খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২

‎‘আমি জানালার পাশে বসে ছিলাম হঠাৎ যেন আকাশটা আগুন হয়ে গেল’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
‎‘আমি জানালার পাশে বসে ছিলাম হঠাৎ যেন আকাশটা আগুন হয়ে গেল’

পিরোজপুর প্রতিনিধি : ‎সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ১৩ মিনিটের দিকে ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি যেন হঠাৎ রূপ নেয় এক বিভীষিকাময় মৃত্যুপুরীতে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে, চারদিক ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। সেই দিনের বিভীষিকাময় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কাইলানী গ্রামের মেয়ে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আকাশ লিনা রিয়া। সেই দিনের ভয়াবহ স্মৃতি এখনো তাকে স্বাভাবিক হতে দেয়নি। ‎বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকালে আকাশ লিনা রিয়ার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।

‎প্রত্যক্ষদর্শী আকাশ লিনা রিয়া বলেন, ঘটনার দিন দুপুর ১টার দিকে আমাদের কলেজ ছুটি হয়। এরপর আমরা কোচিং ক্লাসে ছিলাম। আমি জানালার পাশে বসা ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পেলাম মনে হলো যেন কিছু একটা ব্লাস্ট হলো। জানালার পাশ থেকে হঠাৎ আগুনের শিখা দেখতে পাই। মনে হলো আকাশটা আগুন হয়ে গেল।

‎রিয়া বলেন, আমরা তখন কলেজ ভবনের ছয়তলায় ছিলাম। ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে সবাই দৌড়ে নিচে নেমে যাই। প্রথমে মনে হচ্ছিল ছেলেদের বিল্ডিংয়ে কিছু হয়েছে। নিচে গিয়ে দেখি, শিশুদের ভবনের সামনে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। আমরা তখনো পুরো ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারিনি। কিন্তু কিছু সময় পর যখন একটার পর একটা পোড়া দেহ বের করে আনা হচ্ছিল তখন মনে হলো যেন পুরো পৃথিবী থেমে গেছে।

‎তিনি বলেন, বিমানটি যেখানে পড়েছে, সেটি ছিল শিশুদের ‘স্কাই’ সেকশনের গেটের সামনে। প্রতিদিন বাচ্চারা ছুটির পর সেই গেট দিয়েই বের হয়। মাত্র ১০ মিনিট পর সবাই চলে যেত। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। বাচ্চাগুলো আগুনে ঝলসে যায়।

‎এই মর্মান্তিক দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে রিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ঘটনার পরপরই তিনি ঢাকায় অবস্থান না করে নিজের গ্রামের বাড়ি নাজিরপুরে ফিরে আসেন। এখনো তিনি স্বাভাবিক হতে পারেননি।

‎রিয়ার প্রতিবেশী অপর্না রানী বলেন, রিয়া বাড়িতে আসার পর থেকে কারো সঙ্গে বেশি কথা বলে না। আমরাও রিয়ার কাছে তেমন কিছু জিজ্ঞেস করি না। ও ওই ঘটনা মনে করলে কেমন যেনো একটা আতঙ্কে থাকে।

‎মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী রিয়ার মা স্কুল শিক্ষিকা অরতি মজুমদার বলেন, ঘটনার একদিন আগে আমি আমার মেয়েকে হোস্টেলে রেখে বাড়িতে আসি। আসার দিন রিয়া আর একটা দিন ওর সঙ্গে থাকার কথা বলে কান্নাকাটি করে। রিয়া ভর্তি হবার পর এমন কান্নাকাটি কখনো করেনি। বিমান দুর্ঘটনার পরপরই রিয়া আমাকে ফোন করে বলে মা আগুন, আগুন আর কিছুই বলতে পারছিলো না। এরপর টিভিতে ঘটনাটি দেখে আমরা বাড়ির সবাই কান্নাকাটি শুরু করি। রিয়ার বাবাকে ফোন দিয়ে বললে সে সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকা রওনা দেন। ওই ঘটনার পর রিয়া কেমন যেন হয়ে গেছে। খুব একটা কথা বলে না চুপচাপ থাকে আর মাঝে মাঝে আতকে ওঠে।

‎রিয়ার বাবা রিপন মৈত্র বলেন, আমি রিয়ার মায়ের ফোন পেয়ে যে অবস্থায় এবং যে পোশাকে ছিলাম সেই ভাবে ঢাকা রওনা দেই। এরকম বিভীষিকাময় দৃশ্য আমি আগে কখনো দেখিনি। ছোট ছোট বাচ্চাদের কষ্ট দেখে নিজেকে সামলে রাখা যায় না। ভগবান আমার মেয়েকে রক্ষা করছে কিন্তু কত বাবা মার কোল যে খালি করেছে। আমি ঘটনার দিন রাতেই রিয়াকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসি।

কাজী বাবুল’র ২য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

তাঁর স্বপ্ন বেঁচে আছে কিন্তু তিনি নেই

কাজী রাসেল ।।
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
তাঁর স্বপ্ন বেঁচে আছে কিন্তু তিনি নেই

দক্ষিণাঞ্চলের মিডিয়া জগতের অভিভাবক, সাংবাদিকদের বাতিঘর, দেশের শীর্ষ আঞ্চলিক দৈনিক আজকের বার্তা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল এর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০২৪ সালের ২ মার্চ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বারডেম) এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুনাগ্রাহী রেখে গেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ২ মে বরিশালের কাশীপুর কলাডেমা সম্ভ্রান্ত কাজী পরিবারে তাঁর জন্ম। তিনি ছাত্রাবস্থা থেকেই লেখালেখির সাথে জড়িত ছিলেন। খবর গ্রুপ পাবলিকেশনস এর বরিশালের ব্যুরো চিফ হিসেবে সাংবাদিকতায় কর্মজীবনের শুরু করেছিলেন তিনি। আধুনিক সাংবাদিকতার কারিগর কাজী বাবুল ছিলেন বরিশালের সব শ্রেনী পেশার মানুষের কাছে ভালবাসা, শ্রদ্ধা ও আস্থার প্রতীক। সততা ও সমাজ সেবায় তিনি ছিলেন অনুকরণীয়।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং সাংবাদিকতার পেশাগত অবস্থান সুদৃঢ করার লক্ষ্যে ১৯৯১ সালে দৈনিক আজকের বার্তার প্রকাশনা শুরু করে ছিলেন। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত আঞ্চলিক রঙিন দৈনিক। তিনি ঐতিহ্যবাহী বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। পরে বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারনে তিনি বরিশাল প্রেসক্লাবের ১৪ বার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। একজন সাহসী সাংবাদিক হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। সাংবাদিক হিসেবে তিনি বিশ্বের বহুদেশ ভ্রমন করেছেন। লাভ করেছেন বহু সম্মাননা। কর্মজীবনে তিনি একাধিক বই লিখেছেন। যার মধ্যে ‘সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা’ উল্লেখযোগ্য।

বর্ণাঢ্য জীবনে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন বরিশালের প্রিয় মুখ কাজী বাবুল। কঠোর শ্রম ও সূক্ষ্ম মেধার অধিকারী ছিলেন তিনি। হাজার পাতার দুর্লভ একটা উপন্যাসের মতো ছিলো তাঁর জীবন। আত্মা তাঁর দেহ ত্যাগ করলেও কর্ম তাঁকে অমরত্ব দিয়েছে। মানুষের হৃদয়ে আজও তাঁর স্মৃতি অম্লান। চিরকালই তিনি সবার প্রিয় মানুষ হয়ে থাকবেন আকাশের ধ্রুব তারার স্নিগ্ধতায়।

সাংবাদিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্দোলন ও বরিশালের উন্নয়নে তিনি সরব ছিলেন। মঈন-ফকরুদ্দীনের শাসন আমলে মিথ্যা মামলায় তাঁকে কারাবরণও করতে হয়েছিলো। সাদা পোশাকে একটি সংস্থার লোকজন ঢাকার গুলশানের বাসা থেকে তাঁকে সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের সামনে থেকে আটক করে নিয়ে যায়। ঐ সময় কাজী বাবুলকে অন্ধকার টর্চার সেলে (আয়না ঘরে) রেখে নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনকারীরা বিএনপির কর্ণধার তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলার বাদী হতে বলে। তারা এসময় তাঁকে প্রথমে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে রাজি করাতে চেষ্টা চালায়। পরে কাজী বাবুল তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অন্ধকার টর্চার সেলে বা আয়না ঘরে রেখে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন চালানো হয়।

অমানবিক নির্যাতনের পরও তিনি বিএনপির কর্নধার ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো মামলার বাদী হননি। বরং তাদের কে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের আগামীর প্রধানমন্ত্রী হবেন জনাব তারেক রহমান। সেদিনের কারারুদ্ধ কাজী বাবুল আজ আর জীবিত নেই। কিন্তু তাঁর ভবিষৎবাণী আজ দিনের আলোর মতো উজ্জল এবং দৃশ্যমান বাস্তব।
সেদিন কাজী বাবুল প্রাণভয়ে কিংবা প্রলোভনে পরে তারেক রহমান এর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাজানো মামলার বাদী হননি। বরং নিজে মিথ্যা মামলায় ১৭ বছর সাজা মাথা পেতে নিয়েছিলেন। ঢাকা জেলখানায় মাসের পর মাস নির্যাতনের কারনে তাঁর দুটি কিডনীই নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু নিজের বিবেককে জীবিত রেখে ছিলেন আমৃত্যু।

জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত যে মানুষটি তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন, আজ তিনি নেই। মৃত্যুর ২/৩ মাস আগে একদিন সকালে নাস্তা খেতে খেতে তিনি আমাদের বলেছিলেন, “আমি আর বেশি দিন নেই। মরতে তো সবাইকেই হবে। তবে শীগ্রই তারেক রহমান বীরের মতো এদেশে ফিরবেন এবং দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দায়িত্ব নিবেন। সেই দিনটা তোমরা দেখতে পারবে। কিন্তু আমি সেদিন থাকবো না।” মহান আল্লাহ তায়ালা আমার বাবাকে জান্নাত দান করুন, আমিন।

 

বৃদ্ধের মরদেহ মিলল সন্ধ্যা নদীর পাড়ে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
বৃদ্ধের মরদেহ মিলল সন্ধ্যা নদীর পাড়ে

বরিশালের উজিরপুরে নিখোঁজের একদিন পর মোবারক হালাদার (৭৫) নামের এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মেজর জলিল সেতুর উত্তর পাশসংলগ্ন এলাকা থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মোবারক হালাদার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। পরে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে মেজর জলিল সেতুর উত্তর পাশের সন্ধ্যা নদীর পাড়ে স্থানীয়রা তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মরদেহ থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বিকেল ৩টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের মধ্যদিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে তার নির্ধারিত দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন।

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মন্ত্রিসভা ও সচিবদের প্রায় সব বৈঠকই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন। রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।