খুঁজুন
বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ঝুঁকির অজুহাতে বরিশাল জিলা স্কুলের ৬৫ গাছ কাটার প্রস্তুতি

স্টাফ রিপোর্টার :
প্রকাশিত: সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
ঝুঁকির অজুহাতে বরিশাল জিলা স্কুলের ৬৫ গাছ কাটার প্রস্তুতি

ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে বরিশাল জিলা স্কুলের ৭০টি গাছ কাটার আয়োজন করছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ৬৫টি গাছ কাটার জন্য ৩ সেপ্টেম্বর নিলাম আহ্বান করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নিলাম কমিটির সদস্যসচিব অনিতা রানী হালদার। তিনি দাবি করেছেন, ঝড়ে পড়া, ভবন নির্মাণ এবং স্কুল ভবন লাগোয়া হওয়ায় ৬৫টি গাছকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে নিলাম ডেকেছেন।

তবে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ, ঝড় ও উন্নয়নের অজুহাতে তালিকার অর্ধেকের বেশি গাছ অযৌক্তিকভাবে কাটা পড়ছে। এতে একদিকে বিদ্যালয়ের সবুজায়নের যেমন ক্ষতি হবে, তেমনি অত্যধিক তাপে পাঠদান বাধাগ্রস্ত হবে। এদিকে অবসরের এক মাস আগে প্রধান শিক্ষক অনিতা রানীর গাছ কাটার এমন কর্মকাণ্ড ভালো চোখে দেখছেন না পরিবেশবাদীরা।

গতকাল রোববার স্কুল ঘুরে দেখা গেছে, স্কুলের পশ্চিমাংশে সবুজায়নে ঘেরা। মেহগনি, রেইনট্রি, নিম, আম, তুলা, অর্জুন, কড়ইসহ বিভিন্ন গাছ যেন গোটা বিদ্যালয়টিকে ছায়া দিচ্ছে। তবে প্রধান শিক্ষকের পরিত্যক্ত ভবনে একটি রেইনট্রি গাছ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পাশের পুকুরে ঘূর্ণিঝড় রিমালে পড়ে যাওয়া ২-৩টি গাছ পড়ে আছে। এ ছাড়া স্কুল ভবন লাগোয়া ৪-৫টি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ রয়েছে। তবে গাছ পড়লে ভবনের ক্ষতি হবে এমন কোনো গাছ ভবনের পাশে দেখা যায়নি। এদিকে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা যে ঘরে থাকেন, তার আশপাশের কিছু ফলদ ও বনজ গাছ রয়েছে, সেগুলোও কাটার আওতায় আনা হয়েছে। নতুন ৬ তলা ভবনের জন্য কয়েকটি গাছ কাটা পড়তে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জিলা স্কুলের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, স্কুলের আশপাশে যে ফলদ, বনজ ও ওষধি গাছ হয়েছে, তা এক দিনে সৃষ্টি হয়নি। কোনো প্রধান শিক্ষক এত গাছ কাটেনি। স্কুল ভবনের পাশে এমন কোনো গাছ নেই, যেটা উপড়ে পড়লে ভবন হেলে পড়বে। বিশেষ করে ৪৭টি মেহগনি ও ৫টি আমগাছ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। এতে গরমে ক্লাস করানো যাবে না। সবুজায়ন বিনষ্ট হবে। প্রায় ২০টি গাছ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুসারী কয়েকজন শিক্ষক, ঠিকাদার ও বন বিভাগের যোগসাজশে অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি গাছ কাটার আয়োজন চলছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার আগে গাছ কাটার মহোৎসব নেমেছেন তিনি।

জানতে চাইলে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভবন নির্মাণের জন্য ৭-৮টি গাছ কাটা পড়তে পারে। কিন্তু বাকি গাছের বিষয়ে কিছু জানি না।’

বরিশাল জিলা স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক (বর্তমানে ঝালকাঠিতে কর্মরত) নুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের বাসভবনের একটি রেইনট্রি গাছ ঝুঁকিপূর্ণ। কিছু গাছ ঝড়ে পড়ে গেছে। ভবন নির্মাণে ২-৩টি কাটা লাগতে পারে। সব মিলিয়ে আমি

যখন ছিলাম, তখন ৮-১০টি গাছ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কিন্তু ৬৫-৭০টি গাছ দুই বছরের মধ্যে কাটার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়ক রফিকুল আলম বলেন, নতুন ভবন করার জন্য যদি গাছ কাটতে হয়, সেগুলো কাটুক। যেসব গাছ পড়ে গেছে, সেগুলো অপসারণ করুক। কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকা কোনো গাছে হাত দেওয়া যাবে না। ঝুঁকির অজুহাত দিয়ে গাছে হাত দিলে সবুজায়ন ও পরিবেশ নষ্ট হবে। তিনি অবসরের আগমুহূর্তে এমন পরিবেশবিরোধী কাজ করতে পারেন না।

জানতে চাইলে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও নিলাম কমিটির সদস্যসচিব অনিতা রানী হালদার বলেন, ‘৬৫টির মধ্যে সবগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। বন বিভাগ এসে তালিকা করেছে। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ৩টি, গেটের সঙ্গে হেলে পড়া ২টি, প্রধান শিক্ষকের বাসভবনে ৩টি, পুকুরে পড়ে আছে ৩-৪টি। এ রকম ৬৫টি গাছই ঝুঁকিপূর্ণ। স্কুল ভবন লাগোয়া হওয়ায় ৪৭টি মেহগনি গাছও কাটতে হবে।’

এ বিষয়ে সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান সাকিব বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৭০টি গাছ ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে চিঠি দিয়েছে। তারা কারণ দেখিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় রিমালে পড়ে গেছে এবং স্কুল ভবনের লাগোয়া গাছ রয়েছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের তালিকা অনুযায়ী ৫টি গাছ কাটায় আপত্তি তুলে ৬৫টির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

 

মঠবাড়িয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৮ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
মঠবাড়িয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৮ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ
মঠবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার পৌর শহরের ৩ নং ওয়ার্ডে প্রথম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত ৮ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রীর সাথে অশোভন আচরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এক প্রাইভেট শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ফয়সাল নামে ওই প্রাইভেট শিক্ষক টিকিকাটা ওহাবিয়া বালিকা আলিম মাদ্রাসার কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত ওই অভিযোগের বিষয় হিসেবে ৮ বছর বয়সী শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৭ জুলাই (সোমবার) মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে ওই ছাত্রীর মা সুমি আক্তার অধ্যক্ষের অফিসে এসে লিখিত অভিযোগটি দাখিল করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,কম্পিউটার অপারেটর ফয়সাল মিয়ার কাছে প্রাইভেট পড়ার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির সাথে অশোভন আচরণ করা হয়েছে। এমনকি ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রাইভেট পড়ার সময় শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।কারো কাছে যাতে কিছু না বলা হয় সেজন্য শিশুটিকে খুন জখমের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারী সুমি আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগে উল্লেখিত মোবাইল নাম্বারটি রুম্মান নামে ওই ছাত্রীর এক চাচার বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে তার সাথে কথা বললে তিনি জানান,অভিযোগ আমিই দিয়েছিলাম। আবার আমি এটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।প্রিন্সিপল হুজুর বিষয়টি শালিসি ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধান করে দিবেন বলে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন।
মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, প্রথম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওই ছাত্রীর মা মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এসে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে । মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতিকে অবগত করেছি।আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলালের ছেলে খালিদ সাইফুল্লাহ আমিন বাবু জানান,আমি এখন পর্যন্ত ভালোভাবে বিষয়টি অবগত না হলেও কিছুটা অবগত হয়েছি।অধ্যক্ষের সাথে কথা বলে দেখতেছি।বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী জানান,বিষয়টি অবগত হয়েছি।এ ধরনের অপরাধ স্থানীয় পর্যায়ে শালিস ব্যবস্থার কোন বিষয় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

‘লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নয়’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
‘লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো শান্তি চুক্তির প্রধান পূর্বশর্ত হলো লেবাননে ইসরাইলের হামলা ও আগ্রাসনের পরম ও শর্তহীন অবসান। রোববার (২৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই কথা জানিয়েছেন। 

লেবাননের অখণ্ডতা রক্ষা এবং হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের সমর্থন দেওয়াকে তেহরানের কৌশলগত দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ অবসানের চুক্তিতে লেবানন ইস্যুটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এর আগে গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সমঝোতায় এই শর্ত থাকলেও হরমুজ প্রণালির বিরোধে তা ভেস্তে যায়। এদিকে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া সাম্প্রতিক কাঠামোগত চুক্তিকে একপেশে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ।

লেবাননীয় সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, নির্ধারিত অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারে বাধা দিয়ে ইসরাইল এখনও দক্ষিণ লেবাননে নির্বিচারে ধ্বংসযজ্ঞ ও সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান এই সংঘাতে লেবাননে ৪ হাজার ৩২৯ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

যে শর্তে আন্দোলন থেকে পিছু হটল ককরোচ জনতা পার্টি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
যে শর্তে আন্দোলন থেকে পিছু হটল ককরোচ জনতা পার্টি

আন্দোলন প্রত্যাহারের পরও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানির অভিযোগে ফের বিক্ষোভের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ভারতে। তবে গভীর রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়েছে। বৈঠকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

 

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৭ জুলাই) গভীর রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এই বৈঠক হয়।

বৈঠকের পর সিজেপি জানিয়েছে, ‘কোনো বিক্ষোভকারীকে একা ফেলে রাখা হবে না। আমরা সবাই একসঙ্গে আছি।’

সংগঠনটির দাবি, সরকার তাদের আশ্বাস দিয়েছে যে বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন (নোটিফিকেশন) জারি করা হবে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সিজেপি অভিযোগ করেছিল, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা ভঙ্গ করা হচ্ছে। এ নিয়ে তারা নতুন করে আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। তবে পরে কর্মকর্তারা বিহার ও আসাম সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কপি তাদের কাছে তুলে দেন। ওই প্রজ্ঞাপনে বিক্ষোভকারীদের জন্য ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সোমবার রাত ১টার দিকে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকার আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি/এনডিএ-শাসিত অন্যান্য রাজ্যে একই ধরনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

তিনি বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টা পর সরকারের প্রতিনিধিরা আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকটি দুই থেকে তিন ঘণ্টা চলে। সেখানে বিহার ও আসাম সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কপি আমাদের দেওয়া হয়েছে। এতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা এফআইআর প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং আটক সবাইকে মুক্তি দেওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে।’

সৌরভ দাস জানান, কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি/এনডিএ-শাসিত অন্যান্য রাজ্য থেকেও একই ধরনের নিশ্চয়তামূলক প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রতিশ্রুতি সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তিনি বলেন, ‘আশা করছি, সমঝোতা অনুযায়ী ভাষাই ব্যবহার করা হবে। কোনো বিক্ষোভকারীকে একা ফেলে রাখা হবে না। আমরা সবাই একসঙ্গে আছি।’

বৈঠকের পর প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় সৌরভ দাস বলেন, সরকারের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন হবে কি না—এ নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা তারা প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘আমরা তাদের বলেছি, সরকারের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর জবাবে তারা বিহার স্বরাষ্ট্র বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, অন্য রাজ্যগুলো থেকেও একই ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি করানোর বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে, যাতে বিক্ষোভকারীরা আইনি ঝামেলায় না পড়েন। আমরা একসঙ্গে বসে আলোচনা করেছি যে আর কোন কোন রাজ্য সরকার এ ধরনের প্রজ্ঞাপন দিতে পারে, যাতে বিক্ষোভকারীদের কোনো ক্ষতি না হয়।

তার দাবি, সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে মঙ্গলবারের মধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ থাকবেন। ভবিষ্যতেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, সব বিক্ষোভকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দলটি কাজ চালিয়ে যাবে। নিজ নিজ শহরে আন্দোলনে অংশ নেয়া একজন বিক্ষোভকারীও যেন কোনো আইনি হয়রানির শিকার না হন, আমরা তা নিশ্চিত করব। প্রথম দিন থেকেই আমরা তাদের পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব।