খুঁজুন
সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫ মাঘ, ১৪৩২

১৭ বছর পর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে উজ্জীবিত বরিশাল বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:২০ অপরাহ্ণ
১৭ বছর পর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে উজ্জীবিত বরিশাল বিএনপি

দীর্ঘ ১৭ বছর পর নেতা তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বরিশাল বিএনপি ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। আগামী ২৫ ডিসেম্বর নেতার আগমন উপলক্ষে শীর্ষস্থানীয় নেতারা কদিন ধরে দফায় দফায় বৈঠক করেন। এবং নির্ধারিত দিনের আগেই বরিশাল থেকে অন্তত ৫০টি বিশালাকায় লঞ্চ এবং বিপুলসংখ্যক বাসযোগে কর্মী-সমর্থকদের রাজধানী ঢাকায় সমাবেত করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এবং তাকে বরণে ঢাকাযাত্রার আগে বরিশালের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন তাকে এক নজর দেখতে।

রোববার বিএনপির শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা রূপালী বাংলাদেশকে জানান, তাদের নেতা তারেক রহমান ১৭ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে অবশেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন। এদিন তাকে বরণ করতে বরিশালসহ আশপাশ জেলাসমূহ ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী এবং বরগুনা থেকে লঞ্চ ও বাসযোগে কর্মী-সমর্থকেরা রাজধানী ঢাকায় থাকার প্রস্তুতি নিয়েছেন। প্রতিটি জেলা থেকে অন্তত এদিন ২ লক্ষাধিক লোকের ঢাকায় আগমন ঘটবে। কর্মী-সমর্থকেরা নেতাকে এক নজর দেখতে এবং দিনটিকে ঐতিহাসিক করে তুলতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জানা গেছে, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের এই আয়োজনে ত্রয়োদশ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রাপ্ত বিএনপি নেতারা অগ্রণী ভূমিকা রাখতে চান বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সমবেত করে। বরিশালের ৬টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সাথে সমন্বয় করে লঞ্চ এবং বাসযোগে ২৫ ডিসেম্বর সকাল ১০টার আগে রাজধানীতে প্রবেশের সিদ্ধান্তগ্রহণ করেন।

বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার জানান, তারেক রহমানকে বরণ করতে ২৫ ডিসেম্বর বরিশাল মহানগরসহ ১০ উপজেলা থেকে অন্তত ২ লক্ষ কর্মী-সমর্থকেরা ঢাকায় থাকবেন। কর্মী-সমর্থকদের যাওয়া আসার সুবিধার্থে ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বরিশাল নদীবন্দর থেকে ১৫টি বিশালাকায় লঞ্চ থাকছে, সেখানে রাতে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া একদিন বাদে ২৫ ডিসেম্বর খুব সকালে নথুল্লাবাদসহ শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ২০০টির বেশি বাস কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে রওনা হবে।

অনুরুপ তথ্য দিয়েছেন বরিশাল জেলা বিএনপি (দক্ষিণ) সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহীন জানান, ২৫ ডিসেম্বর নেতা তারেক রহমানকে বরণ করতে বরিশালের ৬ টি জেলা থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ রাজধানীতে যাবেন। তাদের জন্য জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সবশেষ রোববার বিকেলে বরিশাল ক্লাবে বিভাগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয় এবং সেখানে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস ও লঞ্চে সমান্তরাল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

রোববারের বৈঠকে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনও অংশ নিয়েছেন। তিনি রূপালী বাংলাদেশকে জানান, তাদের নেতা তারেক রহমানকে বরণ করতে বা এক নজর দেখতে কর্মী-সমর্থকেরা উদগ্রীব হয়ে আছেন। এই বিষয়টি নিয়ে রোববার বরিশাল ক্লাবে শীর্ষনেতারা আলোচনা করে পরিবহন সুবিধার্থে লঞ্চ এবং বাসের সংখ্যা বাড়িয়েছেন।

বিএনপি নেত্রী জানান, শুধু জেলা শহর নয়, উপজেলা থেকেও কর্মী-সমর্থক নেতার সংবর্ধনা আয়োজনে অংশ নিতে ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বরিশালের ৬টি জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকে বাস এবং লঞ্চযোগে কর্মী-সমর্থকদের যাওয়া আসার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে কর্মী-সমর্থকদের খাবার ব্যবস্থাও করা হয়।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বরিশাল বিএনপির এই আয়োজনকে ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেকার চাঙাভাব লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মুখিয়ে আছেন নেতাকে দেখার অপেক্ষায়। বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির এমন খবরই জানিয়েছেন।

বিদগ্ধ ছাত্র নেতৃত্ব জানান, বরিশাল ৫ সদর আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ারের নেতৃত্বে ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে লঞ্চযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। এবং পরদিন ২৫ ডিসেম্বর খুব সকালেও কর্মীদের বাসযোগে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চল বিএনপির অভিভাবক মজিবর রহমান সরোয়ার জানান, রোববার বরিশাল ক্লাবের বৈঠকে তিনিও অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বরিশালের বাইরে থাকায় সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সকলের সাথে আলোচনা হয়েছে, নেতার সংবর্ধনা আয়োজনে বরিশালের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা থেকে বাস এবং লঞ্চযোগে কর্মী-সমর্থকদের রাজধানীতে প্রবেশের বিষয়ে। সংখ্যাগত দিক থেকে বললে ২৫ ডিসেম্বর বরিশাল তথা গোটা দক্ষিণাঞ্চল থেকে অন্তত ১০ লক্ষাধিক মানুষ ঢাকায় অবস্থান করে নেতা তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করবেন।’

তথ্য প্রযুক্তি খাতে ন্যাশনাল টেক অ্যাওয়ার্ড পেলেন বরিশালের ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা

বার্তা ডেস্ক ‍॥
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
তথ্য প্রযুক্তি খাতে ন্যাশনাল টেক অ্যাওয়ার্ড পেলেন বরিশালের ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম সম্মানজনক পদক ‘ন্যাশনাল টেক অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অর্জন করেছেন ইঞ্জিনিয়ার বিডি নেটওয়ার্ক-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) জিহাদ।

বাংলাদেশের টেক শিল্পে বিশেষ অবদান এবং দক্ষ জনবল তৈরির স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে (কর্পোরেট আইকোন সিইও) সম্মাননা প্রদান করা হয়।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর কাকরাইলস্থ আইডিবি অডিটোরিয়ামে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠানে দেশের আইটি খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নিজের বলার মত গল্প ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান ও ফ্রীল্যান্সিং মেন্টর জনাব ইকবাল বাহার জাহিদ, এবং টেক টিউবার সোহাগ ৩৬০ এর ফাউন্ডার সোহাগ মিয়া।

২০০৯ সালে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে ওয়েব হোস্টিং ও ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ফার্ম হিসেবে ‘ইঞ্জিনিয়ার বিডি নেটওয়ার্ক’-এর যাত্রা শুরু করেন জিহাদ। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণদের নিয়ে একটি দক্ষ সাপোর্ট টিম তৈরির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে আসছেন।

বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ার বিডি নেটওয়ার্ক এর রয়েছে ৪ হাজার এর অধিক গ্রাহক ডোমেইন, ওয়েব হোস্টিং, ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইটি সেবা প্রদান করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য—বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় বিশ্বস্ত ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের আইটি সেক্টরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা নিয়ে কাজ করছেন।

পুরস্কার প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় জিহাদ বলেন, “এই অর্জন শুধু আমার নয়, বরং পুরো ইঞ্জিনিয়ার বিডি টিমের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। আমরা আগামীতে আরও উন্নত প্রযুক্তি ও সেবা নিয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাবো।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায়  নিহত ৩

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার তাঁতিবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এ দিকে দুর্ঘটনার পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। এতে ভোগান্তিতে পড়েন দক্ষিণ অঞ্চলের বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার যাত্রীরা।

মাদারীপুরের মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রাজৈরের টেকেরহাট থেকে একটি কাভার্ডভ্যান বরিশালের দিকে যাচ্ছিল। মাঝপথে সদর উপজেলার তাঁতিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে অপর দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানকে সামনে থেকে চাপা দেয় ওই কাভার্ডভ্যানটি। এতে ঘটনাস্থলেই নারীসহ দুই ভ্যানযাত্রী নিহত হন। আহত হন দুজন। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শহর শয্যা জেলা হাসপাতালে নিলে সেখানে মারা যান এক নারী।

বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা চেয়ে আদালতে আবেদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা চেয়ে আদালতে আবেদন

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিটে বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত হতে পৃথক তিনটি আবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এদিকে চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা চেয়ে আদালতে আবেদন দিয়েছে রিট আবেদনকারীপক্ষ। বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন নথিভুক্ত করে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন রেখেছেন।

পক্ষভুক্ত হতে যাঁরা আবেদন দিয়েছেন তাঁরা হলেন বার্থ অপারেটর এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন সেলিম, স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির পক্ষে প্রধান সমন্বয়ক জিয়াউল হক ও শ্রমিকনেতা তসলিম উদ্দিন।

এর আগে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিটের ওপর গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বিভক্ত রায় দেন বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

২০১৫ সালের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) আইন ও ২০১৭ সালের জিটুজির নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব। এর সঙ্গে একমত নন উল্লেখ করে বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট আবেদন (রুল ডিসচার্জ) খারিজ করে রায় দেন।

এ অবস্থায় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে একটি একক বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি। বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হয়। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রিটটি আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত বলেন, অবকাশ শেষে রিটটি শুনবেন। অবকাশ শেষে ৪ জানুয়ারি নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শুরু হয়।

আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী হেলাল চৌধুরী শুনানিতে অংশ নেন। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আনোয়ার হোসেন। শাহাদাত হোসেন সেলিমের পক্ষে আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ কে এম ফয়েজ এবং শ্রমিকনেতা তসলিম উদ্দিনের পক্ষে আইনজীবী সাকিব মাহবুব শুনানিতে ছিলেন।

‘হাইকোর্টের দ্বিধাবিভক্ত রায় সত্ত্বেও এনসিটির চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে’ শীর্ষক বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন যুক্ত করে স্থিতাবস্থা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারীর আইনজীবী আনোয়ার হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিভক্ত রায়ের পর রুলের ওপর বিষয়বস্তুতে ৪ ও ৮ জানুয়ারি এবং আজ শুনানি হয়। তৃতীয় বেঞ্চে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাই চলমান প্রক্রিয়ার ওপর স্থিতাবস্থা চেয়ে আজ আবেদনটি দাখিল করা হয়, যা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পৃথক ব্যক্তি–সংগঠনের পক্ষে রিটে বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত হতে তিনটি আবেদন দাখিল করা হয়েছে, যা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

শ্রমিকনেতা তসলিম উদ্দিনের আইনজীবী সাকিব মাহবুব প্রথম আলোকে বলেন, রিটে বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত হতে আবেদন দাখিল করা হয়েছে। আবেদনটি নথিতে রেখেছেন আদালত। পক্ষভুক্ত হতে করা আবেদনকারীদের বক্তব্য শুনবেন বলেছেন আদালত। সে জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন রেখেছেন। রিট সমর্থন করে শুনানিতে অংশ নেবেন বলেন জানান এই আইনজীবী।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক হয়। এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন গত বছর ওই রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৩০ জুলাই হাইকোর্ট রুল দেন। রুলের ওপর শুনানি শেষে গত ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে বিভক্ত রায় হয়।

চালু এই টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির আওতায় জিটুজি ভিত্তিতে টার্মিনালটি ছেড়ে দেওয়ার এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন, পেশাজীবী ও শ্রমিকেরা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন।

২০০৭ সালে বন্দর এই টার্মিনাল নির্মাণ করে। টার্মিনালটি নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সংযোজনে বন্দর কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে মোট ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার আগপর্যন্ত চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেডের এই টার্মিনাল পরিচালনা করার কথা রয়েছে।