খুঁজুন
শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩ মাঘ, ১৪৩২

লঘুচাপে সাগর উত্তাল, ট্রলার নিয়ে উপকূলে ফিরছেন জেলেরা

বরগুনা প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
লঘুচাপে সাগর উত্তাল, ট্রলার নিয়ে উপকূলে ফিরছেন জেলেরা

কয়েকদিন ধরে লঘুচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। সাগর অতিমাত্রায় উত্তাল থাকায় বরগুনার অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার উপকূলে ফিরে আসছে। আবার কিছু ট্রলার গভীর সমুদ্র থেকে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিয়েছে।

জেলেরা জানান, গত মঙ্গলবার থেকে সাগর উত্তাল থাকায় কাঙ্ক্ষিত ইলিশ আহরণ বন্ধ রয়েছে। ফলে ভরা মৌসুমে ইলিশ আহরণ করতে না পারায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন জেলেরা।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস থেকে জানা গেছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, মোংলা, কক্সবাজার ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচল করতে বলা হয়েছে। এই অবস্থা আগামী কয়েক দিন পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া সূত্র জানায়।

এদিকে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে উপকূলের জেলেরা অনেক আশা নিয়ে সাগরে ইলিশ শিকারে যান। এর মধ্যে দুই দফায় বৈরী আবহাওয়ায় তাঁদের সে আশায় গুড়ে বালি পড়ে।

পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকার জেলে হোসেন মাঝি বলেন, ‘এ বছর অনেক টাহা দাদন লইয়া সাগরে গেছিলাম। আমার সব শেষ। দুই বার গাঙে টিকতে না পাইরা ফিরইয়া আইছি। জানি না কপালে কী আছে। এহন যে অবস্থা, বসতভিটা বেইচ্যা দেনা শোধ করতে হবে।’ এই কষ্ট শুধু হোসেন মাঝির নয়, জেলার সমুদ্রগামী সব জেলের একই অবস্থা।

স্থানীয় জেলেরা জানান, হঠাৎ সাগর উত্তাল হয়ে পড়ায় তাঁরা ঝুঁকি না নিয়ে ঘাটে ফিরেছেন। জেলার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র (বিএফডিসি), চরদুয়ানী, বরগুনা সদর ও তালতলী মৎস্যঘাটে কয়েক শ ট্রলার নোঙর করেছে।

অন্যদিকে পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মাছ ধরার ট্রলারের মালিকেরা। এফবি আল্লাহর দান ১, ২ ও ৩ ট্রলারে মালিক আবুল হোসেন ফরাজী বলেন, ‘এক মাস ধরেই পর্যায়ক্রমে গভীর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ চলছে। বাজার-সওদা করে সমুদ্রে মাছ শিকারের জন্য পাঠালেও নিম্নচাপের কারণে ফিরে আসতে হয়েছে খালি হাতে। আমার তিনটি ট্রলারে গত এক মাসে ১৪ লাখ টাকার বাজার-সওদা করে পাঠিয়েছি মাছ শিকারে। এই ১৪ লাখ টাকা খরচ করে মাছ বিক্রি করতে পেরেছি মাত্র ৪ লাখ টাকার। গত এক মাসে আমার ১০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এই লোকসানে বেশি প্রভাব পড়েছে আমরা ট্রলারমালিক এবং জেলেদের ওপর। গত বছরের চেয়ে এ বছরে সমুদ্রে আবহাওয়া খুব বেশি খারাপ রয়েছে।’ এভাবে চলতে থাকলে এই পেশাটা ছেড়ে দিতে হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বরগুনা মৎস্যজীবী ট্রলারমালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৪০০ ট্রলার জেলেদের নিয়ে মাছ শিকার বন্ধ করে উপকূলে ফিরে এসেছে। এ বছর জেলেদের একের পর এক সমস্যা লেগেই রয়েছে। কখনো সরকার নির্দেশিত মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা, আবার প্রাকৃতিকভাবে কখনো সাগরে উত্তাল—এ নিয়ে বিপাকের মধ্যে রয়েছেন জেলেরা।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে সমুদ্র বেশ উত্তাল রয়েছে। পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলজুড়ে ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

 

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায়  নিহত ৩

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার তাঁতিবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এ দিকে দুর্ঘটনার পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। এতে ভোগান্তিতে পড়েন দক্ষিণ অঞ্চলের বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার যাত্রীরা।

মাদারীপুরের মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রাজৈরের টেকেরহাট থেকে একটি কাভার্ডভ্যান বরিশালের দিকে যাচ্ছিল। মাঝপথে সদর উপজেলার তাঁতিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে অপর দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানকে সামনে থেকে চাপা দেয় ওই কাভার্ডভ্যানটি। এতে ঘটনাস্থলেই নারীসহ দুই ভ্যানযাত্রী নিহত হন। আহত হন দুজন। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শহর শয্যা জেলা হাসপাতালে নিলে সেখানে মারা যান এক নারী।

বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা চেয়ে আদালতে আবেদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা চেয়ে আদালতে আবেদন

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিটে বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত হতে পৃথক তিনটি আবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এদিকে চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা চেয়ে আদালতে আবেদন দিয়েছে রিট আবেদনকারীপক্ষ। বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন নথিভুক্ত করে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন রেখেছেন।

পক্ষভুক্ত হতে যাঁরা আবেদন দিয়েছেন তাঁরা হলেন বার্থ অপারেটর এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন সেলিম, স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির পক্ষে প্রধান সমন্বয়ক জিয়াউল হক ও শ্রমিকনেতা তসলিম উদ্দিন।

এর আগে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিটের ওপর গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বিভক্ত রায় দেন বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

২০১৫ সালের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) আইন ও ২০১৭ সালের জিটুজির নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব। এর সঙ্গে একমত নন উল্লেখ করে বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট আবেদন (রুল ডিসচার্জ) খারিজ করে রায় দেন।

এ অবস্থায় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে একটি একক বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি। বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হয়। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রিটটি আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত বলেন, অবকাশ শেষে রিটটি শুনবেন। অবকাশ শেষে ৪ জানুয়ারি নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শুরু হয়।

আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী হেলাল চৌধুরী শুনানিতে অংশ নেন। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আনোয়ার হোসেন। শাহাদাত হোসেন সেলিমের পক্ষে আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ কে এম ফয়েজ এবং শ্রমিকনেতা তসলিম উদ্দিনের পক্ষে আইনজীবী সাকিব মাহবুব শুনানিতে ছিলেন।

‘হাইকোর্টের দ্বিধাবিভক্ত রায় সত্ত্বেও এনসিটির চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে’ শীর্ষক বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন যুক্ত করে স্থিতাবস্থা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারীর আইনজীবী আনোয়ার হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিভক্ত রায়ের পর রুলের ওপর বিষয়বস্তুতে ৪ ও ৮ জানুয়ারি এবং আজ শুনানি হয়। তৃতীয় বেঞ্চে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাই চলমান প্রক্রিয়ার ওপর স্থিতাবস্থা চেয়ে আজ আবেদনটি দাখিল করা হয়, যা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পৃথক ব্যক্তি–সংগঠনের পক্ষে রিটে বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত হতে তিনটি আবেদন দাখিল করা হয়েছে, যা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

শ্রমিকনেতা তসলিম উদ্দিনের আইনজীবী সাকিব মাহবুব প্রথম আলোকে বলেন, রিটে বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত হতে আবেদন দাখিল করা হয়েছে। আবেদনটি নথিতে রেখেছেন আদালত। পক্ষভুক্ত হতে করা আবেদনকারীদের বক্তব্য শুনবেন বলেছেন আদালত। সে জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন রেখেছেন। রিট সমর্থন করে শুনানিতে অংশ নেবেন বলেন জানান এই আইনজীবী।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক হয়। এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন গত বছর ওই রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৩০ জুলাই হাইকোর্ট রুল দেন। রুলের ওপর শুনানি শেষে গত ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে বিভক্ত রায় হয়।

চালু এই টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির আওতায় জিটুজি ভিত্তিতে টার্মিনালটি ছেড়ে দেওয়ার এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন, পেশাজীবী ও শ্রমিকেরা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন।

২০০৭ সালে বন্দর এই টার্মিনাল নির্মাণ করে। টার্মিনালটি নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সংযোজনে বন্দর কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে মোট ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার আগপর্যন্ত চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেডের এই টার্মিনাল পরিচালনা করার কথা রয়েছে।

ইরানের অস্থিরতা কতটা বদলে দেবে বিশ্ব রাজনীতির চিত্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
ইরানের অস্থিরতা কতটা বদলে দেবে বিশ্ব রাজনীতির চিত্র

ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারের মানচিত্র বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে ৯ কোটি মানুষের দেশটিতে রাজধানী তেহরানসহ কয়েক ডজন শহরে কয়েক লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়ন ও শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা দমে না গিয়ে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের অবসান চাইছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিশ্বনেতা ও বিনিয়োগকারীরা এখন উদ্বেগের সঙ্গে তেহরানের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। সিআইএ’র সাবেক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম উশার এই সময়টিকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বিক্ষোভের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি ও মুদ্রার মানের চরম অবনতি। মার্কিন ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অন্তত ৫০০ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে ইন্টারনেট ও টেলিফোন নেটওয়ার্ক প্রায় বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এই অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইলন মাস্কের স্টারলিংক পরিষেবার মাধ্যমে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ চালুর বিষয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ইরানের এই টালমাটাল অবস্থা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ এবং ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরোর পর ইরানকেও হারালে মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার প্রভাব মারাত্মকভাবে খর্ব হবে।

অন্যদিকে জ্বালানি বাজারেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যেই ৫ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৬৩ ডলার ছাড়িয়েছে। ওপেকের চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশটিতে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন।