খুঁজুন
বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন, ১৪৩২

‘১২ বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মানুষ’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
‘১২ বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মানুষ’

গত একযুগে (২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) দেশে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী ৬৭ হাজার ৮৯০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৬ জন মানুষের প্রাণ গেছে। আহত হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২১ জন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি শুধু গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে এই তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, দেশের হাসপাতালগুলোর চিত্র বলছে হতাহতের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি।

স্বাধীনতার পরে দাতা সংস্থার প্রেসক্রিপসনে একের পর এক সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে বেহিসেবী লুটপাট, সড়কে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, বহুমাত্রিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিবর্তে একের পর এক নতুন নতুন সড়ক নির্মাণ করে ৮০ শতাংশ মানুষের যাতায়াত সড়কে নিয়ে আসার কারণে সড়ক দুর্ঘটনাও ৮০ শতাংশ বেড়েছে দাবি করে সড়কে গণহত্যা জন্য সরকারের দুর্নীতি ও ভুলনীতিকে দায়ী করেছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

আজ ২১ অক্টোবর, মঙ্গলবার সকালে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৫ উপলক্ষ্যে নগরীর ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী এমন অভিযোগ তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন সেক্টরে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও কতিপয় দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের চাদাঁবাজি ও নৈরাজ্যের কারণে সড়কের বিশৃঙ্খলা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের অবাধে চলাচল, লাইসেন্সবিহীন চালক, অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক, সড়কে ত্রুটি, চালকের মাদক গ্রহন, বেপরোয়া গতি, অযোগ্য চালকের হাতে লাইসেন্স প্রদান, লাইসেন্সবিহীন-প্রশিক্ষণহীন চালকের হাতে যানবাহন তুলে দেওয়াসহ নানান কারণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ নানাখাতে এগিয়ে গেলেও দীর্ঘদিন যাবত দাতা সংস্থার প্রেসক্রিপসনে নিরাপদ ও স্বাশ্রয়ী নৌ ও রেলপথের ব্যবহার বন্ধ করে একের পর এক সড়ক সম্প্রসারণ, সড়কে ব্যবহার বাড়ানোর সাথে সাথে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিবর্তে সড়কের উপর একচেটিয়া চাপ বাড়ানো সে তুলনায় সড়কে ম্যাস ট্রানজিট বাড়ানো হয়নি। পথচারীদের হাঁটার অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি। উন্নত গণপরিবহনের অভাবে মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াত ভোগান্তি নাভিশ্বাস উঠছে। পরিবহনের ভয়াবহ সংকট পুঁজি করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রাইডশেয়ারিং মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, স্থানীয় গ্যারেজে তৈরি নসিমন-করিমন, পাশ্ববর্তী দেশের তৈরি মাহিন্দ্রা, পিয়াজিও, পিকআপভ্যানকে লেগুনা হিসেবে বানিয়ে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহারের কারনে বাস নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়েছে। সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের জীবন- সম্পদ রক্ষায়, যাতায়াতের ভোগান্তি লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে ১২ দফা সুপারিশ করেছে।

১. হারিয়ে যাওয়া নৌ ও রেলপথ সড়কের সাথে সমন্বয় করে সমন্বিত যাতায়াত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে।
২. চাদাঁবাজি ও অনিয়ম-দুর্নীতি, মালিক-শ্রমিকদের দৌরাত্ম্য বন্ধে পরিবহনখাত আপাদমস্তক সংস্কার করতে হবে।
৩. ঢাকা-চট্টগ্রামসহ প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সরকারি উদ্যোগে ম্যাস ট্রানিজট (পাতাল মেট্রোরেল) এর ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. ঢাকা-চট্টগ্রামসহ প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সরকারি উদ্যোগে ডিজিটাল লেনদেনের ভিত্তিতে কমপক্ষে দুটি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (আলাদা উন্নতমানের বাস লেইন) লেইন চালু করতে হবে।
৫. সারাদেশে জেলা শহর থেকে উপজেলায় মানসম্পন্ন বাস নামিয়ে যাতায়াতে শক্তিশালী বাস নেটওর্য়াক গড়ে তুলতে হবে।
৬. মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা আমদানি ও বিপণন বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
৭. উন্নত কারিকুলাম তৈরি করে পরিবহন চালকদের রাষ্ট্রের খরচে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।
৮. উন্নত দেশের আদলে ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম ডিজিটাল করতে হবে। ট্রাফিক ট্রেনিং একাডেমী গড়ে তুলতে হবে।
৯. সড়ক দুর্ঘটনার মামলা সরকারি উদ্যোগে আমলে নিতে হবে। প্রতিটি হতাহত ব্যাক্তিকে ক্ষতিপুরনের আওতায় আনতে হবে।
১০. পরিবহন সেক্টরে যাত্রীস্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহনের প্রতিটি ফোরামে যাত্রী প্রতিনিধি তথা ভুক্তভোগীর মতামত ও অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে।
১১. সড়ক সেক্টরে আইনের সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
১২. সারাদেশে সাইক্লিস্ট ও পথচারীদের জন্য পৃথক লেইন ও নিরাপদ ফুটপাতের ব্যবস্থা করতে হবে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি শরীফ রফিকুজ্জামান, বারভিটার সভাপতি আবদুল হক, ড্রাইভার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান বাদল আহমেদ প্রমুখ।

 

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ, সংসদ বসছে কাল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ, সংসদ বসছে কাল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। তবে গতকাল পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি—শুরুর বৈঠকে কে সভাপতিত্ব করবেন এবং নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কে হচ্ছেন।

এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে আজ বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক হবে। সেখানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিত্বের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। এ দুটি পদে ক্ষমতাসীন দল থেকেই সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন। তবে এবার ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামী এই পদটি নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে আজ বিরোধী দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। এর দেড় বছর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি।

সংবিধান অনুযায়ী, কোনো সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক আহ্বান করতে হয়। ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সে অনুযায়ী, আগামীকাল বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে শুরু হবে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন। সাধারণত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন দীর্ঘ হয়। এই অধিবেশন কত দিন চলবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠনের পর কমিটির বৈঠকে প্রথম অধিবেশনের সময়কাল ঠিক হবে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সংসদের শীর্ষ পদগুলোতে অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মুখ বসাতে চাইছে বিএনপি। স্পিকার পদে দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য আবদুল মঈন খান, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদের ব্যাপারে আলোচনা বেশি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, আজ বুধবার বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে নতুন স্পিকার নির্বাচনসহ অধিবেশনের শুরুতে কে সভাপতিত্ব করবেন, সব ঠিক হবে।

প্রথম দিন যা হবে

নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে কিছু নির্ধারিত কাজ হয়। এর মধ্যে প্রথম কাজ হচ্ছে, নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা। বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার প্রথম বৈঠকের শুরুতে সভাপতিত্ব করেন। তবে এবার এর ব্যতিক্রম হচ্ছে। কারণ, দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক (টুকু) কারাগারে।

এমন প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকের শুরুতে সভাপতিত্ব কে করবেন, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে কোনো সংসদ সদস্যকে এই দায়িত্ব দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

সভাপতির সূচনা বক্তব্যের পর নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। এরপর তাঁদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। এ সময়টাতে অধিবেশনে বিরতি থাকে। এরপর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে আবার অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। সাধারণত নতুন স্পিকারকে স্বাগত জানিয়ে সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা বক্তব্য দিয়ে থাকেন।

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে এবং বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। অধিবেশনজুড়ে এই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন সংসদ সদস্যরা।

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদের প্রথম বৈঠকে উত্থাপন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে। উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ কোনো অধ্যাদেশ অনুমোদন না করলে সেটার কার্যকারিতা থাকবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে এরপর অনুমোদন করা হবে।

জামায়াত কি ডেপুটি স্পিকার পদ নেবে

জুলাই জাতীয় সনদে বলা হয়েছে, আইনসভা হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। উচ্চকক্ষ গঠিত হবে নিম্নকক্ষের ভোটের সংখ্যা অনুপাতে। উভয় কক্ষে বিরোধী দল থেকে একজন করে ডেপুটি স্পিকার মনোনীত করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি একমত হলেও উচ্চকক্ষের গঠন পদ্ধতি নিয়ে তাদের ভিন্নমত রয়েছে। তবে দলটি ইতিমধ্যে সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদটি জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

এ বিষয়ে জামায়াতের তিনজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে প্রথম আলো কথা বলেছে। তাঁরা বলেন, ডেপুটি স্পিকার পদ নেওয়া হবে কি না, সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান কী হবে—এসব বিষয়ে আজ বুধবার বিরোধী দলের সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

জামায়াতের একটি সূত্র বলছে, সংসদে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার পদ পাওয়ার নজির নেই। জুলাই জাতীয় সনদে প্রথমবারের মতো বিষয়টি স্থান পেয়েছে। জুলাই সনদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে বিএনপির কোনো আপত্তি ছিল না। জাতীয় নির্বাচনের আগেও বিষয়টি কোনো আলোচনা ছিল না। তবে নির্বাচনের পর বিএনপি বলছে, বিরোধী দলকে এই পদ উদারতা হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। জামায়াত জুলাই সনদ অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার নিতে চায়, বিএনপির অনুগ্রহ হিসেবে নয়।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে উচ্চকক্ষ এবং নিম্নকক্ষের দুটি ডেপুটি স্পিকার পদই জামায়াত পায়। এখানে অনুগ্রহের কিছু নেই। শোনা যাচ্ছে, জুলাই সনদের আলোকে এই দুটি পদ দেওয়া হবে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি বা প্রস্তাব আসেনি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিএনপিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। এরপর জামায়াত ডেপুটি স্পিকার বিষয়ে তাদের অবস্থান জানাবে। আজ বুধবার বিরোধী দলের বৈঠক থেকেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

ভোলায় ট্রাক চাপায় পথচারী নিহতে সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়দের বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ
ভোলায় ট্রাক চাপায় পথচারী নিহতে সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়দের বিক্ষোভ

ভোলা সদর উপজেলায় ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে ইট বোঝাই ট্রাকের চাপায় সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (৬৫) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। তবে ট্রাকটি আটক করলেও পালিয়েছে ঘাতক চালক। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দিনগত রাত ৮টার দিকে উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের তালতলী বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

 

সিরাজুল ইসলাম আলীনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের অবদার আলী মালের ছেলে এবং পেশায় একজন কৃষক।

নিহতের ভাতিজা নজরুল ইসলাম ও স্থানীয়রা জানান, সিরাজুল তালতলী বাজার থেকে বাড়ির জন্য প্রয়োজন বাজার শেষে সড়ক অতিক্রম করে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঘুইংগারহাট এলাকা থেকে ভোলা সদরগামী ইট বোঝাই ট্রাকটি তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

স্থানীয় বিক্ষুব্ধরা ট্রাকটি আটক করে সড়ক অবরোধ করে প্রায় আধাঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেন। এতে বন্ধ হয়ে যায় ভোলার গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের যানবাহন চলাচল।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করেন। এছাড়া স্থানীয়দের দাবি, প্রতিনিয়ত ওই এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানি হচ্ছে। এসব দুর্ঘটনারোধে ওই এলাকায় গতিরোধকের দাবিও জানান তারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভোলা সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো.গোফরান বলেন, স্থানীয়রা ৯৯৯ এ কল দেয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে এসে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করেছি। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বলেছে তারা মামলা করবে না। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্টকে ফোন করলেন পুতিন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৫:১০ পূর্বাহ্ণ
ইরানের প্রেসিডেন্টকে ফোন করলেন পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে ফোন করেছেন বলে জানিয়েছে রুশ সংবাদ সংস্থা তাস।

 

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্রেমলিনের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধে ধারাবাহিক ফোন কলের অংশ হিসেবে দ্বিতীবারের মতো পেজেশকিয়ানকে ফোন করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তার সঙ্গে দীর্ঘ আলাপে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমন ও রাজনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন পুতিন।

এর আগে গত ৬ মার্চ তাদের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছিল, যখন পুতিন পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা শেষ করেন। এরপর ৯ মার্চ পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেন।

বিবৃতি অনুযায়ী, মঙ্গলবারের ফোনালাপে ‘ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে পুনরায় আলোচনা করা হয়েছে।

এর আগে ৯ মার্চ ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রায় এক ঘণ্টা ফোনে কথা হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়। এরপরেই ট্রাম্প বলেছিলেন যে, শিগগিরই যুদ্ধ শেষ হচ্ছে।