খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

বাংলাদেশকে সোনার খনি মনে করা শেখ হাসিনা লোভ সামলাতে পারছে না : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫, ৮:২২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে সোনার খনি মনে করা শেখ হাসিনা লোভ সামলাতে পারছে না : রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশকে সোনার খনি মনে করা শেখ হাসিনা লোভ সামলাতে পারছে না। এই কারণে সে প্রয়োজনে আরও রক্ত ঝরাবে, আরও চক্রান্ত করবে, আরও লাশ ফেলবে। বাহিরে পালিয়ে থাকলেও সে এসব ঘটনা ঘটাবে। রিজভী আরও বলেন, এনসিপি একটি নতুন রাজনৈতিক দল, ছাত্ররা গঠন করেছে।

তারা ঘোষণা দিয়েছে মার্চ ফর গোপালগঞ্জ। এই ঘোষণার কথা শুনে শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জে তাদের দলের লোক, যুবলীগ-ছাত্রলীগ যারা ঘাপটি মেরে আছে তাদেরকে বলেছে তোমরা সেখানে তাদেরকে যেতে দিবেনা যেকোনো মূল্যে।

যেকোনো মূল্যে মানে যারা যাবে তাদেরকে তোমরা দূনিয়া থেকে সরিয়ে দিও কোন অসুবিধা নেই। এইটা শেখ হাসিনার নির্দেশ। আর এ কারণেই তাদের (এনসিপির) নেতৃবৃন্দের ওপর ঝাপিয়ে পরা হয়েছিল। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাস্তায় নেমে আসতে হয়।

আমার বক্তব্য একটাই, আজকে গণতন্ত্রের জন্য এতো লড়াই, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল আর ছাত্র-জনতার।

কিন্তু কেন আজ বিভেদ? এককভাবে কিছু করা যায় না, সম্মিলিতভাবে আমাদের শক্তি যেটি ছিল সেটি থাকলে কোন পতিত স্বৈরাচার সরকার সাহস পেত না কিছু করার জন্য।

রিজভী বলেন, ঢাকার মিডফোর্ডের সামনে একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে। ব্যবসায়ী সোহাগকে পাথর দিয়ে আঘাত করে করে হত্যা করা হয়েছে। সমাজে যদি খুনাখুনি হয়, কেউ কাউকে আক্রমণ করে তাহলে এর প্রতিবাদ যারা করেন, তারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরকারের বিরুদ্ধে করেন।

আমরা এখানে দেখলাম প্রশাসন সরকারকে কিছু না বলে কিছু লোক বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালালো। হাজার মাইল দূরে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, কুৎসা রটাচ্ছে। কিন্তু সন্ত্রাসীদের ধরবে কে রাজনৈতিক দল না পুলিশ? কৈ তাদের বিরুদ্ধে কিছু না বলে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখছেন, তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন, তার মানে উদ্দেশ্য তো ভালো নয়।

খুলনায় মাহাবুব নামে বিএনপির একজনকে প্রথমে গুলি করা হলো, চাঁদপুরে মসজিদের ইমামের খুতবা নিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হলো- এসব ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তো কোন স্লোগান দিলেন না, তাদের নামে তো কোন ধরনের অপপ্রচার চালালেন না।

গোপালগঞ্জ বাংলাদেশের বাহিরে না হলে সেখানে পতিত স্বৈরাচারের দোসররা এনসিপির লোকজনের ওপর কীভাবে আক্রমণ করে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, সুযোগ পেয়েছে হাসিনা। সে তো পাশের দেশে থাকে। হাসিনা বাংলাদেশ চায়না, সে বাংলাদেশে শান্তির চায়না, স্বস্তি চায়না, গণতন্ত্র চায়না, কথা বলার স্বাধীনতা চায়না, সে চায় রাজত্ব, যারা তার বিরোধিতা করবে তাদের রক্ত আর লাশ।

আজ শুক্রবার বিকেলে বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির আয়োজনে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কালোব্যাজ ধারণ ও শোকর‍্যালি অনুষ্ঠানপূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বিকেল সাড়ে চারটায় নগরীর সদর রোডে জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান বর্ষপূর্তি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক রুহুল কবির রিজভী আরও বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে আমরা একসাথে পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি।

অথচ আজ আন্দোলনকারীদের মধ্যে ঐক্যের অভাব রয়েছে। সরকারের মধ্যে থেকে কোন রাজনৈতিক দল পায়ে পাড়া দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। আর এর সুযোগ নিচ্ছে শেখ হাসিনা। আমরা তাদের এধরণের কাজকর্ম থেকে বিরত থাকতে বলবো।

রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আমাদের এ শোক র‌্যালি। আবু সাঈদ, মুগ্ধদের মতো শহীদরা যারা জীবন দিয়ে দানব শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিল তাদের স্মরণে আমাদের এ আয়োজন।

সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, বেগম জিয়া জীবনে শুধু গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য লড়াই করে গেছেন। একবার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ গণতন্ত্র হত্যা করেছিল, সেইখান থেকে আমাদের নেত্রী গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন।

এরপর শেখ হাসিনা গণতন্ত্র হত্যা করেছে। যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাদের নেত্রীকে হয়রানি করা হয়েছে, নানানভাবে নিপীড়ন নির্যাতন করা হয়েছে, তাকে বন্দী করা হয়েছিল এমন কারাগারে যেটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল।

কারণ শেখ হাসিনা মনে করে বেগম জিয়া বাহিরে থাকা মানে তার বিপদ। গোপালগঞ্জের ঘটনায় এনসিপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা একটি দলের প্রধানকে অপমানসূচক কথা বলেছেন, কিন্তু আমরা আপনার ওপর রাগ করে বসে থাকিনি, বিএনপির পক্ষ থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে প্রকৃত স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আপনারা পায়ে পাড়া দিয়ে নানান ধরনের কাজ কারবার করছেন। সভা শেষে বিকাল পাঁচটায় একটি শোকর‍্যালি বের করা হয়।

র‍্যালিতে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় কমিটির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থান বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান সহ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশগ্রহন করেন।র‍্যালিটি নগরীর সদর রোড হয়ে আমতলার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে বলেছেন, আপনারা ৯টার সময় অফিসে এসে ৫টা, ৬টা, ৭টা পর্যন্ত অনেকে অফিস করেন। এই অফিসের টাইমটা যদি মেইনটেইন করেন, তাহলে জনসেবা বাড়বে। জনগণের হয়রানি কমবে। আমরা জনসেবা বাড়িয়ে জনগণের হয়রানি কমাতে চাই, এটা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। এটা আমাদের সুশাসনের অন্যতম প্রতিশ্রুতি।

 

সেখানে যদি আপনারা সময়মতো অফিসে না আসেন, আমরা ধরে নেব যে এই অফিসের প্রতি আপনার ভালোবাসা নাই, জনগণের প্রতি ভালোবাসা নাই। সেক্ষেত্রে আপনাকে আমার সালামু–আলাইকুম (আসসালামু আলাইকুম) দিতে হবে।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার সব সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমার জনগণ যদি সেবা না পায়, আমার জনগণকে সেবা দিতে যদি আপনার গাফিলতি এবং অনীহা থাকে, তাহলে আপনি জনসেবক হিসেবে থাকারও দরকার নাই। বাংলাদেশে অনেক বেকারত্ব আছে, আমরা জনসেবক হিসেবে অনেক লোক পেতে পারি। কিন্তু জনগণের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম কার্পণ্য করবেন, এটা আমরা আগামীতে মেনে নেব না।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ টাকা নেওয়ার পরে সে টাকা প্রদর্শন করে। সবচেয়ে ভালো বাড়িটা করবেন, সবচেয়ে ভালো গাড়িটা কিনবেন, সেই যুগ কিন্তু শেষ হয়ে গেছে। আপনি মাসে বেতন পান ১ লাখ টাকা, বছরে ১২ লাখ টাকা। অথচ আপনি ৫ কোটি টাকার বাড়ি করতেছেন, ১ কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে বেড়াচ্ছেন, আর আমরা চুপচাপ বসে থাকব; এটা মনে করার কারণ নাই।

তিনি বলেন, একজন ধর্ষণকারী ও মাদক কারবারি কোন দলের হতে পারে না। এসব ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক নেতা যেন তদবিরের মধ্যে না জড়ায়- সে ব্যপারেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাজেট উচ্চাবিলাসী তো থাকবেই, বিএনপি স্বপ্ন দেখে বলেই স্বপ্নবাজ বাজেট দেওয়ার সাহস রাখে। যে বাজেট দিয়েছে, সে বাজেট স্বপ্নের বাজেট, স্বপ্নের পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছি; সেটা তো উচ্চাবিলাসী হবেই।

তিনি বলেন, বাজেটে গরীবের জন্য বাণিজ্যিক ও কর্মসংস্থানের জন্য কর কমানো হয়েছে। এবারের যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, সে বাজেটে সামাজিক উন্নয়নের প্রতি অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ আমরা তারই অংশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছি। ‎ভোটারের ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি আমরা রক্ষা করেছি। বুধবার (১৭ জুন) সারা বাংলাদেশে ১৯টি জেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

‎এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, পুলিশ-র্যাব-বিজিবি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

বরিশালে মাদক-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে পুলিশ হার্ডলাইনে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
বরিশালে মাদক-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে পুলিশ হার্ডলাইনে

বরিশাল মেট্রোপলিটনের আওতাধীন এলাকাসমূহের অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনার আলোকে খুব শিগগিরই অপরাধ দমনে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামতে যাচ্ছে বিএমপি পুলিশ। বিশেষ করে চার থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বিমানবন্দর এবং বন্দর পুলিশের কর্মকর্তাদের স্ব-স্ব এলাকার মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া, অনলাইন জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই রোধকল্পে অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরতে চাইছে স্থানীয় পুলিশের শীর্ষমহল। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ রোববার (০৭ জুন) বিকেলে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠককালে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। মে মাসের শুরুতে বিএমপিতে যোগদানের পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সম্ভবত এবারই প্রথম কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন ডিআইজি পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা।

 

বিএমপি সূত্র জানিয়েছে, আশিক সাঈদ কমিশনার হিসেবে মে মাসের সাত তারিখে যোগদান করলেও পরবর্তীতে তিনি হজ পালনের উদ্দেশে সৌদিতে যান। সেখান থেকে ফিরে এসেই তিনি বরিশালের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে ৭ জুন অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসেন। সকলের সাথে আলাপ-আলোচনা করে তিনি বরিশাল শহরের অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে মাঠপুলিশকে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।

বিশেষ করে কেউ যদি মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া, অনলাইন জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, চুরি এবং ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় জড়িত থাকে, সেক্ষেত্রে তাদের লাগাম টেনে ধরতে বলেছেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) পলাশ কান্তি নাথ প্রমুখ।

ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা নামপ্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে জানান, নতুন পুলিশ কমিশনার বেশ কয়েকটি বিষয়ে শক্ত পদক্ষেপ রাখতে বলেছেন। তার মধ্যে বেশিমাত্রায় গুরুত্ব পেয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কী ভাবে দৌড়ের ওপর রাখা যায়। অবশ্য সেই পন্থাও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা বাতলে দিয়েছেন। বিশেষ করে কমিশনার অপরাধ এবং অপরাধীদের ক্ষেত্রে জিরো ট্রলারেন্স নীতি অনুসরণের পরামর্শও দেন।

বিএমপি সূত্র জানিয়েছে, কীর্তনখোলা নদীতীরের এই জনপদে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির পাশাপাশি কিশোর গ্যাংগ্রুপ যে ক্রমাগত সন্ত্রাস চালিয়ে তা নয়া পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ ইতিমধ্যে আঁচ করতে পেরেছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় কলোনীসমূহের এই অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধ করতে তিনি বেশ আন্তরিকও বটে। এসব অপরাধে জড়িতরা যে দল বা মতের হোক না কেনো তাদের ছাড়া না দেওয়ারও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

অবশ্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে নাগরিকসমাজ। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদক-সন্ত্রাসসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে পুলিশের তরফ থেকে কার্যকরী ব্যবস্থাগ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তাদের পদক্ষেপ লক্ষ্যণীয় নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আসার পরে অপরাধমূলক কর্মকান্ড আরও বৃদ্ধি পায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিস্ক্রিয়তায় শহরের প্রতিটি গলিগলিতে মাদক ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি মাদক বেচাবিক্রি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে মারমারি থেকে খুনের ঘটনাও ঘটে।

সর্বশেষ ১৫ মে মাদকসংক্রান্ত বিরোধে জড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কাউনিয়া থানাধীন পলাশপুর এলাকার জসিম সিকদার বাবু নামের ত্রিশোর্ধ্ব যুবক। গভীর রাতে বাসার অদূরে ১০/১৫ যুবক তাকে ধাওয়া করে এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। আলোচিত এই হত্যাকান্ডে মূলহোতা মধুসহ কজনকে পুলিশ স্বল্পসময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে, বর্তমানে তারা কারাভ্যন্তরে আছেন।

মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়ে জানতে সোমবার অপরাহ্ণে পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদকে ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সরকারি নম্বরটি উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান রিসিভ করেন। এবং এই পুলিশ কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, মাঠপুলিশকে রোববার বৈঠকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চারটি থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বন্দর এবং বিমানবন্দরের ওসিদের আওতাধীন এলাকাসমূহের অপরাধ দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নানের সাথে নাতিদীর্ঘ আলোচনায়ও কিছুটা আভাস মিলেছে যে মাঠপুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে রাখতে কঠোর পন্থা অবলম্বন করবে। অবশ্য এই ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশের তরফ থেকে শহরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করা হয়। শেষপর্যন্ত পুলিশপ্রশাসন অপরাধীদের দমনে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ফের যুদ্ধ শুরু করলে নেতানিয়াহুকে একাই লড়তে হবে: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
ফের যুদ্ধ শুরু করলে নেতানিয়াহুকে একাই লড়তে হবে:  ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরু করলে ইসরাইলকে একাই এর পরিণতি মোকাবিলা করতে হতে পারে। স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) এই সতর্কবার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।  খবর আল জাজিরার। 

 

সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইসরাইল ও ইরান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণার পর এ সতর্কবার্তা দিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে উভয় পক্ষকে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শান্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত আলোচনা এগিয়ে যাবে, যদি না ‘অজ্ঞতা বা বোকামি’ তা বাধাগ্রস্ত করে।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে ফোন করে হামলা বন্ধ করার অনুরোধও জানান।

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমি বলেছি, ‘বিবি, সাবধান থাকো। না হলে খুব শিগগিরই তোমাকে একাই লড়তে হবে।’

গত রোববার (৭ জুন) হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় ইসরাইল। একই সময়ে ইরানও উত্তর ইসরাইলে  হামলা চালায়, যার প্রতিক্রিয়ায় তেল আবিব তেহরানের একাধিক স্থানে পাল্টা আঘাত হানে।

অবশ্য এরইমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সহিংসতা ও পালটাপালটি হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও ইসরাইল। সোমবার (৮ জুন) এ ঘোষণা দেয় দু’দেশ।