খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

ভারত-পাকিস্তান সংঘাতকে ‘কাজে লাগিয়ে’ নিজেদের অস্ত্রের পরীক্ষা করেছিল চীন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১৮ অপরাহ্ণ
ভারত-পাকিস্তান সংঘাতকে ‘কাজে লাগিয়ে’ নিজেদের অস্ত্রের পরীক্ষা করেছিল চীন

চীন গত মে মাসে ‘সুযোগ বুঝে’ ভারত-পাকিস্তান সংঘাতকে তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ‘পরীক্ষা ও প্রচারের’ জন্য কাজে লাগিয়েছে। দ্বিদলীয় মার্কিন কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিং চার দিনের এই সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে তাদের আধুনিক অস্ত্রের পরীক্ষা ও বিজ্ঞাপন চালিয়েছে। ভারতের সঙ্গে তাদের চলমান সীমান্ত উত্তেজনা ও তাদের সম্প্রসারিত প্রতিরক্ষা শিল্পের লক্ষ্য পূরণে এটি সহায়ক হবে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘এই সংঘর্ষে প্রথম চীনের আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা—যার মধ্যে রয়েছে এইচকিউ–৯ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, পিএল–১৫ আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং জে–১০ যুদ্ধবিমান সক্রিয় যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি বাস্তব অর্থে মাঠের পরীক্ষা হিসেবে কাজ করেছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরপর চীন নাকি জুনে পাকিস্তানকে জে–৩৫ পঞ্চম প্রজন্মের ৪০টি যুদ্ধবিমান, কেজে–৫০০ বিমান এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল।

কমিটির শুনানি ও গবেষণা এবং প্রকাশ্যে আসা তথ্য ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের কয়েক সপ্তাহ পর চীনের দূতাবাসগুলোও ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে তাদের অস্ত্রব্যবস্থার ‘সাফল্যের’ প্রশংসা করে, যা ‘অস্ত্র বিক্রি বৃদ্ধির’ চেষ্টা ছিল।

প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, মে মাসের এই সংঘাতকে ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ বলা হলে ‘উসকানিদাতা’ হিসেবে চিনের ভূমিকাকে বাড়িয়ে বলা হবে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুসারে, চীন ফরাসি রাফাল বিপক্ষে তাদের নিজস্ব জে–৩৫-এর পক্ষে ভুয়া প্রচার শুরু করে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং ভিডিও গেমের ছবি প্রচার করে দাবি করে, সেগুলো চীনের অস্ত্রে ধ্বংস হওয়া যুদ্ধবিমানগুলোর ‘ধ্বংসাবশেষ’।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারা ইন্দোনেশিয়াকে ফ্রান্সের সঙ্গে প্রক্রিয়াধীন থাকা রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি থামাতে রাজি করিয়েছিলেন।

তবে, চীন এসব প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া তথ্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং রাফাল নিয়ে ভুয়া তথ্য প্রচারের বিষয়ে ব্রিফিংয় এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আপনারা যে তথাকথিত কমিশন’-এর কথা বলছেন, তারা সবসময় চীনের প্রতি আদর্শগত বিদ্বেষ পোষণ করে। তাদের বলার মতো বিশ্বাসযোগ্য কোনো কিছু নেই।

 

জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সশস্ত্রগোষ্ঠীর হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিল।

ভারত এই হামলায় জড়িতদের পাকিস্তানের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে বলে ভারত অভিযোগ করে। তবে পাকিস্তান এই অভিযোগ নাকচ করে দেয়। গত ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নাম দিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালিয়ে বসে। জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা আঘাত করে।

পাল্টাপাল্টি হামলার পর দুইপক্ষের মধ্যে সংঘাত বেঁধে যায়। এই সংঘাত চার দিন ধরে চলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর মধ্যস্থতায় ১০ মে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। তবে নরেন্দ্র মোদি সরকার ট্রাম্পের এই দাবি অস্বীকার করেছে। নয়াদিল্লি দাবি করেছে, ভারত–পাকিস্তান কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত বন্ধে রাজি হয়।

৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

ডিসেম্বর মাসের প্রথম আট দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। এ জন্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে মূলত প্রবাসী ও রপ্তানি আয়ের ধারাকে সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার এই ডলার কেনা হয়।

এ সময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ২৭ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ২৯ পয়সা পর্যন্ত। কাট-অফ রেট ১২২ টাকা ২৯ পয়সা, যা মাল্টিপল প্রাইস নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা যায়, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এ পর্যন্ত নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ২৫১ কোটি ৪০ লাখ (২ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার) ডলার কিনেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ জুলাই থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি মাসের ১ থেকে ৮ ডিসেম্বর সময়ে দেশে ১০০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। এর মধ্যে ৮ ডিসেম্বর এসেছে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ৮৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ শতাংশ।

পাশাপাশি গত জুলাই থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৪০৪ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ১৯৬ কোটি ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন সমাবেশ, আন্দোলন করা থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সতর্ক করে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত যে কোনো ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন আন্দোলন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যারা বেআইনিভাবে সভা-সমাবেশে অংশ নেবেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর হয়- এটিই বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য। একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য যা যা করণীয় সরকার সেই দিকেই মনোনিবেশ করছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনী নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রায় নয় লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদনহীন সভা–সমাবেশ ও আন্দোলন নিয়ে সতর্ক করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, অনেকেরই নায্য দাবি-দাওয়া রয়েছে। গত দেড় বছরে দুই হাজারের বেশি আন্দোলন-বিক্ষোভ সংঘটিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীরা দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেছেন। সরকার নায্য দাবিতে সব সময়ই সাড়া দিয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাতে চেষ্টা করেছে।

‘কিন্তু আমরা এখন নির্বাচনমুখী সময়ে আছি। এ কারণে সকলের যা কিছু দাবি-দাওয়া আছে তা নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। আমরা আশা করব, এ সময়ের মধ্যে কেউ দাবি-দাওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি বা স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্ন করবেন না।’

চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

ত্রয়োদশ ‎জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহে হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল কখন ঘোষণা করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘এই সপ্তাহে তফসিল হয়ে যাবে।’

দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির দপ্তরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিইসি। সাক্ষাৎ শেষে প্রধান বিচারপতির দপ্তর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। দুপুর দেড়টার দিকে সিইসি সুপ্রিম কোর্টে এলে তাঁকে স্বাগত জানান সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ওনার (প্রধান বিচারপতি) সাথে কথা হয়েছে। উনি অবসরে চলে যাচ্ছেন। একটা ফেয়ারওয়েল কল (বিদায়ী সাক্ষাৎ) করতে এসেছি ওনার সাথে।…উনি এ মাসে অবসরে যাবেন। আমরা একসাথে কাজ করেছি। সে জন্য ওনার সাথে একটা ফেয়ারওয়েল কলের মতো, সৌজন্য সাক্ষাৎ আছে না একটা, ফেয়ারওয়েল কল করতে এসেছিলাম ওনার সঙ্গে। অন্য কোনো বিষয় নয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’ (নির্বাচনী তদন্ত কমিটি) যাতে ওনারা ডিপ্লয় করবেন, আমাদের তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে। এই কাজটা যাতে উনি ত্বরান্বিত করেন, সে বিষয়ে ওনাকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

প্রধান বিচারপতি কী আশ্বাস দিয়েছেন—এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘উনি (প্রধান বিচারপতি) জাস্ট, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির যে লোকজন দেওয়ার কথা আছে, ডেপ্লয়মেন্ট আছে, সে ব্যাপারে ওনারা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং নেবেন, কোনো অসুবিধা হবে না বলে অ্যাসিউর (আশ্বস্ত) করেছেন।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, মামলা নিয়ে কোনো কথা হয়নি।