বরগুনায় গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা
বরগুনায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন করা হয়। জেলা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস মামলাটি আমলে নিয়ে বরগুনা থানার ওসিকে এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দেন।
মামলার আসামিরা হলেন- সদর উপজেলা লেমুয়া গ্রামের মো. আলতাফ হোসেন মৃধার ছেলে আবদুর রহিম (৪৫), মো. স্বপন (২৭) ও মো. তুহিন (৩০)। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালতের পিপি রনজুয়ারা সিপু।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর (৪০) অভিযোগ, আসামি আবদুর রহিমের ছেলে রাজীব বাদীর ১৪ বছরের মেয়েকে কিছুদিন আগে অপহরণ করেন। এ ঘটনায় গৃহবধূ রাজিবের বিরুদ্ধে একই ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। এতে রাজিবের বাবা প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠেন। এর ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের ৬ আগস্ট গৃহবধূকে জোর করে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়।
বাদী বলেন, আমার স্বামী সিলেটে থাকেন। আমি তিন বছরের একটি সন্তান নিয়ে ঘরে ঘুমাই। আসামিরা আমার ঘরের পেছনের জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে। পরে আমাকে টেনেহিঁচড়ে অন্যরুমে নিয়া যায়। এতে বাধা দিলে আসামিরা আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। সেখানে তারা আমাকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে।
বিষয়টি টের পেয়ে স্বামী ও পাশের বাড়ির মাহবুবকে ফোন করি। আসামিরা চলে যাওয়ার পর প্রতিবেশীরা এসে আমাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করেন। ওই রাতে আমাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় গত ১১ আগস্ট মামলা করতে গেলেও থানা তা নেয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে আবদুর রহিম বলেন, আমার ছেলে রাজিবের সঙ্গে বাদীর মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা আমার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এবার আমার বিরুদ্ধে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা করলেন। তদন্ত করলে সত্য বেরিয়ে আসবে।
বরগুনা থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, এ ব্যাপারে বরগুনা থানায় কেউ মামলা করতে আসেনি। থানায় সিসি ক্যামেরা আছে। মামলা করতে এলে নিশ্চয়ই সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড থাকবে। তারপরও আদালতের আদেশ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেব।

আপনার মতামত লিখুন
Array