খুঁজুন
রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২৯ চৈত্র, ১৪৩২

সাবেক স্ত্রীর যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ অতিরিক্ত ডিআইজি, শিক্ষা অফিসার বরাবর দিলেন চিঠি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫, ৭:১১ অপরাহ্ণ
সাবেক স্ত্রীর যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ অতিরিক্ত ডিআইজি, শিক্ষা অফিসার বরাবর দিলেন চিঠি

সাবেক স্ত্রীর যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর চিঠি দিয়েছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। অভিযুক্ত ফাহিমা আক্তার তুরাগ থানাধীন বাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন জাঁকজমকপূর্ণ জীবনাকাঙ্ক্ষা, জীবনযাত্রায় উভয়ের রুচি ও চাহিদার অমোচনীয় বৈপরিত্য, স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর প্রতি নিদারুণ অসম্মানজনক আচরণ ও ইচ্ছাকৃত অযত্ন অবহেলা, স্ত্রীর অবাধ্যতা, আত্মীয়-অনাত্মীয় নির্বিশেষে পরিচিতজনদের নিকট মিথ্যা অপবাদ ও কুৎসার বিস্তার ঘটাতে থাকা, প্রকাশ্য অশান্তি ও বিশ্রী কলহ এবং ক্রমাগত চাপের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রের প্রচলিত সব আইন বিধিবিধান ও মুসলিম ধর্মাবলম্বী হিসেবে ধর্মীয় আচার ও রীতিনীতি প্রতিপালনপূর্বক সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সজ্ঞানে নিরাময় অযোগ্য কারণে দীর্ঘদিনের অসুস্থ ও অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের অনিবার্য পরিণতি হিসেবে সরকারি বিবাহ তালাক ও নিবন্ধন (কাজী) অফিসে তালাক দিতে বাধ্য হই।

অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম চিঠিতে লেখেন, এরপরেও বিভিন্ন সময়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আমার আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, জুনিয়র ও পরিচিতজনদের কাছে চরম অসত্য, বিভ্রান্তিমূলক ও মানহানিকর তথ্য ও বক্তব্য নানাভাবে প্রচার করে আমাকে কর্মস্থলে ও সামাজিকভাবে নিগৃহীত করার লক্ষ্যে অপমানকর পরিস্থিতি তৈরির অপরাধমূলক কর্মকণ্ডে অব্যাহত রেখেছেন এবং দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সংঘটিত একান্ত ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও গোপনীয় তথ্যের অনৈতিক ও বেআইনি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রায়শই ব্ল্যাকমেইল করার হীন প্রচেষ্টায় লিপ্ত হন। যা চরম অশান্তিজনক, বিরক্তিকর ও মর্মপীড়াদায়ক।

তিনি বলেন, ডিভোর্স নোটিশ প্রাপ্তি থেকে চূড়ান্ত নিবন্ধন পর্যন্ত ৩ মাস সময়কালে ওই বিষয়ে ডিভোর্স সংক্রান্তে বা অন্যবিধ কোনো আপত্তি বা অভিযোগ সে কোথাও দাখিল করেনি। আনুষ্ঠানিক বা পারিবারিকভাবে কোনো অভিযোগ বা নিষ্পত্তির উদ্যোগ বা প্রচেষ্টা না নিয়ে থাকলেও, তার সীমাহীন অর্থলিপ্সার বিষয়টি বিহিত করা আমার পক্ষে কখনোই সম্ভব ছিল না। কারণ চাকরির আয়ের বাইরে আমার অন্য কোনো ব্যবসা বাণিজ্য ছিল না ও নেই।

প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে, আমি চাকরিজীবনে কখনো কোনরূপ দুর্নীতি করিনি বা অবৈধ উৎস উদ্ভূত অর্থ বা সম্পদ সংগ্রহ করিনি, যা আমার পরিবারসহ পরিচিতজন সবাই সম্যকভাবে অবহিত। ফলে আমার সীমিত জ্ঞাত ও বৈধ আয়ের মধ্যেই ক্যান্সার সারভাইভার মায়ের ব্যয়বহুল চিকিৎসাসহ সব পারিবারিক চাহিদা প্রতিনিয়ত মেটাতে হয়।

অতিরিক্ত ডিআইজি চিঠিতে আরও উল্লেখ করেন, তার চরম বিরক্তিকর মানহানিকর অসত্য বানোয়াট ও বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ডে আমি ভীতসন্ত্রস্ত এবং মানহানি ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছি। এ ছাড়াও কর্মক্ষেত্রে আমার দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন করার তার অপপ্রয়াস আমাকে মানসিকভাবে অসুস্থ করে দিচ্ছে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার, বৈধভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ও পারিবারিক জীবন পুনর্গঠন করার আইনগত ও মৌলিক অধিকার রাষ্ট্র সমাজ ও ধর্ম আমাকে উপযুক্ত কারণেই অবারিতভাবে দিয়েছে মর্মে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

এসব ঘটনা উল্লেখ করে বর্ণিত বিষয়সমূহের উপযুক্ত ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তকে তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে ও উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার বদৌলতে ন্যায়বিচার প্রাপ্ত হয়ে সুষ্ঠুভাবে জীবনযাপন করতে সহায্য প্রার্থনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফাহিমা আক্তারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফাহিমা আক্তারের বড় ছেলে জয় বলেন, সেপারেশনের পরে আব্বু মাসে মাসে টাকা দিতো। যতটুক দরকার আব্বু ততটুকই টাকা দিতো, কম দিতো না কখনো। কিন্তু আম্মুর তাতেও হতো না। এক্সট্রা টাকার জন্য প্রেশার দিতো। আমাকে বলতো যে, তোর বাপ তো টাকা দেয় না। কিন্তু যা যা লাগছে সবই দিতো। আমাকে আব্বুর থেকে টাকা চাওয়ার জন্য প্রেশার দিতো। এটা তো নেওয়া যায় না। এরকম মাসের পর মাস চলতে থাকতো।
তিনি বলেন, ওইরকম টক্সিক এনভায়রনমেন্টে আমি থাকতে পারছি না। ওটা নিতে পারছি না। এজন্য আমি আমার ইউনিভার্সিটির পাশে বাসা নিয়ে একা থাকি।

মায়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জয় বলেন, আম্মুকে নিয়ে আমি আগেও ফোনে বলছি এবং ফেস টু ফেস বলছি। আর এখন যেটা বলব সেটা হচ্ছে, আম্মু যে ভুলগুলো করেছে এবং করছে প্রথমত সেটা অনৈতিক। উনি যে ভুলগুলো করছে বা যার ইনফ্লুয়েন্সে চলছে উনিও যে ভালো তাও কিন্তু না। একে তো ভুল ইনফরমেশনে চলছে আর ভুল ওয়েতে ডিমান্ড করছে। এটা তো লজিক্যালি বা ইথিক্যালি কোনোভাবেই ঠিক না। আর তোমার (মা) এই প্রেশারে আমার একাডেমিক লাইফে প্রবলেম হচ্ছে। পার্সোনাল লাইফে তো শুরু থেকেই প্রবলেম যাচ্ছে আমার সঙ্গে। আমি আগেও বুঝেছি। এগুলা বন্ধ করো। এগুলা করলে কিছুই হবে না, তোমার লস আমারও লস।

তিনি আরও বলেন, রিয়া জোয়ার্দার নামে একজনের সঙ্গে আমার আম্মুর কথা হয়। ওনার সঙ্গে যেরকমভাবে কথাবার্তা বলছে, আমার মনে হয় তার ইনফ্লুয়েন্সেই আম্মু এরকম করছে। ওনাদের মেইন কনসার্ন হচ্ছে আব্বুর থেকে টাকা বা প্রপার্টি কীভাবে আনা যায়। সেটা যেভাবেই হোক, ওনাদের এই একটাই গোল।

সাংবাদিকতায় ৫০ বছর পূর্ণ করা বরিশাল প্রেসক্লাবের পাঁচ সদস্যকে সংবর্ধনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিকতায় ৫০ বছর পূর্ণ করা বরিশাল প্রেসক্লাবের পাঁচ সদস্যকে সংবর্ধনা

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বরিশাল প্রেসক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ও আনন্দ ভ্রমণ। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে ১০ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দুইদিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের সাধারণ সভা এবং আনন্দ ভ্রমণ অনুষ্ঠানে নুতনত্ব ছিল সাংবাদিকতায় পঞ্চাশ বছরপূর্ণ করা বরিশাল প্রেসক্লাবের পাঁচজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। প্রথম বারের মতো এমন আয়োজন এবং শেষ বয়সে এমন সম্মাননা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সংবর্ধিত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।

এর আগে শুক্রবার বিকেল ৪টায় কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে হোটেল রয়েল হেরিটেজে অনুষ্ঠিত হয় বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৫। ক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরুর সভাপতিত্বে সভায় সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন।

এরপর উম্মুক্ত আলোচনা শেষে বরিশালে সাংবাদিকতায় ৫০ বছর পার করা বরিশাল প্রেসক্লাবের পাঁচজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে সম্মাননা পদক প্রদান করা হয় ক্লাবের পক্ষ থেকে। যাঁরা পদক পেয়েছেন তাঁরা হলেন- জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র বটব্যাল, অরূপ তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আলম ফরিদ, তপংকর চক্রবর্তী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অ্যাডভোকেট তপন চক্রবর্তী।

বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুরাদ আহমেদ, সাবেক সভাপতি ও আনন্দ ভ্রমণ বাস্তবায়ন উপ-পরিষদের আহবায়ক কাজী আল মামুন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ, নির্বাহী সদস্য কমলসেন গুপ্ত, সিনিয়র সদস্য আখতার ফারুক শাহীন ও ক্রীড়া সম্পাদক খান রুবেল।

জীবনের শেষ বয়সে এসে সাংবাদিকতার স্বীকৃতি এবং সম্মান পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মহান এই পেশায় ৫০ বছর উৎসর্গ করা সিনিয়র সাংবাদিকরা। তারা ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আয়োজকদের প্রতি। ভবিষ্যতেও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের এমন সম্মাননা প্রদানের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দেন প্রেসক্লাব সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

এদিকে সাধারণ সভা শেষে রাতে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‌্যাফেল ড্র’ এবং হাউজি খেলা। প্রেসক্লাব সদস্যদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে আরও প্রানবন্ত। এছাড়াও হাসি-ঠাট্টা এবং গল্প আড্ডায় মেতে ওঠেন সাংবাদিকরা।

বরিশালের ফুটপাত রাস্তা ও পার্ক থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণে নগর ভবনের নোটিশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
বরিশালের ফুটপাত রাস্তা ও পার্ক থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণে নগর ভবনের নোটিশ

 বরিশাল মহানগরীর অনেক রাস্তা ও ফুটপাত সহ পার্ক এবং শ্রান্তি বিনোদনের স্থানগুলো ক্রমশ অবৈধ দখলে চলে যাবার মধ্যে নবনিযুক্ত প্রশাসক তা উদ্ধারে তৎপড় হলেও কতটা সফলকাম হতে পারবেন সে বিষয়ে নগরবাসী সময়ের অপেক্ষা করছেন। আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে নগরীর ফুটপাত, রাস্তা এবং বিভিন্ন পার্ক সহ শ্রান্তি বিনোদণের স্থানগুলো থেকে সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ সম্বলিত মাইকিং চলছে নগর ভবনের পক্ষ থেকে। তবে ৮ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত কোন অবৈধ দখলদার সরকারি জায়গা ছেড়ে দেয়নি।

অপরদিকে নগরীর বেলপার্ক সহ বিভিন্ন পার্ক ও শ্রান্তি বিনোদনের স্থানগুলোতে বিদায়ি নগর প্রশাসক রায়হান কাওসারের সময় থেকে দৈনিক ভাড়ার ভিত্তিতে যে-সব দোকানপাট ও ভাসমান খাবারের দোকানসমুহ স্থাপন করে গন দুর্ভোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে নগর প্রশাসক কি করবেন, তাও দেখার অপেক্ষায় নগরবাসী।

নানা সমস্যা আর অনিয়মের বেড়াজালে বন্দী বরিশাল মহানগরীর প্রশাসক হিসেবে গত ১৬ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণ করে এ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন নগর ভবনের দুর্নীতি দুর সহ একটি সুশৃঙ্খল নগরী উপহার দেয়ার কথা বলছেন। ইতোমধ্যে তিনি দিনরাত নগরীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে চলেছেন। বিভিন্ন সমস্যা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করা সহ তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তও দিচ্ছেন। প্রেসক্লাবে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মত বিনিময় সহ নগর ভবনেও সর্বস্তরের মানুষের সাথে কথা বলে সবার মতামত গ্রহণ করেছেন। সমস্যা চিঞ্হিত করে সেভাবে এগুনোর চেষ্টাও করছেন নতুন প্রশাসক। এসব সভাগুলোতে নগর প্রশাসক নগরীর জনদুর্ভোগ সম্পর্কে ধারণা সহ নগরবাসীর চাহিদার বিষয়েও অবগত হয়েছেন।

কিন্তু পাহাড় পরিমাণ দুর্ভোগ, দুর্নীতি আর জঞ্জালের এ নগরীকে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থায় নিয়ে আসার দায়িত্ব যে নগর ভবনের, সেখানের প্রশাসকের পাশে কতজন আন্তরিক ও নিরলশ কর্মী তিনি পাবেন তা নিয়ে সন্দিহান সাধারণ নগরবাসীও।

এ নগরীতে ফুটপাত সহ সাধারণের চলাচলের রাস্তা দখলের মহোৎসব চলছে গত কয়েক বছর ধরে। এমনকি খোদ নগর ভবনের সামনে চকবাজার সড়ক ও ফজলুল হক এভেনিউ’র ফুটপাত পেরিয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত দখল হয়ে গেছে। নবগ্রাম রোড-চৌমহনী লেকের পাড় পেরিয়ে বরিশালÑফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কটিও বেদখল আর উদ্ধারের নানা খেলা প্রত্যক্ষ করছেন নগরবাসী।

এ নগরীর ঐতিহ্যবাহী বেলপার্ক সহ শ্রান্তি বিনোদনের যে সীমিত সুযোগ ছিল, তাও কেড়ে নিয়েছে অবৈধ দখলদারগন। এমনকি এসব পার্ক ও শ্রান্তি বিনোদণের স্থানগুলো বহু আগেই তার মূল চরিত্র হারিয়ে নগরবাসীর দুর্ভোগের স্থানে পরিণত হয়েছে। উপরন্তু মাস কয়েক আগে সাবেক নগর প্রশাসক রায়হান কাওসার ২৪ ঘণ্টার নোটিশ দিয়ে বেলপার্ক সহ কয়েকটি এলাকা থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার অল্প কয়েকদিনের মাথাই তারা প্রায় বৈধতা নিয়েই ফিরে এসেছে। এখন পুরো পার্কটি যুড়ে অবৈধ দখলদারদের রাজত্ব। এসব অবৈধ দোকানীগন এখন নগর ভবনের টোল কালেক্টরদের প্রতিদিন ২০ টাকা খাজনা (?) দিয়ে বৈধতা লাভ করেছে বলে দাবি করছে।

অনুরূপভাবে পুরো নগরীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখলদারদের রাজত্ব চলছে। এমনকি গত ২ এপ্রিল সিটি প্রশাসক নগরীর নবগ্রাম রোড-চৌমহনী লেকের অভ্যন্তরে ‘মিউজিক্যল ফোয়ারা’ স্থাপনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেও সে ভিত্তি ফলকের পাশে রাজকুমার ঘোষ রোডটির দক্ষিণ কোন সহ লেকটির দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব পাড়েও অবৈধ দোকানের অত্যাচারে পুরো লেকটি তার চরিত্র হারিয়েছে অনেক আগেই।

আর এরইমধ্যে আগামী ১০ এপ্রিল অবৈধ দখলদারদের স্বেচ্ছায় সরে যাবার ডেট লাইন নির্ধঅরিত আচে। সব অবৈধ স্থাপনা অপাসারনে গত সপ্তাহখানেক ধরে এ নগরীতে প্রচারণা চালাচ্ছে নগরভবন। কিন্তু নগরভবনের এ প্রচারণা ও উদ্যোগ কি লোক দেখানো, না দায়সারা ভাবে দায়িত্ব এড়ানো, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন নগরবাসী।

তবে বিষয়টি নিয়ে সিটি প্রশাসক বার বারই তার দৃঢ়তার কথা বলছেন। অপরদিকে প্রশাসক যে-সব সভাগুলো করেছেন সমাজের বিভিন্নস্তরের মানুষের সাথে, সবখানেই একটি কথা উঠে এসেছে, ‘এনগরীতে যারা করা দেয়, তাদের নানা নাগরিক সুবিধা সহ সুস্থ সমাজ ব্যবস্থাকে কার্যত অকার্যকর করে দিচ্ছে যারা কর দেয়না তারা’। এমনকি ‘এনগরীতে করদাতারই ক্রমশ অবাঞ্ছিত হয়ে যাচ্ছে’ বলেও অভিযোগ উঠেছে।

পাশাপাশি এসব অবৈধ স্থাপনার ৯০ ভাগই পথ খাবারের দোকান। আর ঐসব অস্বাস্থ্যকর পথ খাবারের দোকানের কারণে এনগরীর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাও ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর বরিশাল অঞ্চলের শুধু সরকারি হাসপাতালেই ৭৯ হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু ডায়রিয়া সহ নানা ধরনের পেটের পীড়া নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। যারমধ্যে বরিশাল মহানগরীরও প্রায় ১০ হাজার মানুষ রয়েছে।

চার সিটিতে হামের টিকাদান শুরু আজ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
চার সিটিতে হামের টিকাদান শুরু আজ

হামের প্রার্দুভাব ঠেকাতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় আজ রোববার থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টিকার কার্যক্রম চলবে।

 

এ ছাড়া আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী এই টিকা কার্যক্রম শুরু হবে, যা ১১ মে পর্যন্ত চলবে। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরা এই টিকা নিতে পারবে।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল প্রথম ধাপে দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট এলাকায় কার্যক্রম শুরু হয়। এগুলো দেশের ১৮ জেলার আওতাধীন ৩০টি উপজেলায়।

রোববার সকাল ৮টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ ওয়ার্ডের কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠে ‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডে তিনটি করে টিকাকেন্দ্র থাকবে।

চার লাখ ৯৪ হাজার ৬৮৯ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে ডিএনসিসি। ৬-৯ মাস বয়সি ৪৭ হাজার ৬৬৮ শিশুকে হামের টিকা দেবে ডিএনসিসি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফারিয়া ফয়েজ জানান, চার লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার টার্গেট রয়েছে তাদের।