি যে মনে হয় আমরাও যেন আর বেঁচে নেই।’

টাইর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক উবাইদা হিত্তো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইন স্পষ্টভাবে বলা আছে যে সশস্ত্র সংঘাতে চিকিৎসাকর্মী ও উদ্ধারকর্মীদের সুরক্ষা দিতে হবে। কিন্তু এই যুদ্ধফ্রন্টে প্রশ্ন হলো, আরেকটি হামলা হবে কি না— তা নয়; বরং হামলার পর সাহায্যের আহ্বানে সাড়া দেয়ার মতো কতজন মানুষ অবশিষ্ট থাকবে।

গাজা ও লেবানন— দুই জায়গাতেই কাজ করা যুদ্ধ সার্জন ও মানবিক সহায়তাকর্মী ডা. তাহির মোহাম্মদ বলেন, ইসরাইলের কর্মকাণ্ডে তিনি দুই অঞ্চলের মধ্যে মিল খুঁজে পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘গাজায় আমরা নিয়মিত সহকর্মীদের মরদেহ হাসপাতালে আসতে দেখেছি। আমার সহকর্মী, নার্স, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ইসরাইলি  হামলায় নিহত হতে দেখেছি। লেবাননেও স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার একই নীতি দেখা যাচ্ছে।