খুঁজুন
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

জোয়ার-ভাটার পানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বলছে অর্ধশতাধিক লাইট

বরগুনা প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
জোয়ার-ভাটার পানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বলছে অর্ধশতাধিক লাইট

বরগুনায় নদীর জোয়ার-ভাটার সময় স্লুইস গেট দিয়ে পানি প্রবেশের স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তাক লাগিয়েছেন মো. মনিরুল ইসলাম নামে এক উদ্ভাবক। তার এমন উদ্ভাবনকৃত বিদ্যুতে একসঙ্গে জ্বলছে প্রায় অর্ধশতাধিক বৈদ্যুতিক লাইট। তিন মাসের প্রচেষ্টায় নদীর পানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মনিরুলের এ সফল উদ্ভাবনে এলাকাবাসী গর্বিত ও আনন্দিত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মনিরুল ইসলাম বরগুনা সদর উপজেলার ৬নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের পুরাকাটা নামক এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার স্থানীয় বাজারের একজন জ্বালানি তেলের ব্যবসায়ী। ২০০৬ সাল থেকে তার ব্যবসার পাশাপাশি প্রাকৃতিক শক্তিকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবনমূলক গবেষণা শুরু করেন। সর্বশেষ তিন মাসের চেষ্টায় সম্পূর্ণ নিজস্ব চিন্তায় মাত্র ৭০ হাজার টাকা ব্যয় করে লোহা দিয়ে কিছু যন্ত্রাংশ তৈরি করেন তিনি। পরে পায়রা নদীতে থাকা একটি স্লুইস গেটে সেগুলো স্থাপন করেন মনিরুল। আর সেখান থেকেই এখন জোয়ারের পানি প্রবাহের স্রোতের মাধ্যমে সফলভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছেন তিনি।

সরেজমিনে সদর উপজেলার পুরাকাটা এলাকার পায়রা নদীর সঙ্গে থাকা স্লুইস গেটটি ঘুরে দেখা যায়, জোয়ারের সময় পায়রা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্লুইসের মাধ্যমে ছোট নদী ও খালে পানি প্রবেশ করছে। আর এ পানি প্রবাহের সময় সৃষ্ট স্রোতকে কাজে লাগাতে স্লুইস গেটের মুখে লোহার তৈরি নিজের উদ্ভাবিত বিশেষ ধরনের একটি ফ্যান বসিয়েছেন মনিরুল। পানির স্রোতের ধাক্কায় ওই ফ্যান ঘুরলেই তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ। এছাড়াও স্বল্প পরিসরে উদ্ভাবিত বিদ্যুতের মাধ্যমেই স্লুইস গেটটির পাশে একসঙ্গে তিনি জ্বালিয়েছেন অর্ধশতাধিক বৈদ্যুতিক লাইট। যা দেখতে ভিড় করছেন পথচারী ও স্থানীয়রা।

এমন উদ্ভাবন দেখে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, মনিরুল তার উদ্ভাবন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলে দেশের জন্য সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবেন। বিশেষ করে কম খরচে উপকূলের নদী এলকার বিভিন্ন মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে তার এ উদ্ভাবন কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করেন তারা।

পুরকাটা এলাকার বাসিন্দা মনিরুলের প্রতিবেশী মো. কামাল হোসেন বলেন, মনিরুল আমার বাল্যবন্ধু হওয়ায় তার এ বিদ্যুৎ উদ্ভাবনের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমাদের সঙ্গে আলাপ করতো। তবে এ কাজ সম্ভব না মনে করে তার কাথার কোনো গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু মনিরুল থেমে থাকেনি। গবেষণা করতে গিয়ে লাখ লাখ টাকাও খরচ করেছে সে। তবে তার একান্ত প্রচেষ্টার ফলে জ্বালানিবিহীন বিদ্যুৎ উৎপাদনে সে সফল হয়েছে। তার এ উদ্ভাবন যদি সরাকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে পারে, তাহলে শুধু বরগুনা নয়, ধীরে ধীরে পুরো দেশ জ্বালানিবিহীন এ বিদ্যুতে আলোকিত হবে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র শীল বলেন, জোয়ার ভাটার পানির স্রোত দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা শুনে আমাদের কাছে অকল্পনীয় এবং অবাস্তব মনে হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ঘাটাঘাটি করে মনিরুল তা বাস্তবে পরিণত করেছেন। মনিরুলের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না। যদি তাকে সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা করা হয়, তাহলে তার এ উদ্ভাবনের মাধ্যমে উপকূলের যারা এখনো বিদ্যুৎ পায়নি তাদের প্রত্যেকের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

স্বামীর সফলতার বিষয়ে মনিরুলের স্ত্রী মোসা. তাসলিমা বেগম বলেন, জোয়ার ভাটার পানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব তা কখনোই ভাবতে পারিনি। তবে আমার স্বামীর দীর্ঘদিনের চেষ্টায় তিনি তা সফল করেছেন। তার এ কাজে সরকারি সহযোগিতা পেলে তিনি ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করতে পারবেন।

প্রতিদিন নদীতে দুইবার জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পায়। আর এ ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব জানিয়ে উদ্ভাবক মনিরুল ইসলাম বলেন, ২০০৬ সাল থেকে দেশ প্রেম থেকেই বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবনী চিন্তা শুরু করেছি। পরে জ্বালানি তেল কেনার খরচ বাঁচাতে নদীর জোয়ার ভাটাকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষে কাজ করতে শুরু করি। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে মাধ্যম তৈরি করেছি তাতে নদীর পানির উচ্চতা ৫ ফুট ব্যবধান হলেই পানির স্রোতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। তবে আরেকটু সংযোজন করলে মাত্র ৩ ফুট উচ্চতার ব্যবধানেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এ উদ্ভাবনটি যদি মানুষের মাঝে প্রকাশ করা যায় তাহলে এক সময় জলবিদ্যুৎ দিয়ে পুরো বাংলাদেশ আলোকিত করা সম্ভব হবে। এছাড়াও বিদ্যুতের জন্য জ্বালানি তেল এবং কয়লা ব্যবহারে যে খরচ হতো তাও হবে না। একবার শুধু জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ স্থাপন করলেই ব্যয়হীনভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে।

জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল হতে কতদিন সময় লেগেছে এবং কী ধরনের ব্যয় হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা চালালেও তিন মাসের চেষ্টায় নাদীর জোয়ার ভাটাকে ব্যবহার করে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল হয়েছি। ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ করে লোহার অ্যাঙ্গেল ও লোহার প্লেট দিয়ে একটি ফ্যান এবং স্ট্রাকচার তৈরি করেছি। পানির চাপে লোহার ওই ফ্যান ঘুরলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মনিরুল বলেন, যেহেতু এটি একটি জলবিদ্যুৎ, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার নদীতে সরকারের সহযোগিতা পেলে এ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। আমার প্রকল্পটি যদি যুক্তিসঙ্গত এবং বিজ্ঞানসম্মত হয় তাহলে চাইলেই জ্বালানি ছাড়া ব্যয়হীন জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশকে আলোকিত করা যাবে।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড বরিশাল জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. গোলাম রব্বানী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তেল গ্যাসসহ যা যা প্রয়োজন হয় এর মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস ছাড়া বাকি সব কিছুই আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সবই ব্যয়বহুল। এছাড়া গ্যাসের মজুতও ধীরে ধীরে কমবে। তবে যদি প্রাকৃতিকভাবে সৌর, বায়ু এবং পানির শক্তিকে ব্যবহার উপযোগী করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় তাহলে জ্বালানি খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশই বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা কমিয়ে এনেছে। আমাদের দেশেও প্রাকৃতিক যেসব উৎস আছে সেগুলোকে কাজে লাগাতে সরকারের দিক থেকেও পরিকল্পনা রয়েছে, পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও সোলার, বায়ু এবং পানি যেখানে যা সম্ভব সেগুলো ব্যবহার করা প্রয়োজন।

 

অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে বলেছেন, আপনারা ৯টার সময় অফিসে এসে ৫টা, ৬টা, ৭টা পর্যন্ত অনেকে অফিস করেন। এই অফিসের টাইমটা যদি মেইনটেইন করেন, তাহলে জনসেবা বাড়বে। জনগণের হয়রানি কমবে। আমরা জনসেবা বাড়িয়ে জনগণের হয়রানি কমাতে চাই, এটা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। এটা আমাদের সুশাসনের অন্যতম প্রতিশ্রুতি।

 

সেখানে যদি আপনারা সময়মতো অফিসে না আসেন, আমরা ধরে নেব যে এই অফিসের প্রতি আপনার ভালোবাসা নাই, জনগণের প্রতি ভালোবাসা নাই। সেক্ষেত্রে আপনাকে আমার সালামু–আলাইকুম (আসসালামু আলাইকুম) দিতে হবে।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার সব সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমার জনগণ যদি সেবা না পায়, আমার জনগণকে সেবা দিতে যদি আপনার গাফিলতি এবং অনীহা থাকে, তাহলে আপনি জনসেবক হিসেবে থাকারও দরকার নাই। বাংলাদেশে অনেক বেকারত্ব আছে, আমরা জনসেবক হিসেবে অনেক লোক পেতে পারি। কিন্তু জনগণের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম কার্পণ্য করবেন, এটা আমরা আগামীতে মেনে নেব না।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ টাকা নেওয়ার পরে সে টাকা প্রদর্শন করে। সবচেয়ে ভালো বাড়িটা করবেন, সবচেয়ে ভালো গাড়িটা কিনবেন, সেই যুগ কিন্তু শেষ হয়ে গেছে। আপনি মাসে বেতন পান ১ লাখ টাকা, বছরে ১২ লাখ টাকা। অথচ আপনি ৫ কোটি টাকার বাড়ি করতেছেন, ১ কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে বেড়াচ্ছেন, আর আমরা চুপচাপ বসে থাকব; এটা মনে করার কারণ নাই।

তিনি বলেন, একজন ধর্ষণকারী ও মাদক কারবারি কোন দলের হতে পারে না। এসব ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক নেতা যেন তদবিরের মধ্যে না জড়ায়- সে ব্যপারেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাজেট উচ্চাবিলাসী তো থাকবেই, বিএনপি স্বপ্ন দেখে বলেই স্বপ্নবাজ বাজেট দেওয়ার সাহস রাখে। যে বাজেট দিয়েছে, সে বাজেট স্বপ্নের বাজেট, স্বপ্নের পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছি; সেটা তো উচ্চাবিলাসী হবেই।

তিনি বলেন, বাজেটে গরীবের জন্য বাণিজ্যিক ও কর্মসংস্থানের জন্য কর কমানো হয়েছে। এবারের যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, সে বাজেটে সামাজিক উন্নয়নের প্রতি অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ আমরা তারই অংশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছি। ‎ভোটারের ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি আমরা রক্ষা করেছি। বুধবার (১৭ জুন) সারা বাংলাদেশে ১৯টি জেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

‎এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, পুলিশ-র্যাব-বিজিবি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

বরিশালে মাদক-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে পুলিশ হার্ডলাইনে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
বরিশালে মাদক-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে পুলিশ হার্ডলাইনে

বরিশাল মেট্রোপলিটনের আওতাধীন এলাকাসমূহের অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনার আলোকে খুব শিগগিরই অপরাধ দমনে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামতে যাচ্ছে বিএমপি পুলিশ। বিশেষ করে চার থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বিমানবন্দর এবং বন্দর পুলিশের কর্মকর্তাদের স্ব-স্ব এলাকার মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া, অনলাইন জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই রোধকল্পে অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরতে চাইছে স্থানীয় পুলিশের শীর্ষমহল। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ রোববার (০৭ জুন) বিকেলে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠককালে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। মে মাসের শুরুতে বিএমপিতে যোগদানের পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সম্ভবত এবারই প্রথম কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন ডিআইজি পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা।

 

বিএমপি সূত্র জানিয়েছে, আশিক সাঈদ কমিশনার হিসেবে মে মাসের সাত তারিখে যোগদান করলেও পরবর্তীতে তিনি হজ পালনের উদ্দেশে সৌদিতে যান। সেখান থেকে ফিরে এসেই তিনি বরিশালের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে ৭ জুন অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসেন। সকলের সাথে আলাপ-আলোচনা করে তিনি বরিশাল শহরের অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে মাঠপুলিশকে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।

বিশেষ করে কেউ যদি মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া, অনলাইন জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, চুরি এবং ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় জড়িত থাকে, সেক্ষেত্রে তাদের লাগাম টেনে ধরতে বলেছেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) পলাশ কান্তি নাথ প্রমুখ।

ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা নামপ্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে জানান, নতুন পুলিশ কমিশনার বেশ কয়েকটি বিষয়ে শক্ত পদক্ষেপ রাখতে বলেছেন। তার মধ্যে বেশিমাত্রায় গুরুত্ব পেয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কী ভাবে দৌড়ের ওপর রাখা যায়। অবশ্য সেই পন্থাও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা বাতলে দিয়েছেন। বিশেষ করে কমিশনার অপরাধ এবং অপরাধীদের ক্ষেত্রে জিরো ট্রলারেন্স নীতি অনুসরণের পরামর্শও দেন।

বিএমপি সূত্র জানিয়েছে, কীর্তনখোলা নদীতীরের এই জনপদে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির পাশাপাশি কিশোর গ্যাংগ্রুপ যে ক্রমাগত সন্ত্রাস চালিয়ে তা নয়া পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ ইতিমধ্যে আঁচ করতে পেরেছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় কলোনীসমূহের এই অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধ করতে তিনি বেশ আন্তরিকও বটে। এসব অপরাধে জড়িতরা যে দল বা মতের হোক না কেনো তাদের ছাড়া না দেওয়ারও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

অবশ্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে নাগরিকসমাজ। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদক-সন্ত্রাসসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে পুলিশের তরফ থেকে কার্যকরী ব্যবস্থাগ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তাদের পদক্ষেপ লক্ষ্যণীয় নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আসার পরে অপরাধমূলক কর্মকান্ড আরও বৃদ্ধি পায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিস্ক্রিয়তায় শহরের প্রতিটি গলিগলিতে মাদক ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি মাদক বেচাবিক্রি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে মারমারি থেকে খুনের ঘটনাও ঘটে।

সর্বশেষ ১৫ মে মাদকসংক্রান্ত বিরোধে জড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কাউনিয়া থানাধীন পলাশপুর এলাকার জসিম সিকদার বাবু নামের ত্রিশোর্ধ্ব যুবক। গভীর রাতে বাসার অদূরে ১০/১৫ যুবক তাকে ধাওয়া করে এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। আলোচিত এই হত্যাকান্ডে মূলহোতা মধুসহ কজনকে পুলিশ স্বল্পসময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে, বর্তমানে তারা কারাভ্যন্তরে আছেন।

মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়ে জানতে সোমবার অপরাহ্ণে পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদকে ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সরকারি নম্বরটি উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান রিসিভ করেন। এবং এই পুলিশ কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, মাঠপুলিশকে রোববার বৈঠকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চারটি থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বন্দর এবং বিমানবন্দরের ওসিদের আওতাধীন এলাকাসমূহের অপরাধ দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নানের সাথে নাতিদীর্ঘ আলোচনায়ও কিছুটা আভাস মিলেছে যে মাঠপুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে রাখতে কঠোর পন্থা অবলম্বন করবে। অবশ্য এই ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশের তরফ থেকে শহরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করা হয়। শেষপর্যন্ত পুলিশপ্রশাসন অপরাধীদের দমনে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ফের যুদ্ধ শুরু করলে নেতানিয়াহুকে একাই লড়তে হবে: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
ফের যুদ্ধ শুরু করলে নেতানিয়াহুকে একাই লড়তে হবে:  ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরু করলে ইসরাইলকে একাই এর পরিণতি মোকাবিলা করতে হতে পারে। স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) এই সতর্কবার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।  খবর আল জাজিরার। 

 

সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইসরাইল ও ইরান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণার পর এ সতর্কবার্তা দিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে উভয় পক্ষকে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শান্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত আলোচনা এগিয়ে যাবে, যদি না ‘অজ্ঞতা বা বোকামি’ তা বাধাগ্রস্ত করে।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে ফোন করে হামলা বন্ধ করার অনুরোধও জানান।

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমি বলেছি, ‘বিবি, সাবধান থাকো। না হলে খুব শিগগিরই তোমাকে একাই লড়তে হবে।’

গত রোববার (৭ জুন) হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় ইসরাইল। একই সময়ে ইরানও উত্তর ইসরাইলে  হামলা চালায়, যার প্রতিক্রিয়ায় তেল আবিব তেহরানের একাধিক স্থানে পাল্টা আঘাত হানে।

অবশ্য এরইমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সহিংসতা ও পালটাপালটি হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও ইসরাইল। সোমবার (৮ জুন) এ ঘোষণা দেয় দু’দেশ।