খুঁজুন
রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১ শ্রাবণ, ১৪৩৩

আগৈলঝাড়ায় বর্ষা মৌসুমে শত বছরের “নৌকা বিক্রির হাট” ক্রেতা-বিক্রেতায় জমজমাট

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫, ৮:০৫ অপরাহ্ণ
আগৈলঝাড়ায় বর্ষা মৌসুমে শত বছরের “নৌকা বিক্রির হাট” ক্রেতা-বিক্রেতায় জমজমাট

আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি ॥
বরিশালের আগৈলঝাড়ার বর্ষা মৌসুমে চলাচল, জীবিকা ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম বাহন হচ্ছে নৌকা। পানি হওয়ার আশংকায় নৌকা কেনার ধুম পড়েছে নিম্ন এলাকার লোকজনের মধ্যে। দরিদ্র জনগোষ্ঠি অধ্যুষিত যেসব অঞ্চলের মানুষ জীবন জীবিকার প্রয়োজনে নিবিরভাবে নিজেদের জড়িত রেখেছেন মৎস্য শিকার করে  বাজারে বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে সংসার চালানোর কাজে। তাই বর্ষা মৌসুমে তাদের প্রধান চালিকা শক্তি হচ্ছে নৌকা। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এলাকার মৎস্য শিকারীরা তাদের জীবন যাপন ও যাতায়াতের জন্য নৌকার উপর নির্ভরশীল থাকেন।

এসময় তারা নৌকায় জাল পেতে, চাই (মাছ ধরার ফাঁদ) অথবা বড়শি নিয়ে মৎস্য শিকার করেন। তাই বর্ষা মৌসুম এলেই বেড়ে যায় নৌকার কদর। এদিকে বর্ষার কারণে কাঠ মিস্ত্রীদের বাড়ি-ঘর নির্মানের তেমন কোন কাজ না থাকায় এ সময় বিভিন্ন ধরনের কাঠ দিয়ে মিস্ত্রীরা তাদের নিজেদের বাড়িতে বসেই তৈরি করছেন বিভিন্ন সাইজ ও ডিজাইনের নৌকা। গ্রাম ঘুরে কাঠ মিস্ত্রীরা গাছ কিনে স্ব-মিলে চেরাই করে বাড়িতে বসেই নৌকা তৈরি করে তা বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রির মাধ্যমে সংসারের বাড়তি আয় করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার  সহস্রাধিক মিস্ত্রি পরিবার। বাড়তি আয়ের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য বদল করেছেন তারা। মিস্ত্রীদের কাজে সহায়তা করেন তাদের স্ত্রী ও সন্তানেরা।

আগৈলঝাড়া উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় নৌকা বিক্রির হাট সাবেহেরহাট ও বাহাদুরপুর। সপ্তাহে দুইদিন নৌকা বিক্রির হাট বসে। প্রতি সপ্তাহে দুই হাটে বিক্রি হয় প্রায় ৪-৫শত নৌকা। গ্রামগুলো ঘুরে জানা গেছে, এসব এলাকার অসংখ্য পরিবার কাঠ মিস্ত্রী পেশায় জড়িত। তারা গ্রামাঞ্চল থেকে অপেক্ষাকৃত কম দামে গাছ কিনে নৌকা তৈরি করে থাকেন। এর মধ্যে জাারল, রেইনট্রি, চাম্বল, মেহেগনি, কদম, রয়না, উরিয়া আম কাঠ দিয়ে ডিঙ্গি ও ছোট-বড় আকারের নৌকা তৈরি করেন। নৌকার আকার ও কাঠের উপর নির্ভর করে মূল্য নিধারন করা হয়। এ সব হাটে তিন হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নৌকা বিক্রি হয়ে থাকে। একটি মাধারি আকারের নৌকার মূল্য ৭-৮ হাজার টাকা। পানি হওয়ার আতঙ্কে নৌকা কেনার ধুম পড়েছে নিম্ন এলাকার লোকজনের মধ্যে।

স্থানীয়রা ছাড়াও স্বরূপকাঠি, বানারীপাড়া, উজিরপুর, কোটালীপাড়া, মাদারীপুর থেকে পাইকাররা এসে নৌকা কিনে নিয়ে যায় তাদের এলাকায় বিক্রির জন্য। সরেজমিনে (বৃহস্পতি বার) গিয়ে সাবেহের হাটে কথা হয় নৌকা ক্রেতা গৌরনদী উপজেলা বাটাজোর ইউনিয়নের বাসুদেবপাড়া গ্রামের মো.শাহজাহান হাওলাদারের সাথে। তিনি জানান, আমি পানের বরজ ও গো খাবার সংগ্রহের জন্য ৮ হাজার ৪শত টাকা দিয়ে দুটি নৌকা ক্রয় করেছি।

গৈলা গ্রামের শওকত ফড়িয়া বলেন, মাছের ঘেরের জন্য একটি নৌকা ক্রয় করতে এসেছি। উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের কালবিলা গ্রামের নির্মল হালদার ও স্বপন মৌলি জানান, বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ২৪টি নৌকা ক্রয় করে এই হাটে বিক্রি জন্য এনেছি। আজকের হাটে এখন পর্যন্ত ৮টি নৌকা বিক্রি করেছি। কাঠ ও লোহার মুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছর নৌকার মুল্য একটু বেশী।

সাবেহের হাট কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান শিকদার বলেন, শতবর্ষের এই হাটে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার নৌকার হাট বসে। উপজেলাসহ বাহিরের বিভিন্ন এলাকার খুচরা ও পাইকারী ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পদচারনায় নৌকার হাট জমজমাট থাকে।

চরমোনাইয়ে ক্রয়কৃত জমি দখলের পায়তারা, বাধা দেয়ায় হামলা-ভাংচুর, গুরুতর আহত-১ 

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
চরমোনাইয়ে ক্রয়কৃত জমি দখলের পায়তারা, বাধা দেয়ায় হামলা-ভাংচুর, গুরুতর আহত-১ 
বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ৬নং রাজারচর এলাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আমিনুল ইসলাম বিপ্লব নামের একজন গুরুতর আহত হয়ে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।  জানা  গেছে, আহত আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের পিতা মৃত: মকবুল হোসেন হাওলাদারের ৩০ বছর আগের ক্রয়কৃত সম্পদ দখলের চেষ্টা করে আসছে একই এলাকার ছত্তার মোল্লার ছেলে মোঃ শহিদুল ইসলাম মোল্লা ও ওয়াহিদুল সহ আরও কয়েকজন। এ নিয়ে পূর্বে থেকেই একটি দ্বন্দ্ব চলে আসছে।
এর ধরাবাহিকতায় ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে একটি মামলা দায়ের করেন জমির মালিক আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। মামলা দায়ের করার কারণে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে প্রতিপক্ষ শহিদুল ইসলাম মোল্লা গং।  এ নিয়ে একাধিকবার শালিশ বৈঠকে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও মিমাংসা হয়নি। গত ২১ জুলাই চরমোনাই বিশ্বাসের হাট বাজারে বিপ্লবের সাথে কথাকাটি হলে এক পর্যায়ে বিপ্লবের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও তার মায়ের গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করে মোঃ শহিদুল ইসলাম মোল্লা ও ওয়াহিদুল সহ আরও কয়েকজন। খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে এর প্রতিবাদ করলে বিপ্লবের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় বিপ্লবের উপর কিল ঘুষি ও তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে বিপ্লব গুরুত্বর আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন।
আহত বিপ্লব জানান, আমার বাড়ির কিছু লোকজন একত্রিত হয়ে আমার বাবার ক্রয়কৃত সম্পদ বহুদিন ধরে দখল করার চেষ্টা করে আসছে। এতে আমি বাধা দিলে বিভিন্ন সময় আমাকে গুরুতর জখম ও হত্যার হুমকি প্রদান করে। এ ঘটনায় আমি একটি মামলা দায়ের করি।  মামলার পরে আমাদের উপর পরবর্তীতে আবারও অতর্কিত হামলা চালিয়ে এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। তার সমস্ত প্রমাণ থানা এবং কোর্টে দেয়া আছে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে মীমাংসার জন্য গত ২১ জুলাই ধার্র্য করা হলে আসামী পক্ষ আমাদের নানাভাবে ভয় ভীতি দেখায় এবং হত্যার হুমকি প্রদান করে। এক পর্যায়ে বাজারে কথার কাটাকাটি হলে আসামিপক্ষ আমাদের বাড়িতে গিয়ে ঘর ভাঙচুর করার চেষ্টা করে এবং আমার মায়ের গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করে।
খবর পেয়ে আমরা বাড়িতে গেলে তারা সকলে আমাদের উপর হামলা চালায় এবং আমার উপরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। বিপ্লব আরও জানায়, হামলাকারী শহীদুল ইসলাম মোল্লা ও ওয়াহিদুল ইসলাম মোল্লার নিক্ষেপ করা ইটে আমি আঘাতপ্রাপ্ত হই এবং বর্তমান চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে ভর্তি আছি। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি স্থানীয় প্রশাসন এবং স্থানীয় দায়িত্বশীলদের কাছে এ বিষয়ে সুষ্ঠু ও উপযুক্ত বিচারের জোর দাবি জানাই।

বেতাগীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
বেতাগীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন

বেতাগী প্রতিনিধি
‘উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগান ধারণ করে বরগুনার বেতাগীতে পালিত হয়েছে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬। উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে র‌্যালী, আলোচনা সভা, ঋণ ও বৃক্ষ বিতরণের মধ্য সোমবার (৬ জুলাই) উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে দিবসটি পালিত হয়।

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহ. সাদ্দাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জলিলুর রহমান খান নান্না, বিবিচিনি স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক একেএম ওয়াদুদ মিয়া, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম লাভলু, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন প্রমূখ।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা হাসান আল বাসার। অনুষ্ঠানে অর্ধশত উপকারভোগীর মাঝে গাছের চারা ও ঋণ বিতরণ করা হয়।

বরিশালের নতুন ডিসি মামুন খন্দকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
বরিশালের নতুন ডিসি মামুন খন্দকার

বরিশালের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মামুন খন্দকার।  এর আগে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বুধবার (১ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মামুন খন্দকারকে বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বদলি/পদায়ন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এ প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।