খুঁজুন
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৬ মাঘ, ১৪৩২

দন্তচিকিৎসায় ডিপ্লোমাধারী হারুন চিকিৎসা দেন সব রোগের

কলাপাড়া প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
দন্তচিকিৎসায় ডিপ্লোমাধারী হারুন চিকিৎসা দেন সব রোগের

পরিচিত দন্তচিকিৎসক হিসেবে। কিন্তু চিকিৎসা দেন দাঁত, নাক-কান, পলিপাস, চোখ সবকিছুরই। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় হারুন-অর-রশীদ নামের একজন ডিপ্লোমা ইন ডেন্টাল টেকনোলজি ডিগ্রিধারী এভাবেই চিকিৎসা দিচ্ছেন। কলাপাড়ার মহিপুর বাজারে ‘এশিয়া ডেন্টাল কেয়ার’ নামে তার চেম্বারটি অবস্থিত।

উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের দোবাসীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম। তার চার বছরের ছেলে আদনানকে নিয়ে চোখের চিকিৎসক দেখাতে আসেন মহিপুর বাজারের ‘চক্ষু সেবা কেন্দ্রে’। এসে চেম্বারে চিকিৎসক না পেয়ে ফোন করেন সাইনবোর্ডে লেখা নম্বরে। কিছুক্ষণ পর হারুন-অর-রশিদ এসে নিজেকে ‘চক্ষু চিকিৎসক’ পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা দেন আদনানকে। তবে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেননি। শুধু মোবাইলে ওই রোগীর একটি ছবি তুলে ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন হারুন। পরে ফি হিসেবে নেন ৩০০ টাকা।

এমন চিকিৎসা দেখে সন্দেহ হয়। পরে রোগীর বাবা খাইরুল ইসলাম আশপাশে খোঁজখবর নিয়ে দেখেন, আসলে ব্যবস্থাপত্রটি ওই হারুন-অর-রশীদের নয়, তার ভাই আব্দুল হাকিমের (চোখের চিকিৎসা দেন)। পরে ফের ‘চক্ষু সেবা কেন্দ্রে’ ওই অভিভাবক ছুটে যান। তবে আব্দুল হাকিমকে না পেলেও হারুনকে পাওয়া যায় তার নিজ চিকিৎসালয় ‘এশিয়া ডেন্টাল কেয়ারে’। তিনি কেন এমনটা করলেন, অন্যের ব্যবস্থাপত্রে কেন চিকিৎসা দিলেন জানতে চাইলে রোগীকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘যা লিখেছি তা খাওয়ান, সুস্থ হয়ে যাবে’।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার মহিপুর বাজারে ঘটনাটি ঘটে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হারুন-অর-রশীদ ৮-১০ বছর ধরে মহিপুর বাজারে দন্ত চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। তবে তার ভুল চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে বিস্তর। দাঁতের পাশাপাশি নাকের পলিপাস কাটা, চোখের চিকিৎসা দেওয়াসহ সব ধরনের রোগী দেখেন তিনি। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার স্থানীয় ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশনে অভিযোগ দিলেও তিনি রীতিমতো তার এই হাতুড়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। যার ভুক্তভোগী গ্রামের সাধারণ ও অসহায় মানুষ।

মহিপুর এলাকার সেরাজপুরের এলাকার বাসিন্দা মো. শাহ-জাহান কাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই হারুনতো দাঁতের চিকিৎসাই ভুল করে, সেখানে অন্য চিকিৎসা দেয় কেমনে? সমস্যা এক দাঁতে, তুলে দিয়েছে অন্য দাঁত। এটা নিয়ে অনেক ঝামেলা হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।’

মহিপুরের বাসিন্দা সোহেল হাওলাদার বলেন, ‘আমরা জানি তিনি দাঁতের চিকিৎসা দেন। তার ভাই চোখের চিকিৎসা দেন। তবে তিনিও তার ভাইয়ের প্রেসক্রিপশনে চোখের চিকিৎসা দেন। এগুলো নিয়ে প্রায়ই রোগীদের সঙ্গে ঝামেলা হয়। কিন্তু সেটা বন্ধ হচ্ছে না, তিনি এটি করেই যাচ্ছেন। তার চোখের বিষয়ে কোনো ধারণা নেই।’

মহিপুর বাজার ড্রাগ অ্যান্ড কেমিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব আলম মুসুল্লি বলেন, ‘তিনি দন্ত চিকিৎসার পাশাপাশি অ্যালার্জি, নাকের পলিপাস, চোখ সবকিছুর চিকিৎসা দেন। তিনি দন্ত চিকিৎসায় ভুল করে অনেক রোগীর বড় সমস্যা তৈরি করে দিয়েছেন। আমরা বারবার নিষেধ করার পরও তিনি না শুনে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হচ্ছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হারুন-অর-রশিদ চিকিৎসা দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি চোখের চিকিৎসার কিছু বুঝি না। আমি আমার ভাইকে ছবি পাঠিয়েছি। তিনি যেটা বলেছেন, সেটা আমি তার প্রেসক্রিপশনে লিখে দিয়েছি।’

অন্যের প্রেসক্রিপশনে লিখতে পারেন কি-না জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। একপর্যায়ে বলেন, ‘যা লিখে দিয়েছি তা খেলে রোগী সুস্থ হয়ে যাবে।’

ওই ব্যবস্থাপত্রের চিকিৎসক আব্দুল হাকিমের চেম্বারে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ফোন করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরে কিছু শোনার আগেই দেখা করতে বলেন। মোবাইলে কোনো কথা বলবেন না বলে সংযোগ কেটে দেন।

কলাপাড়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, ‘কোনোভাবেই তিনি এসব চিকিৎসা করতে পারেন না। আমাদের কাছে এর আগে অভিযোগ ছিল না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।’

 

 

‘নির্বাচনে অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
‘নির্বাচনে অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, প্রশাসনের একপাক্ষিক আচরণের যে অভিযোগ প্রার্থীরা করছেন তা রাজনৈতিক, তারা ভোটার টানতে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন।

 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আয়োজিত বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা মিটিং শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। যার যার বক্তব্য সে সে দেবে। পলিটিক্যাল বক্তব্য একেকজন একেকভাবে দেবে।

এ সময় তিনি নির্বাচনে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে ১ লাখ সেনাবাহিনী, দেড়লাখ পুলিশ, ৫ হাজার নেভি, ৩৭ হাজার বিজিবি ১০ হাজার র‌্যাব, ৫ হাজার কোস্টগার্ড ও প্রায় ৬ লাখ আনসার মোতায়েন করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড এবং নেভির সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ হয়, সে লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

এবার নির্বাচনে বিএনসিসিও নিয়োগ করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবার বডি ক্যামেরা রাখা হয়েছে, অপরাধ করে কেউ পাড় পাবে না। সিসি ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া, সুরক্ষা অ্যাপের সহায়তায় এর আগে পূজা শান্তিপূর্ণ হয়েছে, ইলেকশনও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পুলিশের আইজি বাহারুল আলম, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানসহ বিভাগের ছয় জেলার সরকারি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার: প্রেস সচিব

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার: প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে অসংখ্য অপতথ্য মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার। মিথ্যা খবর প্রচারের ফলে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আইনি ব্যবস্থার সুযোগ থাকা উচিত।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা ইনটারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেস সচিব জানান, নানামুখী অপতথ্য মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা সীমিত। তবুও অন্তর্বর্তী সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশকে নিয়ে নিয়মিত মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। বিভিন্নজন নামে-বেনামে ইউটিউব চ্যানেল খুলেও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ তার।

ঝালকাঠির দু’টি আসনেই ধানের শীষের আধিপত্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখার সাথে

রাসেল হোসেন:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
ঝালকাঠির দু’টি আসনেই ধানের শীষের আধিপত্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখার সাথে

বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝালকাঠির দুইটি আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীরা এগিয়ে থাকছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখার সাথে। জানা গেছে, ঝালকাঠি-১ ও ঝালকাঠি-২ উভয় আসন বিএনপির ভোটব্যাংক বলে পরিচিত। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় আর জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন জোট ভেঙ্গে যাওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বিএনপির প্রার্থীরা।

জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের জোট থাকলে বিএনপির প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তেন। ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামালের সাথে প্রতিদ্বন্দিতা হবে জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লায় প্রার্থী ড.ফয়জুল হক ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখায় প্রার্থী মাওলানা ইব্রাহিম আল হাদির ।

এছাড়া এ আসনে মোরগ মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থি মো. সাব্বির আহমেদ, তারা মার্কায় জেএসডির মোঃ সোহরাব হোসেন, কলম প্রতীকে জনতার দলের মোঃ জসিম উদ্দিন তালুকদার, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মোঃ কামরুজ্জামান খান, হাস প্রতীকে স্বতন্ত্রে এম মঈন আলম ফিরোজী, গণ অধিকার পরিষদের মোঃ শাহাদাত হোসেন প্রতীকে এবং জাতীয় পার্টি জেপি থেকে মোঃ রুবেল হাওলাদার বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর সাথে প্রতিদ্বন্দিতা হবে জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লায় প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখায় প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সিরাজীর সাথে। এছাড়া এ আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফোরকান হোসেন আম, জেএসডির মাসুদ পারভেজ তারা, গণঅধিকার পরিষদের মাহমুদুল ইসলাম সাগর ট্রাক এবং স্বতন্ত্র থেকে মোঃ নুরউদ্দিন সরদার কলস ও সৈয়দ রাজ্জাক আলী মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীদের বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, “আগের মত অবস্থা নেই।

নতুন বাংলাদেশে মানুষ নতুন করে ভাবে। মানুষ পরিবর্তন চায়। এবার আমরা দুটি আসনেই জয়ী হব বলে আশা রাখছি।” ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, “ঝালকাঠি বিএনপির দুর্গ। এখানে ধানের শীষের জোয়ার বইছে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে কে সাধারন মানুষ ভোট দিবে না। ধানের শীষ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে ইংশা আল্লাহ।”