খুঁজুন
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

খাবার পানির তীব্র সংকট

ঝালকাঠিতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
ঝালকাঠিতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম

ঝালকাঠি জেলার দক্ষিণাংশে বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমসহ প্রায় সারা বছরই খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিম্নমুখী হওয়ায় শহর ও গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ নলকূপ থেকে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গ্রামের মানুষ দৈনন্দিন কাজ ও নিরাপদ পানি সংগ্রহের জন্য অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এই সমস্যা মোকাবিলায় সরকার হাতে নিয়েছিল বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্প, যা বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারযোগ্য করে তুলবে। তবে তা বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পানির সংকটে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বিশাল প্রভাব পড়ছে। এই প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন না হলে বর্ষার পানি সংরক্ষণ ও শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের লক্ষ্য পূরণ হবে না। আর এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

ঝালকাঠি জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের আওতায় সদর উপজেলা বাদে জেলার তিন উপজেলায় ২০২২-২৩,২৩-২৪ অর্থবছরে ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৫ হাজার ৪২৫টি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে ট্যাংক বসিয়ে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, প্রকল্পের বড় অঙ্কের বিল ইতোমধ্যেই উত্তোলন করা হয়েছে। ঠিকাদাররা ২০ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করেছেন, কিন্তু প্রকল্পের সুবিধা গ্রামীণ মানুষদের কাছে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে কাঁঠালিয়া উপজেলার দূর্গম এলাকায় অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রকল্প যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি।

কাঁঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অনেক স্থানে ট্যাংক বসানো হলেও তার উপরে ছাউনি নেই। কিছু ট্যাংকি মাসের পর মাস ফেলে রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যে মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে তা ঠিকাদারের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় বাসিন্দাদের বহন করতে হয়েছে। বহু ইউনিয়নে ট্যাংক, পাইপ, সিমেন্ট, বালি ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী নিজ খরচে আনতে হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। অনেক স্থানে ট্যাংক ফেলা রেখে হয়েছে এবং শেড বা প্লাটফর্ম নির্মাণের দায়িত্বও ঠিকাদার যথাযথভাবে পালন করেননি। তা ছাড়া শ্রমিকদের মজুরি প্রদানের বিষয়েও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে স্থানীয় সুবিধাভোগীরা নিজের খরচে শ্রমিক নিয়োগ ও কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে। এই সমস্ত অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রকল্পের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রকল্পের লক্ষ্য, বর্ষার পানি সংরক্ষণ ও শুষ্ক মৌসুমে নিরাপদ পানি সরবরাহ সঠিকভাবে অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জেলার চারটি উপজেলার মধ্যে উপকূলীয় কাঠালিয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পানির সংকট রয়েছে। তাই এই উপজেলাটির একাধিক ইউনিয়নে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের বাস্তবায়নে অনিয়ম সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

কাঠালিয়ার পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের মো. শাহআলম তালুকদার বলেন, প্রায় এক বছর আগে আমার বাড়িতে ট্যাংকি বসানো হয়। কিন্তু শ্রমিকদের মজুরি পাইনি, মিস্ত্রি নিজেই আমি নিয়েছি। মালামাল আনাও আমার খরচে। ঠিকাদারের কেউ কাজ দেখেনি। অনেক স্থানে শুধু ট্যাংকি এনে ফেলে রাখা হয়েছে। পাইপসহ মালামাল ২–৩ মাস ধরে সরবরাহ হয়নি।

কৃষক অদুদ মিয়া বলেন, আমার বাড়িতে ইট, বালি, সিমেন্ট ও ট্যাংক নিজ খরচে আনতে হয়েছে। প্রায় ১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, তারপরও ট্যাংকের পাইপ ঠিকমতো সংযুক্ত হয়নি। শেষ পর্যন্ত নিজের খরচে পাইপ লাগাতে হয়েছে।

জসিম নামের আরেক কৃষক বলেন, আরও দুই তিন মাস আগে ট্যাংক আনেছি। এখনও এটি পরে আছে। চালু করার জন্য কোনো মালামাল সরবরাহ হয়নি। তাই বর্ষার পানি ধরে রাখতে পারছি না, খালের পানি বিশুদ্ধ করে খেতে হচ্ছে।

তিন উপজেলায় তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করে। এর মধ্যে কাঠালিয়া উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসপি লি. এর মো. জাফরুল হক বলেছেন, আমাদের কাঁঠালিয়াতে ১৮০৯টি কাজের মধ্যে মাত্র ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এখনো অসমাপ্ত কাজের মধ্যে ট্যাংকের প্লাটফর্ম, টিনের শেডসহ যাবতীয় মালামাল নেওয়া এবং কানেকশন দেওয়া বাকি আছে। বর্ষার কারণে এক মাস কাজ করতে পারিনি। তিন বছর ধরে একই কাজ করতে গিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা লস হবে। কাঠালিয়ার দূর্গম এলাকায় মালামাল নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এখনো প্রায় ১০০ ট্যাংকের কাজ বাকি। মালামাল পরিবহনের খরচ আমাদের বহন করতে হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বে) সাইফুর রহমান বলেন, প্রকল্পের কাজ এখনও চলমান আছে। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে টেন্ডার হয়ে ছিল। একটি প্যাকেজে ট্যাংকের উপর পাকা পিলার দিয়ে টিনের শেড করা হয়েছে। মালামাল আনার খরচ ঠিকাদারের। শেড নির্মাণ ও মালামাল বহনের খরচ টেন্ডারে কত ধরা আছে, তা আমি বলতে পারি না। কাঠালিয়ায় দায়িত্বে থাকাকালীন শেড নির্মাণ না হওয়া বা মালামাল বহনের খরচ ঠিকাদার বহন করেনি এমন অভিযোগ পাইনি।

নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার এরশাদুজ্জামান মৃদুল বলেন, ঝালকাঠি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের লোকবল কম, তাই প্রতিটি প্রকল্পে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে মালামাল বহন ও শেড নির্মাণের দায়িত্ব ঠিকাদারের। প্রথমে বাঁশ দিয়ে শেড করানো হয়েছে, পরে পাকা পিলারের নির্দেশ দিয়েছি। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেব। একটি প্যাকেজের কাজ বন্ধ থাকায় ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, অবিলম্বে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে বলেছেন, আপনারা ৯টার সময় অফিসে এসে ৫টা, ৬টা, ৭টা পর্যন্ত অনেকে অফিস করেন। এই অফিসের টাইমটা যদি মেইনটেইন করেন, তাহলে জনসেবা বাড়বে। জনগণের হয়রানি কমবে। আমরা জনসেবা বাড়িয়ে জনগণের হয়রানি কমাতে চাই, এটা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। এটা আমাদের সুশাসনের অন্যতম প্রতিশ্রুতি।

 

সেখানে যদি আপনারা সময়মতো অফিসে না আসেন, আমরা ধরে নেব যে এই অফিসের প্রতি আপনার ভালোবাসা নাই, জনগণের প্রতি ভালোবাসা নাই। সেক্ষেত্রে আপনাকে আমার সালামু–আলাইকুম (আসসালামু আলাইকুম) দিতে হবে।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার সব সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমার জনগণ যদি সেবা না পায়, আমার জনগণকে সেবা দিতে যদি আপনার গাফিলতি এবং অনীহা থাকে, তাহলে আপনি জনসেবক হিসেবে থাকারও দরকার নাই। বাংলাদেশে অনেক বেকারত্ব আছে, আমরা জনসেবক হিসেবে অনেক লোক পেতে পারি। কিন্তু জনগণের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম কার্পণ্য করবেন, এটা আমরা আগামীতে মেনে নেব না।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ টাকা নেওয়ার পরে সে টাকা প্রদর্শন করে। সবচেয়ে ভালো বাড়িটা করবেন, সবচেয়ে ভালো গাড়িটা কিনবেন, সেই যুগ কিন্তু শেষ হয়ে গেছে। আপনি মাসে বেতন পান ১ লাখ টাকা, বছরে ১২ লাখ টাকা। অথচ আপনি ৫ কোটি টাকার বাড়ি করতেছেন, ১ কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে বেড়াচ্ছেন, আর আমরা চুপচাপ বসে থাকব; এটা মনে করার কারণ নাই।

তিনি বলেন, একজন ধর্ষণকারী ও মাদক কারবারি কোন দলের হতে পারে না। এসব ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক নেতা যেন তদবিরের মধ্যে না জড়ায়- সে ব্যপারেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাজেট উচ্চাবিলাসী তো থাকবেই, বিএনপি স্বপ্ন দেখে বলেই স্বপ্নবাজ বাজেট দেওয়ার সাহস রাখে। যে বাজেট দিয়েছে, সে বাজেট স্বপ্নের বাজেট, স্বপ্নের পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছি; সেটা তো উচ্চাবিলাসী হবেই।

তিনি বলেন, বাজেটে গরীবের জন্য বাণিজ্যিক ও কর্মসংস্থানের জন্য কর কমানো হয়েছে। এবারের যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, সে বাজেটে সামাজিক উন্নয়নের প্রতি অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ আমরা তারই অংশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছি। ‎ভোটারের ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি আমরা রক্ষা করেছি। বুধবার (১৭ জুন) সারা বাংলাদেশে ১৯টি জেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

‎এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, পুলিশ-র্যাব-বিজিবি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

বরিশালে মাদক-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে পুলিশ হার্ডলাইনে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
বরিশালে মাদক-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে পুলিশ হার্ডলাইনে

বরিশাল মেট্রোপলিটনের আওতাধীন এলাকাসমূহের অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনার আলোকে খুব শিগগিরই অপরাধ দমনে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামতে যাচ্ছে বিএমপি পুলিশ। বিশেষ করে চার থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বিমানবন্দর এবং বন্দর পুলিশের কর্মকর্তাদের স্ব-স্ব এলাকার মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া, অনলাইন জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই রোধকল্পে অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরতে চাইছে স্থানীয় পুলিশের শীর্ষমহল। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ রোববার (০৭ জুন) বিকেলে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠককালে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। মে মাসের শুরুতে বিএমপিতে যোগদানের পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সম্ভবত এবারই প্রথম কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন ডিআইজি পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা।

 

বিএমপি সূত্র জানিয়েছে, আশিক সাঈদ কমিশনার হিসেবে মে মাসের সাত তারিখে যোগদান করলেও পরবর্তীতে তিনি হজ পালনের উদ্দেশে সৌদিতে যান। সেখান থেকে ফিরে এসেই তিনি বরিশালের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে ৭ জুন অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসেন। সকলের সাথে আলাপ-আলোচনা করে তিনি বরিশাল শহরের অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে মাঠপুলিশকে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।

বিশেষ করে কেউ যদি মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া, অনলাইন জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, চুরি এবং ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় জড়িত থাকে, সেক্ষেত্রে তাদের লাগাম টেনে ধরতে বলেছেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) পলাশ কান্তি নাথ প্রমুখ।

ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা নামপ্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে জানান, নতুন পুলিশ কমিশনার বেশ কয়েকটি বিষয়ে শক্ত পদক্ষেপ রাখতে বলেছেন। তার মধ্যে বেশিমাত্রায় গুরুত্ব পেয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কী ভাবে দৌড়ের ওপর রাখা যায়। অবশ্য সেই পন্থাও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা বাতলে দিয়েছেন। বিশেষ করে কমিশনার অপরাধ এবং অপরাধীদের ক্ষেত্রে জিরো ট্রলারেন্স নীতি অনুসরণের পরামর্শও দেন।

বিএমপি সূত্র জানিয়েছে, কীর্তনখোলা নদীতীরের এই জনপদে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির পাশাপাশি কিশোর গ্যাংগ্রুপ যে ক্রমাগত সন্ত্রাস চালিয়ে তা নয়া পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ ইতিমধ্যে আঁচ করতে পেরেছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় কলোনীসমূহের এই অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধ করতে তিনি বেশ আন্তরিকও বটে। এসব অপরাধে জড়িতরা যে দল বা মতের হোক না কেনো তাদের ছাড়া না দেওয়ারও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

অবশ্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে নাগরিকসমাজ। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদক-সন্ত্রাসসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে পুলিশের তরফ থেকে কার্যকরী ব্যবস্থাগ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তাদের পদক্ষেপ লক্ষ্যণীয় নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আসার পরে অপরাধমূলক কর্মকান্ড আরও বৃদ্ধি পায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিস্ক্রিয়তায় শহরের প্রতিটি গলিগলিতে মাদক ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি মাদক বেচাবিক্রি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে মারমারি থেকে খুনের ঘটনাও ঘটে।

সর্বশেষ ১৫ মে মাদকসংক্রান্ত বিরোধে জড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কাউনিয়া থানাধীন পলাশপুর এলাকার জসিম সিকদার বাবু নামের ত্রিশোর্ধ্ব যুবক। গভীর রাতে বাসার অদূরে ১০/১৫ যুবক তাকে ধাওয়া করে এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। আলোচিত এই হত্যাকান্ডে মূলহোতা মধুসহ কজনকে পুলিশ স্বল্পসময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে, বর্তমানে তারা কারাভ্যন্তরে আছেন।

মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়ে জানতে সোমবার অপরাহ্ণে পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদকে ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সরকারি নম্বরটি উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান রিসিভ করেন। এবং এই পুলিশ কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, মাঠপুলিশকে রোববার বৈঠকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চারটি থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বন্দর এবং বিমানবন্দরের ওসিদের আওতাধীন এলাকাসমূহের অপরাধ দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নানের সাথে নাতিদীর্ঘ আলোচনায়ও কিছুটা আভাস মিলেছে যে মাঠপুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে রাখতে কঠোর পন্থা অবলম্বন করবে। অবশ্য এই ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশের তরফ থেকে শহরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করা হয়। শেষপর্যন্ত পুলিশপ্রশাসন অপরাধীদের দমনে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ফের যুদ্ধ শুরু করলে নেতানিয়াহুকে একাই লড়তে হবে: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
ফের যুদ্ধ শুরু করলে নেতানিয়াহুকে একাই লড়তে হবে:  ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরু করলে ইসরাইলকে একাই এর পরিণতি মোকাবিলা করতে হতে পারে। স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) এই সতর্কবার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।  খবর আল জাজিরার। 

 

সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইসরাইল ও ইরান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণার পর এ সতর্কবার্তা দিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে উভয় পক্ষকে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শান্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত আলোচনা এগিয়ে যাবে, যদি না ‘অজ্ঞতা বা বোকামি’ তা বাধাগ্রস্ত করে।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে ফোন করে হামলা বন্ধ করার অনুরোধও জানান।

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমি বলেছি, ‘বিবি, সাবধান থাকো। না হলে খুব শিগগিরই তোমাকে একাই লড়তে হবে।’

গত রোববার (৭ জুন) হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় ইসরাইল। একই সময়ে ইরানও উত্তর ইসরাইলে  হামলা চালায়, যার প্রতিক্রিয়ায় তেল আবিব তেহরানের একাধিক স্থানে পাল্টা আঘাত হানে।

অবশ্য এরইমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সহিংসতা ও পালটাপালটি হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও ইসরাইল। সোমবার (৮ জুন) এ ঘোষণা দেয় দু’দেশ।