খুঁজুন
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩

মৌলিক চাহিদার কথা জানে না রঙ্গিলারা

ফিরোজ গাজী
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
মৌলিক চাহিদার কথা জানে না রঙ্গিলারা

চরবাড়িয়ার রঙ্গিলা আক্তার (১৮)। নৌকায় জন্ম, নৌকায় বেড়ে ওঠা, আর নৌকাতেই বিয়ে। মাছ ধরে সংসার চালান তিনি। তিনি বলেন, “মৌলিক চাহিদার কথা জানি না। শুধু মাছ ধরে বাঁচি।” একইভাবে, জোসনা বেগম বলেন, “জন্ম থেকে নদীই আমার ঘর। মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকলে না খেয়ে থাকি। কোনো সাহায্য পাই না।” বুখাইনগরের মরিয়ম বেগমের কথাও একই, “রোদ-বৃষ্টি, ঝড়-তুফান সব সহ্য করি। মাছ না ধরলে খাবার জোটে না।”

লাহারহাটের দুলাল, খোকন ও জসিম জানান, তিন পুরুষ ধরে তারা নৌকায় বাস করছেন। নদীতে মাছ কমে যাওয়া এবং মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের পরিবার প্রায়ই না খেয়ে থাকে। সরকারি কোনো সহায়তা তারা পান না।

বরিশালের চরবাড়িয়া, লাহারহাট ও বুখাইনগরের নদীতে ভাসমান নৌকায় জন্ম, বিয়ে, এমনকি মৃত্যু—এভাবেই জীবন কাটছে মানতা সম্প্রদায়ের মানুষদের। মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা এই সম্প্রদায় মৌলিক অধিকার, নাগরিক সেবা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জন্ম সনদের অভাবে নাগরিকত্ব না থাকা, ভিটে-মাটি না থাকায় দাফনের জায়গার সংকট, এমনকি দোকান থেকে বাকিতে নিত্যপণ্য না পাওয়া—এসব সমস্যায় জর্জরিত তাদের জীবন।

মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চনা
মানতা সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষের জন্ম সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই। ফলে তারা সরকারি সেবা, যেমন স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। ভিটে-মাটি না থাকায় মৃতদের দাফনের জায়গা খুঁজে পেতেও সমস্যায় পড়তে হয়। এমনকি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের বাকিতে পণ্য দিতে চান না।

সমাজকর্মী সাইদুর রহমান পান্থ বলেন, “মানতা সম্প্রদায় খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত। আমরা ‘এনহ্যান্সিং ইনফরমেশন অ্যান্ড ইনক্লুশন অব ফিশারফোক উইমেন’ প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছি।” তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের জন্ম সনদ ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

স্বাস্থ্য সংকট ও নারীদের দুর্দশা
চন্দ্রদ্বীপ ডেভলপমেন্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক জাহানারা বেগম স্বপ্না জানান, “৯৩ শতাংশ মানতা নারী বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। তাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা জরুরি।” তিনি সরকারের কাছে এই সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।

সরকারি উদ্যোগ
বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, “মানতা সম্প্রদায়ের জন্য সরকার কাজ করছে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের জেলে হিসেবে তালিকাভুক্তি এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে।” তিনি জানান, এই সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনতে কাজ চলমান।

পথচলার দাবি
মানতা সম্প্রদায়ের মানুষ নৌকায় জীবনযাপন করলেও তাদের স্বপ্ন একটি স্থিতিশীল জীবন। নাগরিকত্ব, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবিকার নিশ্চয়তা তাদের জন্য এখনো দূরের স্বপ্ন। সরকার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে এই সম্প্রদায়কে মূলধারায় আনার সময় এসেছে।

 

ইরান সীমান্ত থেকে মার্কিন বাহিনী এক হাজার কিলোমিটার দূরে পালিয়ে গেছে: আইআরজিসির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ণ
ইরান সীমান্ত থেকে মার্কিন বাহিনী এক হাজার কিলোমিটার দূরে পালিয়ে গেছে: আইআরজিসির

রানি বাহিনী তাদের সীমান্ত থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে সরে যেতে বাধ্য করেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি।

ইরানের প্রেস টিভির বরাত দিয়ে আল-জাজিরা বলেছে, টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাদাভি বলেছেন, ‘মার্কিনরা পালিয়ে গেছে এবং আমাদের সীমান্ত থেকে ১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে সরে গেছে। তারা নিজেদের ইচ্ছায় সরে যায়নি; ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও আইআরজিসির স্থলবাহিনীর ক্ষমতার কারণেই তারা এটি করতে বাধ্য হয়েছে।

ফাদাভি আরও দাবি করেন, এই প্রথম পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এমনকি উত্তর ভারত মহাসাগরেও কোনো মার্কিন জাহাজ নেই। তিনি আরও বলেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো আইআরজিসির হামলার শিকার হওয়ার ‘১০০ শতাংশ ঝুঁকিতে রয়েছে’।

ফাদাভির এই দাবি এমন সময়ে এল, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোয় কঠোর নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ‘কঠোরভাবে নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে’ জুলাই থেকে তারা ১২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

ইরানের ৫ তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা, জর্ডানে পালটা আক্রমন তেহরানের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
ইরানের ৫ তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা, জর্ডানে পালটা আক্রমন তেহরানের

ওমান উপসাগর ও খারগ দ্বীপের কাছে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলার জবাবে ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটি আল-আজরাক লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে অন্তত দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবিও করেছে তেহরান।

এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের আইআরজিসি গত দুই দিনে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে দু’বার লক্ষ্য করার চেষ্টা করেছিল। তবে জাহাজটি সফলভাবে হামলা এড়িয়ে যায়।

সেন্টকমের দাবি, এরপর মার্কিন বাহিনী ওমান উপসাগরে থাকা ইরানের চারটি তেলবাহী জাহাজ—‘কাভিজ’, ‘চারমিনার’, ‘হরাইজন-১’ ও রিয়েস্কো—এবং খারগ দ্বীপের কাছে থাকা ‘দেরিয়া’ নামের আরেকটি জাহাজে হামলা চালায়।

 

হামলার আগে জাহাজগুলোর নাবিকদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পরে মার্কিন বাহিনী এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে ‘রিয়েস্কো’ নামের একটি জাহাজকে ওমান উপসাগরে ডুবে যেতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি খারগ দ্বীপের কাছে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধের আগে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে হতো বলে জানানো হয়েছে।

আইআরআইবি জানায়, ওই হামলায় জাহাজের নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ওমান উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাস্ক বন্দরের কাছেও আরেকটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে।

পরে আইআরজিসি জানায়, মোট পাঁচটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

 

এর জবাবে জর্ডানের আল-আজরাক মার্কিন ঘাঁটিতে ‘তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার কয়েকটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

এ ছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর ‘ডিডিজ-১১৯’ ও ‘ডিডিজি-৫৩’ নামের দুটি ডেস্ট্রয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেগুলোতে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি’ করার দাবিও করেছে ইরান।

তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সাগরে লঘুচাপের শঙ্কা, দেশে টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
সাগরে লঘুচাপের শঙ্কা, দেশে টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন সারা দেশে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে পূবাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এতে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

প্রথম দিনের পূর্বাভাস (৯ সেপ্টেম্বর): ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

দ্বিতীয় দিনের পূর্বাভাস (১০ সেপ্টেম্বর): রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং অন্যান্য বিভাগগুলোর কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

তৃতীয় ও চতুর্থ দিনের পূর্বাভাস (১১-১২ সেপ্টেম্বর): ১১ সেপ্টেম্বর সিলেট ও ময়মনসিংহে বৃষ্টিপাত বেশি থাকতে পারে। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমে এসে দেশের বিভিন্ন বিভাগের দু-এক জায়গায় স্থায়ী হতে পারে। এ সময়ে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য ওঠানামা করতে পারে।

পঞ্চম দিনের পূর্বাভাস (১৩ সেপ্টেম্বর): দেশের আটটি বিভাগেরই দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।