খুঁজুন
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ, ১৪৩৩

খাবার পানির তীব্র সংকট

ঝালকাঠিতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
ঝালকাঠিতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম

ঝালকাঠি জেলার দক্ষিণাংশে বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমসহ প্রায় সারা বছরই খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিম্নমুখী হওয়ায় শহর ও গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ নলকূপ থেকে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গ্রামের মানুষ দৈনন্দিন কাজ ও নিরাপদ পানি সংগ্রহের জন্য অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এই সমস্যা মোকাবিলায় সরকার হাতে নিয়েছিল বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্প, যা বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারযোগ্য করে তুলবে। তবে তা বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পানির সংকটে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বিশাল প্রভাব পড়ছে। এই প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন না হলে বর্ষার পানি সংরক্ষণ ও শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের লক্ষ্য পূরণ হবে না। আর এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

ঝালকাঠি জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের আওতায় সদর উপজেলা বাদে জেলার তিন উপজেলায় ২০২২-২৩,২৩-২৪ অর্থবছরে ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৫ হাজার ৪২৫টি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে ট্যাংক বসিয়ে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, প্রকল্পের বড় অঙ্কের বিল ইতোমধ্যেই উত্তোলন করা হয়েছে। ঠিকাদাররা ২০ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করেছেন, কিন্তু প্রকল্পের সুবিধা গ্রামীণ মানুষদের কাছে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে কাঁঠালিয়া উপজেলার দূর্গম এলাকায় অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রকল্প যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি।

কাঁঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অনেক স্থানে ট্যাংক বসানো হলেও তার উপরে ছাউনি নেই। কিছু ট্যাংকি মাসের পর মাস ফেলে রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যে মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে তা ঠিকাদারের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় বাসিন্দাদের বহন করতে হয়েছে। বহু ইউনিয়নে ট্যাংক, পাইপ, সিমেন্ট, বালি ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী নিজ খরচে আনতে হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। অনেক স্থানে ট্যাংক ফেলা রেখে হয়েছে এবং শেড বা প্লাটফর্ম নির্মাণের দায়িত্বও ঠিকাদার যথাযথভাবে পালন করেননি। তা ছাড়া শ্রমিকদের মজুরি প্রদানের বিষয়েও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে স্থানীয় সুবিধাভোগীরা নিজের খরচে শ্রমিক নিয়োগ ও কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে। এই সমস্ত অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রকল্পের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রকল্পের লক্ষ্য, বর্ষার পানি সংরক্ষণ ও শুষ্ক মৌসুমে নিরাপদ পানি সরবরাহ সঠিকভাবে অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জেলার চারটি উপজেলার মধ্যে উপকূলীয় কাঠালিয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পানির সংকট রয়েছে। তাই এই উপজেলাটির একাধিক ইউনিয়নে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের বাস্তবায়নে অনিয়ম সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

কাঠালিয়ার পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের মো. শাহআলম তালুকদার বলেন, প্রায় এক বছর আগে আমার বাড়িতে ট্যাংকি বসানো হয়। কিন্তু শ্রমিকদের মজুরি পাইনি, মিস্ত্রি নিজেই আমি নিয়েছি। মালামাল আনাও আমার খরচে। ঠিকাদারের কেউ কাজ দেখেনি। অনেক স্থানে শুধু ট্যাংকি এনে ফেলে রাখা হয়েছে। পাইপসহ মালামাল ২–৩ মাস ধরে সরবরাহ হয়নি।

কৃষক অদুদ মিয়া বলেন, আমার বাড়িতে ইট, বালি, সিমেন্ট ও ট্যাংক নিজ খরচে আনতে হয়েছে। প্রায় ১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, তারপরও ট্যাংকের পাইপ ঠিকমতো সংযুক্ত হয়নি। শেষ পর্যন্ত নিজের খরচে পাইপ লাগাতে হয়েছে।

জসিম নামের আরেক কৃষক বলেন, আরও দুই তিন মাস আগে ট্যাংক আনেছি। এখনও এটি পরে আছে। চালু করার জন্য কোনো মালামাল সরবরাহ হয়নি। তাই বর্ষার পানি ধরে রাখতে পারছি না, খালের পানি বিশুদ্ধ করে খেতে হচ্ছে।

তিন উপজেলায় তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করে। এর মধ্যে কাঠালিয়া উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসপি লি. এর মো. জাফরুল হক বলেছেন, আমাদের কাঁঠালিয়াতে ১৮০৯টি কাজের মধ্যে মাত্র ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এখনো অসমাপ্ত কাজের মধ্যে ট্যাংকের প্লাটফর্ম, টিনের শেডসহ যাবতীয় মালামাল নেওয়া এবং কানেকশন দেওয়া বাকি আছে। বর্ষার কারণে এক মাস কাজ করতে পারিনি। তিন বছর ধরে একই কাজ করতে গিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা লস হবে। কাঠালিয়ার দূর্গম এলাকায় মালামাল নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এখনো প্রায় ১০০ ট্যাংকের কাজ বাকি। মালামাল পরিবহনের খরচ আমাদের বহন করতে হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বে) সাইফুর রহমান বলেন, প্রকল্পের কাজ এখনও চলমান আছে। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে টেন্ডার হয়ে ছিল। একটি প্যাকেজে ট্যাংকের উপর পাকা পিলার দিয়ে টিনের শেড করা হয়েছে। মালামাল আনার খরচ ঠিকাদারের। শেড নির্মাণ ও মালামাল বহনের খরচ টেন্ডারে কত ধরা আছে, তা আমি বলতে পারি না। কাঠালিয়ায় দায়িত্বে থাকাকালীন শেড নির্মাণ না হওয়া বা মালামাল বহনের খরচ ঠিকাদার বহন করেনি এমন অভিযোগ পাইনি।

নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার এরশাদুজ্জামান মৃদুল বলেন, ঝালকাঠি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের লোকবল কম, তাই প্রতিটি প্রকল্পে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে মালামাল বহন ও শেড নির্মাণের দায়িত্ব ঠিকাদারের। প্রথমে বাঁশ দিয়ে শেড করানো হয়েছে, পরে পাকা পিলারের নির্দেশ দিয়েছি। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেব। একটি প্যাকেজের কাজ বন্ধ থাকায় ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, অবিলম্বে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

গৌরনদীতে টিফিনের রুটিতে ব্লেড ঢুকিয়ে রাখে স্কুলশিক্ষার্থী, শিক্ষিকা বরখাস্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
গৌরনদীতে টিফিনের রুটিতে ব্লেড ঢুকিয়ে রাখে স্কুলশিক্ষার্থী, শিক্ষিকা বরখাস্ত

 বরিশালের গৌরনদীতে উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক ছাত্রীর মিড ডে মিলের রুটির মধ্যে ব্লেড পাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্ত কমিটি কোম্পানির গাফিলতি কিংবা রুটির মধ্যে ব্লেড ঢুকানোর কোনো তথ্য পায়নি। স্কুলের শিক্ষার্থী কর্তৃক ব্লেড রুটির মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এছাড়াও তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই না করে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক স্কুলশিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকার নাম শারমিন জাহান। তিনি গৌরনদী পৌর এলাকার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

বুধবার দুপুরে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম জানান, সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল ঘটনার সত্যতা উদ্ধার করা।

পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি নির্দেশে তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তদন্ত টিম যেই কারখানা থেকে রুটি সরবরাহ করে সেই কারখানাটি সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং রুটি তৈরির প্রত্যেকটা ধাপ তারা পর্যালোচনা করে। তারা প্র্যাকটিকালি মিক্সার থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা ধাপে ব্লেড দিয়ে দেখেছে কারখানা থেকে কোনোভাবেই এরকম একটা অক্ষত ব্লেড রুটির ভিতরে আসা সম্ভব না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরও বলেন, পরবর্তীতে ঘটনাস্থল হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক কিংবা অভিভাবকদের মধ্যে থেকে কেউ চক্রান্ত করেছে কিনা তা যাচাইয়ের জন্য সব ধরনের পলিসি এপ্লাই করা হয়। এমনকি সংশ্লিষ্ট ছাত্রীর বাড়িতে কোন কোম্পানির ব্লেড ব্যবহার হয় সেই বিষয়ে খবর নেওয়া হয় এবং সেই ব্লেডও উদ্ধার করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, একপর্যায়ে ওই ছাত্রী অবলীলায় স্বীকার করে যে ব্লেডটি তার ব্যাগে ছিল; কিন্তু স্কুলে ব্লেড আনা নিষিদ্ধ তাই ব্যাগ থেকে ব্লেড বের করার পর তার মনে হয়েছে ম্যাডাম যদি ব্লেড দেখে তাহলে তাকে শাস্তি কিংবা বকা দিতে পারে। এজন্য সে ব্লেডটি রুটির মধ্যে লুকিয়ে ফেলে। পরবর্তীতে রুটি খাওয়ার জন্য যখন সে প্যাকেট খোলে তখন পেছন থেকে জান্নাত নামের একটি মেয়ে ব্লেডটি দেখে ফেলে। তখন সে মনে করে জান্নাত যদি ম্যাডামকে বলে তাহলে বকা দিতে পারে। এজন্য সে আগেই ম্যাডামের কাছে গিয়ে বলে ম্যাডাম আমি রুটির মধ্যে ব্লেড পেয়েছি। ম্যাডাম যাচাই-বাছাই না করেই ছবি তুলে শিক্ষকদের মেসেঞ্জার গ্রুপে ছড়িয়ে দেয়। এরপর সদর ক্লাস্টার গ্রুপে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ছবিটি ছড়িয়ে দেয়।

যার কারণে তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার উপক্রম তৈরি হয়। যে কারণে তিন দিনের মধ্যেই ঘটনার বিশ্লেষণ করে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনটি শতভাগ সঠিক বলেও তিনি (উপজেলা নির্বাহী অফিসার) উল্লেখ করেন।

যদিও এর আগে রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক শাহ আলম খান জানিয়েছিলেন, কোকাকোলা ম্যানুফ্যাকচারিং নামের একটি কোম্পানি থেকে স্কুলগুলোতে রুটি সরবরাহ করা হয়। কোম্পানি ফুল অটোমেটিকভাবে রুটি ম্যানুফ্যাকচারিং করে। সেখানে যদি কোনো মেটাল যায় তা মিক্সিংয়ে ক্রাশ হয়ে যাওয়ার কথা। সেখানে এত বড় একটা আস্ত ব্লেড থাকার কথা নয়।

স্কুলশিক্ষিকাকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকা শারমিন জাহানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আলমতাজ টিফিনের রুটি খাওয়ার সময় রুটি ছিঁড়ে তার ভেতরে একটি ব্লেড দেখতে পাওয়ার কথা শ্রেণিশিক্ষক শারমিন জাহানকে জানায়। এ সংক্রান্ত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত হয়।

ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরে মার্কিন ট্যাংকারে হামলা, কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরে মার্কিন ট্যাংকারে হামলা, কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় একটি বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির দামিয়েত্তা বন্দরে থাকা একটি মার্কিন মালিকানাধীন ট্যাংকারে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে জানিয়েছে, মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় একটি মার্কিন মালিকানাধীন ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়েছে।

বন্দরসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইঞ্চকেপ এক পৃথক বার্তায় জানিয়েছে, দামিয়েত্তায় দুটি গ্যাসবাহী ট্যাংকারে আগুন লেগেছে।

সংশ্লিষ্ট তিনটি বাণিজ্যিক সূত্র জানিয়েছে, ড্রোনটি ভাসমান তেলবাহী ট্যাংকার ‘এনার্গোস উইন্টারে’ আঘাত হানে। এতে ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে যায়। পরে আগুনটি ‘গ্যাসলগ সালেম’ নামের আরেকটি জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে। দুটি পৃথক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ড্রোন হামলার ফলেই এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

অ্যামব্রে জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেনি।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তেহরানকে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।

জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমরা তাদের ভয়াবহভাবে আঘাত করব। আমরা তাদের ওপর প্রচণ্ড হামলা চালাব। তারা এর কঠিন মূল্য দেবে।

জর্ডানে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই মাঝআকাশে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। ওই দাবির পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দেন ট্রাম্প।

ইরানের ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ট্রাম্প ‘আকস্মিক হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পৌঁছানোর আগে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য মার্কিন সেনাদের হাতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় ছিল।

মঠবাড়িয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৮ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
মঠবাড়িয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৮ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ
মঠবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার পৌর শহরের ৩ নং ওয়ার্ডে প্রথম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত ৮ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রীর সাথে অশোভন আচরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এক প্রাইভেট শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ফয়সাল নামে ওই প্রাইভেট শিক্ষক টিকিকাটা ওহাবিয়া বালিকা আলিম মাদ্রাসার কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত ওই অভিযোগের বিষয় হিসেবে ৮ বছর বয়সী শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৭ জুলাই (সোমবার) মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে ওই ছাত্রীর মা সুমি আক্তার অধ্যক্ষের অফিসে এসে লিখিত অভিযোগটি দাখিল করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,কম্পিউটার অপারেটর ফয়সাল মিয়ার কাছে প্রাইভেট পড়ার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির সাথে অশোভন আচরণ করা হয়েছে। এমনকি ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রাইভেট পড়ার সময় শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।কারো কাছে যাতে কিছু না বলা হয় সেজন্য শিশুটিকে খুন জখমের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারী সুমি আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগে উল্লেখিত মোবাইল নাম্বারটি রুম্মান নামে ওই ছাত্রীর এক চাচার বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে তার সাথে কথা বললে তিনি জানান,অভিযোগ আমিই দিয়েছিলাম। আবার আমি এটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।প্রিন্সিপল হুজুর বিষয়টি শালিসি ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধান করে দিবেন বলে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন।
মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, প্রথম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওই ছাত্রীর মা মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এসে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে । মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতিকে অবগত করেছি।আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলালের ছেলে খালিদ সাইফুল্লাহ আমিন বাবু জানান,আমি এখন পর্যন্ত ভালোভাবে বিষয়টি অবগত না হলেও কিছুটা অবগত হয়েছি।অধ্যক্ষের সাথে কথা বলে দেখতেছি।বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী জানান,বিষয়টি অবগত হয়েছি।এ ধরনের অপরাধ স্থানীয় পর্যায়ে শালিস ব্যবস্থার কোন বিষয় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।