খুঁজুন
বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২৫ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

‘ডেলিভারির ২ ঘণ্টা পর জানানো হয় বাচ্চা মৃত, শরীরে দেখি আঘাতের চিহ্ন’

ভোলা প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:২২ অপরাহ্ণ
‘ডেলিভারির ২ ঘণ্টা পর জানানো হয় বাচ্চা মৃত, শরীরে দেখি আঘাতের চিহ্ন’

ভোলার চরফ্যাশনে চিকিৎসায় অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে আঁখি আক্তার নামে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। সোমবার (৬ অক্টোবর) বিষয়টি জানাজাননির পর জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোববার বিকেল ৪টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলার করিমজান মহিলা মাদ্রাসা রোডে অবস্থিত ব্যক্তি মালিকানাধীন ইকরা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নবজাতকটির মৃত্যু হয়।

‎নবজাতকের পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো.বাবুল তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী তাছলিমা বেগমকে নিয়ে সোমবা সকালে উপজেলা শহরের মেঘনা ল্যাব এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসক ডা. আঁখি আক্তারের কাছে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ওই চিকিৎসক একই মালিকানাধীন ইকরা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হতে বললে দুপুরের দিকে অন্তঃস্বত্ত্বা তাছলিমা বেগমকে শহরের ইকরা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিকে ভর্তি করানো হয়।

ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মো. বাবুল অভিযোগ করে বলেন, আমার স্ত্রী গর্ভধারনের পর থেকে নিয়মিত ডা. আঁখি আক্তারের চিকিৎসা নিয়েছেন। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় গতকাল আমার স্ত্রীকে ফের ডা. আঁখির কাছে মেঘনা ডায়াগনস্টিকে নিলে তার পরামর্শে আমার স্ত্রীকে ইকরা ডায়াগনস্টিকে ভর্তি করেছি। ডাক্তার ওষুধ লিখে রক্ত আনতে বলেন, আমি সব প্রস্তুতি গ্রহণ করি, কিন্তু তিনি একবারও এসে আমার স্ত্রীর খোঁজ নেননি। অপারেশন থিয়েটারে একজন নার্স এবং আয়াকে দিয়ে নরমাল ডেলিভারির পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর আমাকে জানানো হয় মৃত বাচ্চা জন্ম নিয়েছে। পরে দেখি নবজাতকের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ডাক্তার যদি আগেই বলতেন যে নরমাল ডেলিভারি সম্ভব নয়, তাহলে আমি সিজারিয়ান অপারেশন করাতাম বা অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতাম। ডাক্তার আঁখির অবহেলার কারণে আমাদের সন্তান মারা গেছে, আমি এর বিচার চাই।

‎অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডা. আঁখি আক্তারের ব্যবহৃত মোবাইলে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইকরা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক কুলসুম আক্তার পলির সঙ্গেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি মোবাইলের কল কেটে দেন। পরে আর কল ধরেননি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মু. মনিরুল ইসলাম বলেন, এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চরফ্যাশন হাসপাতাল রোডে অবস্থিত একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসক ডা. আঁখি আক্তারের ভুল চিকিৎসায় আমিনাবাদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে মুন্নী আক্তার নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে আত্নগোপনে চলে যান এই চিকিৎসক। পরবর্তীতে পুনরায় অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে ইকরা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিকে যোগদান করে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে শুরু করেন।

 

৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

ডিসেম্বর মাসের প্রথম আট দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। এ জন্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে মূলত প্রবাসী ও রপ্তানি আয়ের ধারাকে সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার এই ডলার কেনা হয়।

এ সময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ২৭ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ২৯ পয়সা পর্যন্ত। কাট-অফ রেট ১২২ টাকা ২৯ পয়সা, যা মাল্টিপল প্রাইস নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা যায়, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এ পর্যন্ত নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ২৫১ কোটি ৪০ লাখ (২ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার) ডলার কিনেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ জুলাই থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি মাসের ১ থেকে ৮ ডিসেম্বর সময়ে দেশে ১০০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। এর মধ্যে ৮ ডিসেম্বর এসেছে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ৮৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ শতাংশ।

পাশাপাশি গত জুলাই থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৪০৪ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ১৯৬ কোটি ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন সমাবেশ, আন্দোলন করা থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সতর্ক করে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত যে কোনো ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন আন্দোলন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যারা বেআইনিভাবে সভা-সমাবেশে অংশ নেবেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর হয়- এটিই বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য। একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য যা যা করণীয় সরকার সেই দিকেই মনোনিবেশ করছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনী নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রায় নয় লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদনহীন সভা–সমাবেশ ও আন্দোলন নিয়ে সতর্ক করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, অনেকেরই নায্য দাবি-দাওয়া রয়েছে। গত দেড় বছরে দুই হাজারের বেশি আন্দোলন-বিক্ষোভ সংঘটিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীরা দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেছেন। সরকার নায্য দাবিতে সব সময়ই সাড়া দিয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাতে চেষ্টা করেছে।

‘কিন্তু আমরা এখন নির্বাচনমুখী সময়ে আছি। এ কারণে সকলের যা কিছু দাবি-দাওয়া আছে তা নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। আমরা আশা করব, এ সময়ের মধ্যে কেউ দাবি-দাওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি বা স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্ন করবেন না।’

চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

ত্রয়োদশ ‎জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহে হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল কখন ঘোষণা করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘এই সপ্তাহে তফসিল হয়ে যাবে।’

দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির দপ্তরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিইসি। সাক্ষাৎ শেষে প্রধান বিচারপতির দপ্তর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। দুপুর দেড়টার দিকে সিইসি সুপ্রিম কোর্টে এলে তাঁকে স্বাগত জানান সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ওনার (প্রধান বিচারপতি) সাথে কথা হয়েছে। উনি অবসরে চলে যাচ্ছেন। একটা ফেয়ারওয়েল কল (বিদায়ী সাক্ষাৎ) করতে এসেছি ওনার সাথে।…উনি এ মাসে অবসরে যাবেন। আমরা একসাথে কাজ করেছি। সে জন্য ওনার সাথে একটা ফেয়ারওয়েল কলের মতো, সৌজন্য সাক্ষাৎ আছে না একটা, ফেয়ারওয়েল কল করতে এসেছিলাম ওনার সঙ্গে। অন্য কোনো বিষয় নয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’ (নির্বাচনী তদন্ত কমিটি) যাতে ওনারা ডিপ্লয় করবেন, আমাদের তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে। এই কাজটা যাতে উনি ত্বরান্বিত করেন, সে বিষয়ে ওনাকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

প্রধান বিচারপতি কী আশ্বাস দিয়েছেন—এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘উনি (প্রধান বিচারপতি) জাস্ট, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির যে লোকজন দেওয়ার কথা আছে, ডেপ্লয়মেন্ট আছে, সে ব্যাপারে ওনারা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং নেবেন, কোনো অসুবিধা হবে না বলে অ্যাসিউর (আশ্বস্ত) করেছেন।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, মামলা নিয়ে কোনো কথা হয়নি।