খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭ ভাদ্র, ১৪৩৩

জোয়ার-ভাটার পানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বলছে অর্ধশতাধিক লাইট

বরগুনা প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
জোয়ার-ভাটার পানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বলছে অর্ধশতাধিক লাইট

বরগুনায় নদীর জোয়ার-ভাটার সময় স্লুইস গেট দিয়ে পানি প্রবেশের স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তাক লাগিয়েছেন মো. মনিরুল ইসলাম নামে এক উদ্ভাবক। তার এমন উদ্ভাবনকৃত বিদ্যুতে একসঙ্গে জ্বলছে প্রায় অর্ধশতাধিক বৈদ্যুতিক লাইট। তিন মাসের প্রচেষ্টায় নদীর পানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মনিরুলের এ সফল উদ্ভাবনে এলাকাবাসী গর্বিত ও আনন্দিত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মনিরুল ইসলাম বরগুনা সদর উপজেলার ৬নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের পুরাকাটা নামক এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার স্থানীয় বাজারের একজন জ্বালানি তেলের ব্যবসায়ী। ২০০৬ সাল থেকে তার ব্যবসার পাশাপাশি প্রাকৃতিক শক্তিকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবনমূলক গবেষণা শুরু করেন। সর্বশেষ তিন মাসের চেষ্টায় সম্পূর্ণ নিজস্ব চিন্তায় মাত্র ৭০ হাজার টাকা ব্যয় করে লোহা দিয়ে কিছু যন্ত্রাংশ তৈরি করেন তিনি। পরে পায়রা নদীতে থাকা একটি স্লুইস গেটে সেগুলো স্থাপন করেন মনিরুল। আর সেখান থেকেই এখন জোয়ারের পানি প্রবাহের স্রোতের মাধ্যমে সফলভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছেন তিনি।

সরেজমিনে সদর উপজেলার পুরাকাটা এলাকার পায়রা নদীর সঙ্গে থাকা স্লুইস গেটটি ঘুরে দেখা যায়, জোয়ারের সময় পায়রা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্লুইসের মাধ্যমে ছোট নদী ও খালে পানি প্রবেশ করছে। আর এ পানি প্রবাহের সময় সৃষ্ট স্রোতকে কাজে লাগাতে স্লুইস গেটের মুখে লোহার তৈরি নিজের উদ্ভাবিত বিশেষ ধরনের একটি ফ্যান বসিয়েছেন মনিরুল। পানির স্রোতের ধাক্কায় ওই ফ্যান ঘুরলেই তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ। এছাড়াও স্বল্প পরিসরে উদ্ভাবিত বিদ্যুতের মাধ্যমেই স্লুইস গেটটির পাশে একসঙ্গে তিনি জ্বালিয়েছেন অর্ধশতাধিক বৈদ্যুতিক লাইট। যা দেখতে ভিড় করছেন পথচারী ও স্থানীয়রা।

এমন উদ্ভাবন দেখে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, মনিরুল তার উদ্ভাবন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলে দেশের জন্য সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবেন। বিশেষ করে কম খরচে উপকূলের নদী এলকার বিভিন্ন মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে তার এ উদ্ভাবন কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করেন তারা।

পুরকাটা এলাকার বাসিন্দা মনিরুলের প্রতিবেশী মো. কামাল হোসেন বলেন, মনিরুল আমার বাল্যবন্ধু হওয়ায় তার এ বিদ্যুৎ উদ্ভাবনের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমাদের সঙ্গে আলাপ করতো। তবে এ কাজ সম্ভব না মনে করে তার কাথার কোনো গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু মনিরুল থেমে থাকেনি। গবেষণা করতে গিয়ে লাখ লাখ টাকাও খরচ করেছে সে। তবে তার একান্ত প্রচেষ্টার ফলে জ্বালানিবিহীন বিদ্যুৎ উৎপাদনে সে সফল হয়েছে। তার এ উদ্ভাবন যদি সরাকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে পারে, তাহলে শুধু বরগুনা নয়, ধীরে ধীরে পুরো দেশ জ্বালানিবিহীন এ বিদ্যুতে আলোকিত হবে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র শীল বলেন, জোয়ার ভাটার পানির স্রোত দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা শুনে আমাদের কাছে অকল্পনীয় এবং অবাস্তব মনে হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ঘাটাঘাটি করে মনিরুল তা বাস্তবে পরিণত করেছেন। মনিরুলের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না। যদি তাকে সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা করা হয়, তাহলে তার এ উদ্ভাবনের মাধ্যমে উপকূলের যারা এখনো বিদ্যুৎ পায়নি তাদের প্রত্যেকের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

স্বামীর সফলতার বিষয়ে মনিরুলের স্ত্রী মোসা. তাসলিমা বেগম বলেন, জোয়ার ভাটার পানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব তা কখনোই ভাবতে পারিনি। তবে আমার স্বামীর দীর্ঘদিনের চেষ্টায় তিনি তা সফল করেছেন। তার এ কাজে সরকারি সহযোগিতা পেলে তিনি ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করতে পারবেন।

প্রতিদিন নদীতে দুইবার জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পায়। আর এ ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব জানিয়ে উদ্ভাবক মনিরুল ইসলাম বলেন, ২০০৬ সাল থেকে দেশ প্রেম থেকেই বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবনী চিন্তা শুরু করেছি। পরে জ্বালানি তেল কেনার খরচ বাঁচাতে নদীর জোয়ার ভাটাকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষে কাজ করতে শুরু করি। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে মাধ্যম তৈরি করেছি তাতে নদীর পানির উচ্চতা ৫ ফুট ব্যবধান হলেই পানির স্রোতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। তবে আরেকটু সংযোজন করলে মাত্র ৩ ফুট উচ্চতার ব্যবধানেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এ উদ্ভাবনটি যদি মানুষের মাঝে প্রকাশ করা যায় তাহলে এক সময় জলবিদ্যুৎ দিয়ে পুরো বাংলাদেশ আলোকিত করা সম্ভব হবে। এছাড়াও বিদ্যুতের জন্য জ্বালানি তেল এবং কয়লা ব্যবহারে যে খরচ হতো তাও হবে না। একবার শুধু জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ স্থাপন করলেই ব্যয়হীনভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে।

জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল হতে কতদিন সময় লেগেছে এবং কী ধরনের ব্যয় হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা চালালেও তিন মাসের চেষ্টায় নাদীর জোয়ার ভাটাকে ব্যবহার করে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল হয়েছি। ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ করে লোহার অ্যাঙ্গেল ও লোহার প্লেট দিয়ে একটি ফ্যান এবং স্ট্রাকচার তৈরি করেছি। পানির চাপে লোহার ওই ফ্যান ঘুরলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মনিরুল বলেন, যেহেতু এটি একটি জলবিদ্যুৎ, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার নদীতে সরকারের সহযোগিতা পেলে এ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। আমার প্রকল্পটি যদি যুক্তিসঙ্গত এবং বিজ্ঞানসম্মত হয় তাহলে চাইলেই জ্বালানি ছাড়া ব্যয়হীন জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশকে আলোকিত করা যাবে।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড বরিশাল জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. গোলাম রব্বানী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তেল গ্যাসসহ যা যা প্রয়োজন হয় এর মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস ছাড়া বাকি সব কিছুই আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সবই ব্যয়বহুল। এছাড়া গ্যাসের মজুতও ধীরে ধীরে কমবে। তবে যদি প্রাকৃতিকভাবে সৌর, বায়ু এবং পানির শক্তিকে ব্যবহার উপযোগী করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় তাহলে জ্বালানি খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশই বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা কমিয়ে এনেছে। আমাদের দেশেও প্রাকৃতিক যেসব উৎস আছে সেগুলোকে কাজে লাগাতে সরকারের দিক থেকেও পরিকল্পনা রয়েছে, পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও সোলার, বায়ু এবং পানি যেখানে যা সম্ভব সেগুলো ব্যবহার করা প্রয়োজন।

 

মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্মানজনক বিদায় চায় যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্মানজনক বিদায় চায় যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্মানজনক বিদায় চায়। এটাকে তিনি ‘নতুন আঞ্চলিক বিন্যাস’ হিসাবে অভিহিত করেন। তার দাবি, সেই ব্যবস্থায় বিদেশি শক্তিগুলো দ্রুত তাদের প্রভাব হারাচ্ছে। আবু মাহদি আল-মুহান্দিস ও কাসেম সোলেইমানির কথা উল্লেখ করে বুধবার এক্স-এ দেওয়া পোস্টে গালিবাফ লেখেন, ‘প্রিয় আবু মাহদি ও হাজ কাসেম! এটি আপনাদের সংগ্রাম ও পবিত্র রক্তের ফসল।

আলজাজিরা জানায়, আবু মাহদি আল-মুহান্দিস ছিলেন ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার। আর কাসেম সোলেইমানি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির কুদস ফোর্সের প্রধান ছিলেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় তারা দুজনেই নিহত হন।

গালিবাফ বলেন, ‘নতুন আঞ্চলিক বিন্যাসে বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ দ্রুত কমে আসছে; যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চল থেকে সম্মানজনকভাবে সরে যাওয়ার পথ খুঁজছে। নদী থেকে সমুদ্র (রিভার টু দ্য সি) পর্যন্ত বিস্তৃত জায়গাজুড়ে জায়নবাদী শাসনব্যবস্থার যে প্রকল্প ছিল, তা এখন কেবলই এক অলীক স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।’

 

ইরানের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আমিরাতের : দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে-এমন অভিযোগে ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে তেহরান হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বুধবার ভোরের দিকে দেওয়া বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে যাবতীয় বাণিজ্য, বাণিজ্যিক আদান-প্রদান এবং আর্থিক লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।’ আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে উৎক্ষেপিত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দ্বারা তার দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এটি একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ (অন্যের ওপর দোষ চাপানোর উদ্দেশ্যে সাজানো কোনো ঘটনা) হতে পারে।

 

বাঘাই সতর্ক করে বলেন, এ দাবি ‘সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতির পরিপন্থি।’ তিনি আঞ্চলিক পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা তেহরানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে দূরে থাকে। তিনি আরও যুক্তি দেন, পরিস্থিতির যে কোনো নিরপেক্ষ মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ড’কেও বিবেচনায় নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ : যুদ্ধের প্রথম ছয় সপ্তাহে ইরান অন্য যে কোনো উপসাগরীয় দেশের তুলনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) লক্ষ্য করে সবচেয়ে বেশি প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছিল। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ বা স্থাপনা হিসাবে চিহ্নিত লক্ষ্যবস্তুর ওপর ৫৩০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ডজনখানেক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০টিরও বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। তবে হামলা চালিয়ে কখনোই দায় অস্বীকার করেনি ইরান। সেক্ষেত্রে এবারের হামলা কারা চালিয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

তালতলীতে বিএনপির পালটাপালটি সভা ঘিরে উত্তেজনা, অস্ত্রসহ আটক ৫

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
তালতলীতে বিএনপির পালটাপালটি সভা ঘিরে উত্তেজনা, অস্ত্রসহ আটক ৫

 সোহেল রানাঃ তালতলীতে বিএনপির দুই গ্রুপের পালটাপালটি সভা কেন্দ্র করে দুদিন ধরে শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযানে ১টি ইয়ারগান এবং বিদেশি অস্ত্র ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার দুপুরে উপজেলার গাবতলী এলাকা থেকে আটকরা হলো- তালতলীর আঙ্গারপাড়ার লিমন সিকদার, কলাপাড়ার চাকামইয়া এলাকার অনিক মজুমদার, বরগুনার কেওরাবুনিয়ার মো. জামাল, নরাইলের লোহাগড়ার জিহাদ খান ও বরগুনার কেওরাবুনিয়ার হৃদয় মোল্লা।

জানা যায়, গত শনিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লাকে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের দেওয়া একটি বক্তব্য কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। এরই জেরে দুই গ্রুপ বুধবার পালটাপালটি বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয়।

পরে গাবতলী এলাকায় ৫ জনকে আটক করে পুলিশ। বিকালে মাহবুবুল আলম মামুনের চাচাতো ভাই আল আমিনের বাড়ি থেকে ১টি এয়ারগান উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, জেলা বিএনপির প্রকাশ্য মদদে আমার লোকজনদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

আজকের সমাবেশে সন্ত্রাসী হামলা করার জন্য বহিরাগতদের ভাড়া করে এনেছে। মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে আমি অবগত না। ওসি সাইদুল ইসলাম বলেন, এখনোও যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে।

সৌদিতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন বাংলাদেশের জাকারিয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন বাংলাদেশের জাকারিয়া

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন হিফজ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় অনন্য সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশের হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া। বিশ্বের ১৩৩টি দেশের শত শত প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রতিযোগিতার চতুর্থ শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন তিনি। খবর এসপিএ’র।

হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া রাজধানীর আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। এবারের প্রতিযোগিতায় তিনি চতুর্থ শাখায় অংশ নেন। এ শাখায় প্রতিযোগীদের টানা ১৫ পারা পবিত্র কুরআন হিফজের পাশাপাশি শুদ্ধ তিলাওয়াত ও তাজবিদের দক্ষতা যাচাই করা হয়।

সবগুলো ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন বাংলাদেশের এই কুরআনের হাফেজ। এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন প্রতিযোগী।

পাঁচটি পৃথক শাখায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় সৌদি আরবের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিচারকরা প্রতিযোগীদের কুরআন হিফজ, তিলাওয়াত, তাজবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা মূল্যায়ন করেন। বিভিন্ন শাখায় মোট ৫০ জন প্রতিযোগীকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে।

সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক, দাওয়াহ ও দিকনির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এবারের মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কারমূল্য এক কোটি ২৬ লাখ সৌদি রিয়াল।