খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩

‘সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে প্রমাণ হয়েছে তারেক রহমান নির্দোষ’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:০৪ অপরাহ্ণ
‘সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে প্রমাণ হয়েছে তারেক রহমান নির্দোষ’

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে তারেক রহমান নির্দোষ।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আপিল বিভাগের খালাসের রায়ের পর কায়সার কামাল এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এর আগে ২১ আগস্ট ৫ দিনের আপিল শুনানি শেষে ৪ সেপ্টেম্বর রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়। আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১ ডিসেম্বর সব আসামিকে খালাস দিয়ে রায় দেন। ১৯ ডিসেম্বর রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে।

গত ১ জুন হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত জিঘাংসা থেকে তারেক রহমানকে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় অন্যায়ভাবে অর্ন্তভুক্ত করেছিলেন। সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে তারেক রহমান নির্দোষ, এ কারণে তিনি খালাস পেয়েছেন।

এ রায়ের মাধ্যমে এটাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, শেখ হাসিনা প্রকৃত অর্থে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার চাননি- এমনটা উল্লেখ করে কায়সার কামাল বলেন, যদি শেখ হাসিনা প্রকৃত অপরাধীদের বিচার চাইতেন, আইভী রহমান হত্যার বিচার চাইতেন তাহলে জিঘাংসার বশবর্তী হয়ে তারেক রহমানকে অর্ন্তভুক্ত করতেন না। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলাটি চালানো হয়। অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা।

তবে হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক, সাবেক রাষ্ট্রপতি (প্রয়াত) জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী। ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা হয়।

তদন্ত শেষে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ১১ জুন দেওয়া অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন ও হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। দুই বছর তদন্তের পর ২০১১ সালের ৩ জুলাই ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে এ মামলায় মোট আসামির সংখ্যা হয় ৫২।

৫২ আসামির মধ্যে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও মুফতি হান্নান এবং তার সহযোগী শাহেদুল ইসলাম বিপুলের মৃত্যুদণ্ড অন্য মামলায় কার্যকর হয়। তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলার আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৯ জনে।

এ ঘটনার মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর দেওয়া বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন—লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজির সাবেক আমির ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির আহ্বায়ক মাওলানা শেখ আবদুস সালাম (কারাগারে মারা যান), কাশ্মীরি জঙ্গি আব্দুল মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা, মাওলানা শওকত ওসমান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. উজ্জ্বল, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম (কারাগারে মারা যান), হানিফ পরিবহনের মালিক বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ।

পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০২/১২০খ/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন আদালত।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হুজি সদস্য হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ (কারাগারে মারা যান), মাওলানা সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম মাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো. খলিল ওরফে খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল ওরফে ইকবাল হোসেন, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই, রাতুল আহমেদ ওরফে রাতুল বাবু।

তাদের দণ্ডবিধির ৩০২/১২০খ/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আশরাফুল হুদা ও শহুদুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভাগনে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, ডিজিএফআইয়ের মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, ডিএমপির সাবেক উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, আরেক সাবেক উপ-কমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খোদা বক্স চৌধুরী, সিআইডির সাবেক বিশেষ সুপার মো. রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ, সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমানকে দুই বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আরেকটি ধারায় খোদা বক্স চৌধুরী, রুহুল আমিন, আবদুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমানকে তিন বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেন আদালত। পরে ওই বছরের ২৭ নভেম্বর মামলার বিচারিক আদালতের রায় প্রয়োজনীয় নথিসহ হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছে। পাশাপাশি কারাবন্দি আসামিরা আপিল করেন।

গত বছরের ৩১ অক্টোবর আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শুরু হয়। এরপর গত ১ ডিসেম্বর দুটি মামলায় রায় দেন হাইকোর্ট।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

চীনের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে এই সম্মেলন শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী যোগদান করেছেন। সম্মেলনে আসা বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তিনি কথা বলছেন।’

এই ফোরামে অংশ নেওয়া চীনা বিনিয়োগকারী ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, নীতিগত সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত ও প্রত্যক্ষ ধারণা লাভ করবেন।

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ বা ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন তারেক রহমান। এর আগে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলোইস জভিংগি।

 

চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর-সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জবাবে আলোইস জভিংগি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগ বৈশ্বিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর আগ্রহ বাড়াবে ।

তিনি বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

বরিশালে আ.লীগের অপতৎপরতা ঠেকাতে মাঠে বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
বরিশালে আ.লীগের অপতৎপরতা ঠেকাতে মাঠে বিএনপি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ঘিরে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ ঠেকাতে বরিশাল নগরীতে মিছিল-শোডাউন করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। 

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঘিরে অপতৎপরতা ঠেকাতে পুলিশও চিরুনি অভিযানসহ বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়েছে। গত ১৫ দিনে আওয়ামী লীগের দেড় শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে নগর পুলিশ।

আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা ঠেকাতে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও শোডাউন করেছে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার। এর আগে নগরীতে শোডাউন ও মিছিল করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এছাড়াও ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা মিছিলসহ শোডাউন করেছে।

অন্যদিকে বরিশাল নগর পুলিশের চার থানায় গ্রেফতার করা হয়েছে আওয়ামী লীগের দেড় শতাধিক নেতাকর্মী।

বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, দিনটিকে ঘিরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা ঠেকাতে মাঠে রয়েছে পুলিশ। সন্দেহভাজনদের তল্লাশিসহ আটক করা হচ্ছে। পুলিশ নগরী নির্বিঘ্ন রাখতে তৎপর রয়েছে।

 

ইরানের ১২০০ কোটি ডলার তহবিল ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
ইরানের ১২০০ কোটি ডলার তহবিল ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

অন্তর্বর্তী চুক্তির শর্ত হিসাবে ইরানের ১২০০ কোটি ডলার জব্দ সম্পদ মুক্ত করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অর্থ ৬০০ কোটি ডলার করে দুদফায় ছাড় দেওয়া হবে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ তথ্য জানিয়েছেন। হরমুজ প্রণালি নিয়ে তিনি বলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখন থেকে তেহরান পরিচালনা করবে।

 

গালিবাফের উদ্ধৃতি দিয়ে মঙ্গলবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের জব্দ অর্থ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পদক্ষেপটি দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার তাৎক্ষণিক ফল। এ নিয়ে সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হয়েছে। গালিবাফ এ তহবিল মুক্তিকে সমঝোতা স্মারকের অধীনে তেহরানের অন্যতম প্রধান অর্জন বলে বর্ণনা করেন।

গালিবাফ আরও জানান, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল রপ্তানি, পেট্রোকেমিক্যাল ও সংশ্লিষ্ট উপজাত পণ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ ব্যাংকিং, বিমা ও পরিবহণ খাত পর্যন্ত বিস্তৃত।

যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপ হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের চলাচল বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং সাবেক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি এনশার বলেন, জাহাজ চলাচলের অগ্রগতি ইঙ্গিত দেয়-চুক্তিটির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘উভয়পক্ষই এটা দেখাতে খুব আগ্রহী যে, কোনোভাবে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন, অথবা অন্তত তাদের দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া হচ্ছে না।’

এএফপি লিখেছে, ছাড়ের অর্থ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সোমবার বলেন-এ অর্থ দিয়ে ইরান সয়াবিনসহ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য কিনতে সম্মত হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। জেনেভায় জাতিসংঘের দূত আলি বাহরাইনি এ দাবি অস্বীকার করে বলেন, ইরান সিদ্ধান্ত নেবে, তারা তাদের অর্থ কিসে ব্যবহার করতে চায়। তিনি জানান, শিগগিরই এ অর্থ মুক্ত হতে যাচ্ছে।

পাকিস্তান সফরে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে দেশটিতে গেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার সঙ্গে আছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও। মঙ্গলবার পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পাশাপাশি তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য ডন অনলাইন এ খবর জানিয়েছে। পাকিস্তানের সেনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি, জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দারও ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এটি পেজেশকিয়ানের দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর।

সাক্ষাৎকালে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ‘ভালো এবং খারাপ সময়ে’ ইরানের পাশে থাকার কথা বলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানান। এক বিবৃতিতে পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই দেশের প্রেসিডেন্ট দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক-বিশেষ করে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা, যোগাযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থ নিয়ে কথা বলেছেন।

আলী খামেনির দাফনের সময়সূচি ঘোষণা : ইরান সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের প্রথম হামলায় তিনি নিহত হন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অনুসারে, অনুষ্ঠানগুলো ৪ জুলাই তেহরানে শুরু হয়ে ৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে। ৭ জুলাই শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কোমে স্থানান্তর করা হবে। ৯ জুলাই খামেনিকে তার জন্মস্থান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে দাফন করা হবে।

অংশগ্রহণ সহজ করার জন্য কর্তৃপক্ষ দাফনের প্রধান অনুষ্ঠানগুলোর সময় তেহরানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, তেহরানের অনুষ্ঠানগুলোতে প্রায় ২ কোটি মানুষ অংশ নেবেন। দাফন কার্যক্রম মূলত মার্চে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধের কারণে তা স্থগিত করা হয়।