এবার সত্যিই জাতিসংঘের সদস্যপদ কি হারাতে পারে ইসরায়েল
২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর চিলির বেশ কয়েকটি নাগরিক সংগঠন জাতিসংঘ থেকে ইসরায়েলকে বহিষ্কারের দাবি তুলে একটি প্রচারাভিযান শুরু করেছে। তারা জাতিসংঘ সনদের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলছে, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও জাতিসংঘের অনেক প্রস্তাবনা ধারাবাহিক এবং পদ্ধতিগতভাবে লঙ্ঘন করছে। গাজায় চলমান গণহত্যা ও মানবিক সংকটের পটভূমিতে এ দাবি তুলেছে তারা।
জাতিসংঘ সনদের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জাতিসংঘের যেকোনো সদস্যরাষ্ট্র যদি ধারাবাহিকভাবে সনদের মূলনীতি লঙ্ঘন করে, তবে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে সাধারণ পরিষদ সেই রাষ্ট্রকে জাতিসংঘ থেকে বহিষ্কার করতে পারে।’
তবে এ ধরনের দাবি এবারই প্রথম নয়। গত সেপ্টেম্বরে কাতারে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান হামলার পর পাকিস্তানও জাতিসংঘে দেশটির সদস্যপদ স্থগিত বা বহিষ্কার করার দাবি তোলে। পাকিস্তান বলেছে, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি–নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। পাকিস্তানের জাতিসংঘ দূত সতর্ক করেন, ইসরায়েলের এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক শৃঙ্খলার জন্য বিপজ্জনক।
একইভাবে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ বহুবার ইসরায়েলের সদস্যপদ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও জাতিসংঘের স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করেছে এবং বিশ্ব সংস্থাকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
জাতিসংঘ সনদের দুটি অনুচ্ছেদে সদস্যরাষ্ট্রের পদ স্থগিত বা বহিষ্কার করার বিধান রয়েছে। ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বহিষ্কার, আর ৫ নম্বরে সদস্যপদ স্থগিত করা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে জাতিসংঘ গঠনের পর থেকে সনদের ৫ ও ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীন কোনো দেশের সদস্যপদ স্থগিত বা বহিষ্কার করা হয়নি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী নীতির কারণে সাধারণ পরিষদের ক্রেডেনশিয়াল কমিটি দেশটির প্রতিনিধিদলের পরিচয়পত্র বাতিলের সুপারিশ করলে তারা সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে পারেনি।

আপনার মতামত লিখুন
Array