খুঁজুন
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে : জিয়া উদ্দিন হায়দার

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে : জিয়া উদ্দিন হায়দার

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যকে সঠিকভাবে পরিচালনা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য অর্থনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, আমি একজন মেডিকেল ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষ, যেমন হৃদযন্ত্র সুস্থ না থাকলে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে, তেমনি অর্থনীতি ভেঙে পড়লে গোটা রাষ্ট্র অসুস্থ হয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা জাতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তাই পেট্রোল পাম্প, ট্যাংকলরি কিংবা যে কোনো খাতের উদ্যোক্তাদের রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৩টায় বরিশাল শহরের জর্ডন রোডের রোজ বার্ড ভবনে বরিশাল বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক সমিতির উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় সমিতির সভাপতি মো. এনায়েত হোসেন খান সেন্টুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার স্বপন।

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, অতীতে স্বৈরাচারী শাসন অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামো ধ্বংস করেছে, জনগণ ও সরকারের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করেছে। আগামী সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সেই আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। বিএনপি অতীতেও ব্যবসাবান্ধব ছিল এবং গার্মেন্টস খাতসহ বিভিন্ন সেক্টরে উন্নয়ন ঘটিয়েছে। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের নীতি ও উদ্যোগের কারণেই অর্থনীতি টেকসই পথে এগিয়ে গিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‎‎তিনি বলেন, আমরা তারেক রহমানের ৩১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে ৩৬০ ডিগ্রি পরিকল্পনায় কাজ করছি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। সরকার তখন ব্যবসা সহজ করার জন্য ফ্যাসিলিটেটর ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে ভূমিকা রাখবে, কিন্তু অতিরিক্ত জটিলতা সৃষ্টি করবে না। এখন একটি ব্যবসা শুরু করতে ১৭ ধরনের কাগজপত্র লাগে, যা অযৌক্তিক। এসব জটিলতা দূর করতে হবে।

‎তিনি জানান, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সব খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে। অর্থনীতিকে পুনর্বাসন, রেগুলেটেড ও ডিরেগুলেটেড নীতির মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে জনগণকে আর প্রজা মনে করে শাসন করা হবে না, বরং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থনীতি ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা হবে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন— বাংলাদেশ ট্যাংকলরি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কামরুল, বরিশাল বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি সমিতির সভাপতি মো. এনায়েত হোসেন খান সেন্টু, সাধারণ সম্পাদক মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শওকত আকবর, পটুয়াখালী-বরগুনা শাখার সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি প্রমুখ।

এতে বক্তারা বলেন, ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পাম্প ব্যবসাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা ভাগ বসাতে চায়। ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তুচ্ছ অভিযোগে হয়রানি করেন, কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও অযথা চাপ সৃষ্টি করেন। পুলিশ অযথা মামলা দিয়ে হয়রানি করে, লাইসেন্স নবায়নেও পাঁচ-ছয় বছর সময় লাগে। তারা আশা প্রকাশ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ীবান্ধব সরকার গঠন করে এসব সমস্যার সমাধান করবে।

তারা আরও বলেন, সড়ক-মহাসড়কের বেহাল দশা, অযৌক্তিক জেল-জরিমানা, সড়ক ও জনপথে চাঁদাবাজি—সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ন্যায্য অধিকার সংরক্ষণ ও মজুরি কমিশন বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, ৮ ঘণ্টা পাম্প বন্ধ রাখলে দেশ অচল হয়ে যাবে, জেট ফুয়েল সরবরাহও বন্ধ হয়ে পড়বে। বর্তমানে দেশে মাত্র ৩০ শতাংশ জ্বালানি উৎপাদন হয়, বাকি ৭০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রিফাইনারি স্থাপন করেছে, বাংলাদেশে এখনো সে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এছাড়া বক্তারা ট্যাংকলরির আয়ু ৩০ বছর বাড়ানোর দাবি জানান। তাদের মতে, ট্যাংকলরি নিয়মিত বাসের মতো চলে না; সপ্তাহে দুই-তিন দিন ব্যবহার হয়, বাকি দিনগুলো অব্যবহৃত থাকে। তাই ব্যবসায়ীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

 

অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে বলেছেন, আপনারা ৯টার সময় অফিসে এসে ৫টা, ৬টা, ৭টা পর্যন্ত অনেকে অফিস করেন। এই অফিসের টাইমটা যদি মেইনটেইন করেন, তাহলে জনসেবা বাড়বে। জনগণের হয়রানি কমবে। আমরা জনসেবা বাড়িয়ে জনগণের হয়রানি কমাতে চাই, এটা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। এটা আমাদের সুশাসনের অন্যতম প্রতিশ্রুতি।

 

সেখানে যদি আপনারা সময়মতো অফিসে না আসেন, আমরা ধরে নেব যে এই অফিসের প্রতি আপনার ভালোবাসা নাই, জনগণের প্রতি ভালোবাসা নাই। সেক্ষেত্রে আপনাকে আমার সালামু–আলাইকুম (আসসালামু আলাইকুম) দিতে হবে।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার সব সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমার জনগণ যদি সেবা না পায়, আমার জনগণকে সেবা দিতে যদি আপনার গাফিলতি এবং অনীহা থাকে, তাহলে আপনি জনসেবক হিসেবে থাকারও দরকার নাই। বাংলাদেশে অনেক বেকারত্ব আছে, আমরা জনসেবক হিসেবে অনেক লোক পেতে পারি। কিন্তু জনগণের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম কার্পণ্য করবেন, এটা আমরা আগামীতে মেনে নেব না।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ টাকা নেওয়ার পরে সে টাকা প্রদর্শন করে। সবচেয়ে ভালো বাড়িটা করবেন, সবচেয়ে ভালো গাড়িটা কিনবেন, সেই যুগ কিন্তু শেষ হয়ে গেছে। আপনি মাসে বেতন পান ১ লাখ টাকা, বছরে ১২ লাখ টাকা। অথচ আপনি ৫ কোটি টাকার বাড়ি করতেছেন, ১ কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে বেড়াচ্ছেন, আর আমরা চুপচাপ বসে থাকব; এটা মনে করার কারণ নাই।

তিনি বলেন, একজন ধর্ষণকারী ও মাদক কারবারি কোন দলের হতে পারে না। এসব ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক নেতা যেন তদবিরের মধ্যে না জড়ায়- সে ব্যপারেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাজেট উচ্চাবিলাসী তো থাকবেই, বিএনপি স্বপ্ন দেখে বলেই স্বপ্নবাজ বাজেট দেওয়ার সাহস রাখে। যে বাজেট দিয়েছে, সে বাজেট স্বপ্নের বাজেট, স্বপ্নের পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছি; সেটা তো উচ্চাবিলাসী হবেই।

তিনি বলেন, বাজেটে গরীবের জন্য বাণিজ্যিক ও কর্মসংস্থানের জন্য কর কমানো হয়েছে। এবারের যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, সে বাজেটে সামাজিক উন্নয়নের প্রতি অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ আমরা তারই অংশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছি। ‎ভোটারের ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি আমরা রক্ষা করেছি। বুধবার (১৭ জুন) সারা বাংলাদেশে ১৯টি জেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

‎এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, পুলিশ-র্যাব-বিজিবি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

বরিশালে মাদক-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে পুলিশ হার্ডলাইনে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
বরিশালে মাদক-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে পুলিশ হার্ডলাইনে

বরিশাল মেট্রোপলিটনের আওতাধীন এলাকাসমূহের অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনার আলোকে খুব শিগগিরই অপরাধ দমনে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামতে যাচ্ছে বিএমপি পুলিশ। বিশেষ করে চার থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বিমানবন্দর এবং বন্দর পুলিশের কর্মকর্তাদের স্ব-স্ব এলাকার মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া, অনলাইন জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই রোধকল্পে অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরতে চাইছে স্থানীয় পুলিশের শীর্ষমহল। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ রোববার (০৭ জুন) বিকেলে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠককালে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। মে মাসের শুরুতে বিএমপিতে যোগদানের পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সম্ভবত এবারই প্রথম কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন ডিআইজি পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা।

 

বিএমপি সূত্র জানিয়েছে, আশিক সাঈদ কমিশনার হিসেবে মে মাসের সাত তারিখে যোগদান করলেও পরবর্তীতে তিনি হজ পালনের উদ্দেশে সৌদিতে যান। সেখান থেকে ফিরে এসেই তিনি বরিশালের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে ৭ জুন অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসেন। সকলের সাথে আলাপ-আলোচনা করে তিনি বরিশাল শহরের অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে মাঠপুলিশকে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।

বিশেষ করে কেউ যদি মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া, অনলাইন জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, চুরি এবং ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় জড়িত থাকে, সেক্ষেত্রে তাদের লাগাম টেনে ধরতে বলেছেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) পলাশ কান্তি নাথ প্রমুখ।

ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা নামপ্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে জানান, নতুন পুলিশ কমিশনার বেশ কয়েকটি বিষয়ে শক্ত পদক্ষেপ রাখতে বলেছেন। তার মধ্যে বেশিমাত্রায় গুরুত্ব পেয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কী ভাবে দৌড়ের ওপর রাখা যায়। অবশ্য সেই পন্থাও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা বাতলে দিয়েছেন। বিশেষ করে কমিশনার অপরাধ এবং অপরাধীদের ক্ষেত্রে জিরো ট্রলারেন্স নীতি অনুসরণের পরামর্শও দেন।

বিএমপি সূত্র জানিয়েছে, কীর্তনখোলা নদীতীরের এই জনপদে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির পাশাপাশি কিশোর গ্যাংগ্রুপ যে ক্রমাগত সন্ত্রাস চালিয়ে তা নয়া পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ ইতিমধ্যে আঁচ করতে পেরেছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় কলোনীসমূহের এই অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধ করতে তিনি বেশ আন্তরিকও বটে। এসব অপরাধে জড়িতরা যে দল বা মতের হোক না কেনো তাদের ছাড়া না দেওয়ারও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

অবশ্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে নাগরিকসমাজ। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদক-সন্ত্রাসসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে পুলিশের তরফ থেকে কার্যকরী ব্যবস্থাগ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তাদের পদক্ষেপ লক্ষ্যণীয় নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আসার পরে অপরাধমূলক কর্মকান্ড আরও বৃদ্ধি পায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিস্ক্রিয়তায় শহরের প্রতিটি গলিগলিতে মাদক ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি মাদক বেচাবিক্রি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে মারমারি থেকে খুনের ঘটনাও ঘটে।

সর্বশেষ ১৫ মে মাদকসংক্রান্ত বিরোধে জড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কাউনিয়া থানাধীন পলাশপুর এলাকার জসিম সিকদার বাবু নামের ত্রিশোর্ধ্ব যুবক। গভীর রাতে বাসার অদূরে ১০/১৫ যুবক তাকে ধাওয়া করে এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। আলোচিত এই হত্যাকান্ডে মূলহোতা মধুসহ কজনকে পুলিশ স্বল্পসময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে, বর্তমানে তারা কারাভ্যন্তরে আছেন।

মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়ে জানতে সোমবার অপরাহ্ণে পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদকে ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সরকারি নম্বরটি উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান রিসিভ করেন। এবং এই পুলিশ কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, মাঠপুলিশকে রোববার বৈঠকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চারটি থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বন্দর এবং বিমানবন্দরের ওসিদের আওতাধীন এলাকাসমূহের অপরাধ দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নানের সাথে নাতিদীর্ঘ আলোচনায়ও কিছুটা আভাস মিলেছে যে মাঠপুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে রাখতে কঠোর পন্থা অবলম্বন করবে। অবশ্য এই ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশের তরফ থেকে শহরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করা হয়। শেষপর্যন্ত পুলিশপ্রশাসন অপরাধীদের দমনে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ফের যুদ্ধ শুরু করলে নেতানিয়াহুকে একাই লড়তে হবে: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
ফের যুদ্ধ শুরু করলে নেতানিয়াহুকে একাই লড়তে হবে:  ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরু করলে ইসরাইলকে একাই এর পরিণতি মোকাবিলা করতে হতে পারে। স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) এই সতর্কবার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।  খবর আল জাজিরার। 

 

সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইসরাইল ও ইরান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণার পর এ সতর্কবার্তা দিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে উভয় পক্ষকে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শান্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত আলোচনা এগিয়ে যাবে, যদি না ‘অজ্ঞতা বা বোকামি’ তা বাধাগ্রস্ত করে।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে ফোন করে হামলা বন্ধ করার অনুরোধও জানান।

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমি বলেছি, ‘বিবি, সাবধান থাকো। না হলে খুব শিগগিরই তোমাকে একাই লড়তে হবে।’

গত রোববার (৭ জুন) হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় ইসরাইল। একই সময়ে ইরানও উত্তর ইসরাইলে  হামলা চালায়, যার প্রতিক্রিয়ায় তেল আবিব তেহরানের একাধিক স্থানে পাল্টা আঘাত হানে।

অবশ্য এরইমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সহিংসতা ও পালটাপালটি হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও ইসরাইল। সোমবার (৮ জুন) এ ঘোষণা দেয় দু’দেশ।