খুঁজুন
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

পানের বাজার ধস, হতাশ চাষিরা

ফাহিম ফিরোজ :
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
পানের বাজার ধস, হতাশ চাষিরা

এক সময় দেশের অন্যতম লাভজনক অর্থকরী ফসল ছিল পান। কিন্তু হঠাৎ করে রপ্তানি কমে যাওয়ায় পানের দাম পানির দরে নেমে এসেছে। আর বাজার ধসের কারণে বর্তমানে সেই পানই চাষিদের জন্য পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে। ব্যয়বহুল এই চাষে ঋণের টাকায় ভর করে চাষ করা পান এখন বিক্রি না হওয়ায় নদীতে ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন হতাশ কৃষকরা।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পানচাষি আব্দুল হান্নান অভিযোগ করে বলেন, “২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতি কেজি পানের রপ্তানি মূল্য ১ ডলার থেকে হঠাৎ করে ৫ ডলার নির্ধারণ করায় বিদেশি ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বাজার ভেঙে পড়েছে, হাজারো চাষি আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত।”

বরিশাল জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ পান রপ্তানি হতো মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। কিন্তু রপ্তানিতে বাধা ও ব্যাকটেরিয়া শনাক্তের কারণে এখন সেই বাজার কার্যত বন্ধ। এতে অভ্যন্তরীণ বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ সৃষ্টি হয়েছে, ফলে দাম কমে গেছে অস্বাভাবিকভাবে।

পোর্ট রোড বাজারের ব্যবসায়ী মো. সোহেল বলেন, “গত ১৩ বছরে এমন পরিস্থিতি দেখিনি। গত বছর যে পান ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এ বছর সেই পান ৫০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে না। খরচ পুষিয়ে ওঠানোই এখন দায়।”

চরমোনাই এলাকার পান ব্যবসায়ী সুজন নাথ বলেন, “২৫ বছর ধরে এই পানের ব্যবসার সঙ্গে আছি। এমন বিপর্যয় আগে হয়নি। দেড়শ টাকার পানের চল্লি এখন ৩০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে না।”

বরিশাল জেলা পান চাষি সমিতির সভাপতি মো. মামুন বলেন, “এক বিড়া পানে ৫০ টাকা খরচ হয়, কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। কখনো কখনো ৫ টাকায়ও বিক্রি করতে হয়। আবার অনেক সময় বাজার না থাকায় পান ফেলে দিতেও বাধ্য হই।”

সমিতির সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী বলেন, “প্রতি বিড়া পানে গড়ে ৩০ টাকা ক্ষতি হচ্ছে। পানের দাম না পেলে চাষিরা টিকতে পারবে না। আমরা চাই আগের মতো রপ্তানি শুরু হোক।”

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১০ উপজেলায় ২ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট উৎপাদন হয়েছে ২১ হাজার ৪০৯ মেট্রিক টন। এই খাতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার মানুষ।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোসাম্মাৎ মরিয়ম বলেন, “গত বছরের তুলনায় এ বছর উৎপাদন বেড়েছে। ফলে দাম কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি আগের মতো রপ্তানি হচ্ছে না কারণ পানে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হওয়ায় রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।”

পানের রপ্তানি বৃদ্ধি ও সব ধরনের বাধা অপসারণ। বিপন্ন চাষিদের ঋণের কিস্তি আদায় সাময়িক বন্ধ। গরিব চাষিদের সরকারি ত্রাণ ও রেশন ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তি। উৎপাদক চাষিদের প্রণোদনা প্রদান। খৈল, সার, কীটনাশকসহ উপকরণের দাম কমানো। পান গবেষণা কেন্দ্র ও সংরক্ষণাগার স্থাপন। আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ প্রদান। জমিতে অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধ। পান চাষিদের জন্য বীমা চালু। জাতীয় পান বোর্ড গঠন। পানের দাম বাড়লে ভারত থেকে পান আমদানি বন্ধ।

পান শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়, গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় অংশ। এই খাত ভেঙে পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হবে লাখো মানুষের জীবিকা। কৃষকরা আশাবাদী, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিলে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারে পানের বাজার।

চাষিদের দাবি—রপ্তানি পুনরায় চালু, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও প্রণোদনা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। সরকার যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে চাষিরা পান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন—যা জাতীয় অর্থনীতিতেও ফেলবে নেতিবাচক প্রভাব।

 

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেন তিনি। তারেক রহমানকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগেসহ বিভিন্ন বিদেশের প্রতিনিধি, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিচারপতি, কূটনৈতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে সংসদ ভবনের শপথ গ্রহণ কক্ষে শপথ নেন সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা (এমপি)। তবে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি তারা। শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

পরে একই স্থানে শপথ নেন জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা। ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। শপথ বাক্য পাঠ করান সিইসি।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়।

যার মধ্যে ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের (চট্টগ্রাম ২ ও ৪) ফল ঘোষণা করা হয়নি।নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।  বিএনপির শরিকরা জয় পেয়েছে তিনটি আসনে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী জয় পেয়েছে ৬৮টি আসনে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন। তাদের মধ্যে এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসনে বিজয়ী হয়েছে।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। বাকি সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন ৩ নারী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন ৩ নারী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন আজ মঙ্গলবার সকালেই। বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নিয়েছেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী আর ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ জনের নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।

এ মন্ত্রিসভায় রাখা হয়েছে তিন জন নারীকে। পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় থাকছেন তিনজন।

 

যে তিন নারী রয়েছেন মন্ত্রিসভায়: সংসদে মন্ত্রী হিসেবে থাকছেন আফরোজা খানম। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম ও ফারজানা শারমিন।

বরিশাল বিভাগ পেলো ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

মো: ফিরোজ গাজী
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
বরিশাল বিভাগ পেলো ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছে বরিশাল বিভাগের ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বরিশাল-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনকে।

ভোলা জেলার মধ্যে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ডাকসুর সাবেক ভিপি ও পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল হক নুর। তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

এদিকে প্রথমবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-কাজীরহাট) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন রাজীব আহসান। তিনি রেলপথ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের পর প্রথমবারেই রাজীব আহসান মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথগ্রহন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে শপথ গ্রহণ করেছেন।

এছাড়াও পিরোজপুর-২ আসন থেকে বিজয়ী হওয়া আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।