খুঁজুন
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩

মুলাদীতে মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ জেলেদের

মুলাদী প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:১৭ অপরাহ্ণ
মুলাদীতে মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ জেলেদের

বরিশালের মুলাদীতে উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল বাশারের বিরুদ্ধে জেলেদের কাছ থেকে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জেলেদের দাবি, দালাল চক্রের মাধ্যমে তাঁদের কাছ থেকে উৎকোচ নেন আবুল বাশার। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় মুলাদী সদরে আবুল বাশারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও উপজেলা চত্বরে মানববন্ধন করেন জেলেরা। মানববন্ধন শেষে মৎস্য কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেন জেলেরা।

মানববন্ধনে জেলেরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ জাল জব্দ করে পরে চড়া দামে বিক্রি, ঘুষের বিনিময়ে জব্দ জাল ছেড়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মেরও অভিযোগ তোলেন। জেলেরা বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল বাশার যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছেন। দালালদের ছত্রছায়ায় উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারী ও বাঁধা জাল বিক্রি হচ্ছে। নদীতে বাঁধা জাল, কারেন্ট জাল ও চরঘেরা জাল দিয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও রেণুপোনা ধ্বংস করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। মসোহারা নিয়ে এসব জেলে ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না মৎস্য কর্মকর্তা।

চরকালেখান ইউনিয়নের ষোলঘর গ্রামের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন ব্যাপারী অভিযোগ করেন, মৎস্য কর্মকর্তা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দালাল নিয়োগ দিয়ে মৌসুমি ও অসাধু জেলেদের কাছ থেকে মাসোহারা নেন। যেসব জেলে মাসোহারা দিতে অস্বীকার করেন, তাদের জাল নিয়ে পুড়িয়ে দেন তিনি। আর যেসব জেলে ও ব্যবসায়ী মাসোহারা দেন, তাঁরা অবাধে কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারী ও চরঘেরা জাল দিয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছ নির্বিচারে ধ্বংস করছেন।

উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম মাঝি বলেন, অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ীরা মৎস্য কর্মকর্তাকে মাসোহারা দিয়ে উপজেলার মনষাগঞ্জ, নন্দীরবাজার, মিয়ারচর, নাতিরহাট, আলীমাবাদসহ কমপক্ষে ২০টি স্পটে বাঁধা জাল দিয়ে মাছ ধরছেন। মৎস্য প্রশাসন এসব জায়গায় অভিযান চালালেও বাঁধাজাল দিয়ে মাছ শিকারি জেলেদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের নাতিরহাট এলাকার জেলে মো. মনির হোসেন বলেন, কয়েক দিন আগে নাতিরহাট এলাকায় আজাদ তালুকদার নামের এক ব্যবসায়ীর লক্ষাধিক টাকার একটি বাধা জাল জব্দ করেছিলেন মৎস্য কর্মকর্তা আবুল বাশার। ওই সময় অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ওই জাল ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। অথচ পশ্চিম তেরচর গ্রামের জাকির হোসেন, মিজানুর রহমানের বাঁধা জাল নিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

সফিপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের জেলে আব্দুল মালেক ব্যাপারী অভিযোগ করেন, মৎস্য কর্মকর্তা আবুল বাশার তাঁকে দিয়ে ১২ হাজার টাকার মাছ কিনেছিলেন। ওই মাছ নিলেও মৎস্য কর্মকর্তা কোনো টাকা দেননি তাঁকে। টাকা চাইতে গেলে ভয় দেখানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জেলেদের তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার। তিনি দাবি করেন, জেলেদের জাল পোড়ানো হয়েছে বলে তাঁরা তাঁর নামে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কেউ মাসোহারা নেয় না। কোনো জেলের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই।

ইউএনও মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে জেলেরা মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইরান সীমান্ত থেকে মার্কিন বাহিনী এক হাজার কিলোমিটার দূরে পালিয়ে গেছে: আইআরজিসির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ণ
ইরান সীমান্ত থেকে মার্কিন বাহিনী এক হাজার কিলোমিটার দূরে পালিয়ে গেছে: আইআরজিসির

রানি বাহিনী তাদের সীমান্ত থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে সরে যেতে বাধ্য করেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি।

ইরানের প্রেস টিভির বরাত দিয়ে আল-জাজিরা বলেছে, টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাদাভি বলেছেন, ‘মার্কিনরা পালিয়ে গেছে এবং আমাদের সীমান্ত থেকে ১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে সরে গেছে। তারা নিজেদের ইচ্ছায় সরে যায়নি; ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও আইআরজিসির স্থলবাহিনীর ক্ষমতার কারণেই তারা এটি করতে বাধ্য হয়েছে।

ফাদাভি আরও দাবি করেন, এই প্রথম পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এমনকি উত্তর ভারত মহাসাগরেও কোনো মার্কিন জাহাজ নেই। তিনি আরও বলেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো আইআরজিসির হামলার শিকার হওয়ার ‘১০০ শতাংশ ঝুঁকিতে রয়েছে’।

ফাদাভির এই দাবি এমন সময়ে এল, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোয় কঠোর নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ‘কঠোরভাবে নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে’ জুলাই থেকে তারা ১২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

ইরানের ৫ তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা, জর্ডানে পালটা আক্রমন তেহরানের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
ইরানের ৫ তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা, জর্ডানে পালটা আক্রমন তেহরানের

ওমান উপসাগর ও খারগ দ্বীপের কাছে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলার জবাবে ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটি আল-আজরাক লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে অন্তত দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবিও করেছে তেহরান।

এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের আইআরজিসি গত দুই দিনে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে দু’বার লক্ষ্য করার চেষ্টা করেছিল। তবে জাহাজটি সফলভাবে হামলা এড়িয়ে যায়।

সেন্টকমের দাবি, এরপর মার্কিন বাহিনী ওমান উপসাগরে থাকা ইরানের চারটি তেলবাহী জাহাজ—‘কাভিজ’, ‘চারমিনার’, ‘হরাইজন-১’ ও রিয়েস্কো—এবং খারগ দ্বীপের কাছে থাকা ‘দেরিয়া’ নামের আরেকটি জাহাজে হামলা চালায়।

 

হামলার আগে জাহাজগুলোর নাবিকদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পরে মার্কিন বাহিনী এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে ‘রিয়েস্কো’ নামের একটি জাহাজকে ওমান উপসাগরে ডুবে যেতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি খারগ দ্বীপের কাছে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধের আগে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে হতো বলে জানানো হয়েছে।

আইআরআইবি জানায়, ওই হামলায় জাহাজের নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ওমান উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাস্ক বন্দরের কাছেও আরেকটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে।

পরে আইআরজিসি জানায়, মোট পাঁচটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

 

এর জবাবে জর্ডানের আল-আজরাক মার্কিন ঘাঁটিতে ‘তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার কয়েকটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

এ ছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর ‘ডিডিজ-১১৯’ ও ‘ডিডিজি-৫৩’ নামের দুটি ডেস্ট্রয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেগুলোতে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি’ করার দাবিও করেছে ইরান।

তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সাগরে লঘুচাপের শঙ্কা, দেশে টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
সাগরে লঘুচাপের শঙ্কা, দেশে টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন সারা দেশে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে পূবাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এতে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

প্রথম দিনের পূর্বাভাস (৯ সেপ্টেম্বর): ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

দ্বিতীয় দিনের পূর্বাভাস (১০ সেপ্টেম্বর): রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং অন্যান্য বিভাগগুলোর কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

তৃতীয় ও চতুর্থ দিনের পূর্বাভাস (১১-১২ সেপ্টেম্বর): ১১ সেপ্টেম্বর সিলেট ও ময়মনসিংহে বৃষ্টিপাত বেশি থাকতে পারে। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমে এসে দেশের বিভিন্ন বিভাগের দু-এক জায়গায় স্থায়ী হতে পারে। এ সময়ে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য ওঠানামা করতে পারে।

পঞ্চম দিনের পূর্বাভাস (১৩ সেপ্টেম্বর): দেশের আটটি বিভাগেরই দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।