খুঁজুন
শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০ মাঘ, ১৪৩২

খাবার পানির তীব্র সংকট

ঝালকাঠিতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
ঝালকাঠিতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম

ঝালকাঠি জেলার দক্ষিণাংশে বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমসহ প্রায় সারা বছরই খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিম্নমুখী হওয়ায় শহর ও গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ নলকূপ থেকে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গ্রামের মানুষ দৈনন্দিন কাজ ও নিরাপদ পানি সংগ্রহের জন্য অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এই সমস্যা মোকাবিলায় সরকার হাতে নিয়েছিল বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্প, যা বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারযোগ্য করে তুলবে। তবে তা বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পানির সংকটে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বিশাল প্রভাব পড়ছে। এই প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন না হলে বর্ষার পানি সংরক্ষণ ও শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের লক্ষ্য পূরণ হবে না। আর এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

ঝালকাঠি জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের আওতায় সদর উপজেলা বাদে জেলার তিন উপজেলায় ২০২২-২৩,২৩-২৪ অর্থবছরে ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৫ হাজার ৪২৫টি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে ট্যাংক বসিয়ে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, প্রকল্পের বড় অঙ্কের বিল ইতোমধ্যেই উত্তোলন করা হয়েছে। ঠিকাদাররা ২০ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করেছেন, কিন্তু প্রকল্পের সুবিধা গ্রামীণ মানুষদের কাছে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে কাঁঠালিয়া উপজেলার দূর্গম এলাকায় অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রকল্প যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি।

কাঁঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অনেক স্থানে ট্যাংক বসানো হলেও তার উপরে ছাউনি নেই। কিছু ট্যাংকি মাসের পর মাস ফেলে রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যে মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে তা ঠিকাদারের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় বাসিন্দাদের বহন করতে হয়েছে। বহু ইউনিয়নে ট্যাংক, পাইপ, সিমেন্ট, বালি ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী নিজ খরচে আনতে হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। অনেক স্থানে ট্যাংক ফেলা রেখে হয়েছে এবং শেড বা প্লাটফর্ম নির্মাণের দায়িত্বও ঠিকাদার যথাযথভাবে পালন করেননি। তা ছাড়া শ্রমিকদের মজুরি প্রদানের বিষয়েও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে স্থানীয় সুবিধাভোগীরা নিজের খরচে শ্রমিক নিয়োগ ও কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে। এই সমস্ত অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রকল্পের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রকল্পের লক্ষ্য, বর্ষার পানি সংরক্ষণ ও শুষ্ক মৌসুমে নিরাপদ পানি সরবরাহ সঠিকভাবে অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জেলার চারটি উপজেলার মধ্যে উপকূলীয় কাঠালিয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পানির সংকট রয়েছে। তাই এই উপজেলাটির একাধিক ইউনিয়নে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের বাস্তবায়নে অনিয়ম সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

কাঠালিয়ার পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের মো. শাহআলম তালুকদার বলেন, প্রায় এক বছর আগে আমার বাড়িতে ট্যাংকি বসানো হয়। কিন্তু শ্রমিকদের মজুরি পাইনি, মিস্ত্রি নিজেই আমি নিয়েছি। মালামাল আনাও আমার খরচে। ঠিকাদারের কেউ কাজ দেখেনি। অনেক স্থানে শুধু ট্যাংকি এনে ফেলে রাখা হয়েছে। পাইপসহ মালামাল ২–৩ মাস ধরে সরবরাহ হয়নি।

কৃষক অদুদ মিয়া বলেন, আমার বাড়িতে ইট, বালি, সিমেন্ট ও ট্যাংক নিজ খরচে আনতে হয়েছে। প্রায় ১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, তারপরও ট্যাংকের পাইপ ঠিকমতো সংযুক্ত হয়নি। শেষ পর্যন্ত নিজের খরচে পাইপ লাগাতে হয়েছে।

জসিম নামের আরেক কৃষক বলেন, আরও দুই তিন মাস আগে ট্যাংক আনেছি। এখনও এটি পরে আছে। চালু করার জন্য কোনো মালামাল সরবরাহ হয়নি। তাই বর্ষার পানি ধরে রাখতে পারছি না, খালের পানি বিশুদ্ধ করে খেতে হচ্ছে।

তিন উপজেলায় তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করে। এর মধ্যে কাঠালিয়া উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসপি লি. এর মো. জাফরুল হক বলেছেন, আমাদের কাঁঠালিয়াতে ১৮০৯টি কাজের মধ্যে মাত্র ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এখনো অসমাপ্ত কাজের মধ্যে ট্যাংকের প্লাটফর্ম, টিনের শেডসহ যাবতীয় মালামাল নেওয়া এবং কানেকশন দেওয়া বাকি আছে। বর্ষার কারণে এক মাস কাজ করতে পারিনি। তিন বছর ধরে একই কাজ করতে গিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা লস হবে। কাঠালিয়ার দূর্গম এলাকায় মালামাল নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এখনো প্রায় ১০০ ট্যাংকের কাজ বাকি। মালামাল পরিবহনের খরচ আমাদের বহন করতে হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বে) সাইফুর রহমান বলেন, প্রকল্পের কাজ এখনও চলমান আছে। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে টেন্ডার হয়ে ছিল। একটি প্যাকেজে ট্যাংকের উপর পাকা পিলার দিয়ে টিনের শেড করা হয়েছে। মালামাল আনার খরচ ঠিকাদারের। শেড নির্মাণ ও মালামাল বহনের খরচ টেন্ডারে কত ধরা আছে, তা আমি বলতে পারি না। কাঠালিয়ায় দায়িত্বে থাকাকালীন শেড নির্মাণ না হওয়া বা মালামাল বহনের খরচ ঠিকাদার বহন করেনি এমন অভিযোগ পাইনি।

নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার এরশাদুজ্জামান মৃদুল বলেন, ঝালকাঠি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের লোকবল কম, তাই প্রতিটি প্রকল্পে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে মালামাল বহন ও শেড নির্মাণের দায়িত্ব ঠিকাদারের। প্রথমে বাঁশ দিয়ে শেড করানো হয়েছে, পরে পাকা পিলারের নির্দেশ দিয়েছি। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেব। একটি প্যাকেজের কাজ বন্ধ থাকায় ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, অবিলম্বে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

পিরোজপুরে হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
পিরোজপুরে হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

পিরোজপুরে একটি হত্যা মামলায় ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন জেলা দায়রা ও জজ আদালত। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে পিরোজপুর বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতের বিচারক মুজিবুর রহমান এই রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- স্বপন ওরফে সোহেল মোল্লা (২৮), কাদের মোল্লা (৩৫), আবদুর রশীদ মোল্লা (৭০), ইরানী বেগম (২৫), সুফিয়া বেগম (৪৫) ও পুন্না বেগম। রোজিনা বেগম নামে আরেকজনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।

অন্য আসামিদের মধ্যে আবদুর রব মোল্লা, মন্নাফ মোল্লা, ও মুনসুর মোল্লার আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের আঘাতে আবু আকনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আবদুর জব্বার বাদী হয়ে পিরোজপুর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আবুল কালাম আকন জানান, সোমবার পিরোজপুর বিজ্ঞ দায়রা ও জেলা জজ আদালতের বিচারক মুজিবর রহমান সেসন ৭/২০২০ মোকাদ্দমায় ৬ জন আসামিকে যাবজ্জীবন দিয়েছেন এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। অপর আসামি রোজিনা বেগমকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। অন্য ৩ আসামি আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান।

মামলাটি ছিল জমিজমা ও সুপারী পাড়াকে কেন্দ্র করে। এই মামলার ভিকটিম আবু আকন (৪২) মারাত্বক জখম প্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় পিরোজপুর সদর হাসাপাতালে ভর্তি হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবি পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোটার ও প্রার্থীরা সবাই অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেন, এলাকায় পাতি নেতা ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়েছে। তারা প্রকাশ্যে ভোট কেন্দ্র দখলের হুমকি দিচ্ছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি কঠোরভাবে এসব অপতৎপরতা দমন করতে না পারে, তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবলে ভাটার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গায় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর যৌথবাহিনী ও পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর অপারেশনে যেতে দ্বিধায় রয়েছে। এর ফলে অপরাধীরা আরও সাহস পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেন, অজ্ঞাতনামা মামলার নামে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরি হচ্ছে এবং নির্বাচন-পূর্ব পরিবেশ ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, যৌথবাহিনীর অপারেশনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হবে না- এমন স্পষ্ট ও দৃঢ় নিশ্চয়তা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের পক্ষ থেকে আসা জরুরি। তা না হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা যাবে না।

সবশেষে বরিশাল-৩ আসনের নির্বাচনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান এবি পার্টির এই প্রার্থী।

ম্যাক্রোকে ‘ক্ষমতাচ্যুত’ করার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
ম্যাক্রোকে ‘ক্ষমতাচ্যুত’ করার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

ফিলিস্তিনের গাজায় প্রস্তাবিত শান্তি পরিষদে যোগ দিতে না চাওয়ায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর ওপর ক্ষেপেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফরাসি প্রেসিডেন্টকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে দেশটির ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ম্যাক্রোর আন্তর্জাতিক প্রভাব প্রায় শেষের পথে এবং খুব শিগগিরই তিনি ক্ষমতা থেকে সরে যাবেন। খবর সিএনবিসি’র

ট্রাম্প ‘ক্ষমতাচ্যুত’র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কেউই তাকে (ম্যাক্রো) চায় না, কারণ তিনি খুব শিগগিরই অফিস ছাড়ছেন। যদি তারা শত্রুতামূলক আচরণ করে, তাহলে আমি তার দেশের ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাব।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এরপর বলেন, শুল্ক বসালে তখন নিজেই বোর্ডে (বোর্ড অব পিস) যোগ দেবে। না যোগ দিলেও সমস্যা নেই।

ফ্রান্সের আইন অনুয়ায়ী এমনিতেও প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচন করতে পারবেন না। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের মে মাসে। তবে ট্রাম্প ‘ক্ষমতাচ্যুত’ বলে আসলে কি বুঝিয়েছেন, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদিত বোর্ড অব পিস গত বছরের নভেম্বরে গঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ইসরাইল-হামাস যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করা। এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। আছে ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের মতো দেশ।

এদিকে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে ইউরোপের। গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ইউরোপীয় নেতারা থাকুক বা না থাকুক, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেবে। কারণ এটি ‘বিশ্ব নিরাপত্তার’ জন্য প্রয়োজন।

তিনি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ না পাওয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্যসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে জানান। তবে বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি ইউরোপের দেশগুলো।

ট্রাম্পের এসব কড়া হুমকির জবাবে ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক ও বিস্তৃত অর্থনৈতিক প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। তবে ট্রাম্পের করা ক্ষমতাচ্যুতর কথায় জবাব দেননি ম্যাক্রো।