খুঁজুন
শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

জোয়ার-ভাটার পানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বলছে অর্ধশতাধিক লাইট

বরগুনা প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
জোয়ার-ভাটার পানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বলছে অর্ধশতাধিক লাইট

বরগুনায় নদীর জোয়ার-ভাটার সময় স্লুইস গেট দিয়ে পানি প্রবেশের স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তাক লাগিয়েছেন মো. মনিরুল ইসলাম নামে এক উদ্ভাবক। তার এমন উদ্ভাবনকৃত বিদ্যুতে একসঙ্গে জ্বলছে প্রায় অর্ধশতাধিক বৈদ্যুতিক লাইট। তিন মাসের প্রচেষ্টায় নদীর পানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মনিরুলের এ সফল উদ্ভাবনে এলাকাবাসী গর্বিত ও আনন্দিত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মনিরুল ইসলাম বরগুনা সদর উপজেলার ৬নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের পুরাকাটা নামক এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার স্থানীয় বাজারের একজন জ্বালানি তেলের ব্যবসায়ী। ২০০৬ সাল থেকে তার ব্যবসার পাশাপাশি প্রাকৃতিক শক্তিকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবনমূলক গবেষণা শুরু করেন। সর্বশেষ তিন মাসের চেষ্টায় সম্পূর্ণ নিজস্ব চিন্তায় মাত্র ৭০ হাজার টাকা ব্যয় করে লোহা দিয়ে কিছু যন্ত্রাংশ তৈরি করেন তিনি। পরে পায়রা নদীতে থাকা একটি স্লুইস গেটে সেগুলো স্থাপন করেন মনিরুল। আর সেখান থেকেই এখন জোয়ারের পানি প্রবাহের স্রোতের মাধ্যমে সফলভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছেন তিনি।

সরেজমিনে সদর উপজেলার পুরাকাটা এলাকার পায়রা নদীর সঙ্গে থাকা স্লুইস গেটটি ঘুরে দেখা যায়, জোয়ারের সময় পায়রা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্লুইসের মাধ্যমে ছোট নদী ও খালে পানি প্রবেশ করছে। আর এ পানি প্রবাহের সময় সৃষ্ট স্রোতকে কাজে লাগাতে স্লুইস গেটের মুখে লোহার তৈরি নিজের উদ্ভাবিত বিশেষ ধরনের একটি ফ্যান বসিয়েছেন মনিরুল। পানির স্রোতের ধাক্কায় ওই ফ্যান ঘুরলেই তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ। এছাড়াও স্বল্প পরিসরে উদ্ভাবিত বিদ্যুতের মাধ্যমেই স্লুইস গেটটির পাশে একসঙ্গে তিনি জ্বালিয়েছেন অর্ধশতাধিক বৈদ্যুতিক লাইট। যা দেখতে ভিড় করছেন পথচারী ও স্থানীয়রা।

এমন উদ্ভাবন দেখে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, মনিরুল তার উদ্ভাবন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলে দেশের জন্য সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবেন। বিশেষ করে কম খরচে উপকূলের নদী এলকার বিভিন্ন মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে তার এ উদ্ভাবন কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করেন তারা।

পুরকাটা এলাকার বাসিন্দা মনিরুলের প্রতিবেশী মো. কামাল হোসেন বলেন, মনিরুল আমার বাল্যবন্ধু হওয়ায় তার এ বিদ্যুৎ উদ্ভাবনের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমাদের সঙ্গে আলাপ করতো। তবে এ কাজ সম্ভব না মনে করে তার কাথার কোনো গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু মনিরুল থেমে থাকেনি। গবেষণা করতে গিয়ে লাখ লাখ টাকাও খরচ করেছে সে। তবে তার একান্ত প্রচেষ্টার ফলে জ্বালানিবিহীন বিদ্যুৎ উৎপাদনে সে সফল হয়েছে। তার এ উদ্ভাবন যদি সরাকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে পারে, তাহলে শুধু বরগুনা নয়, ধীরে ধীরে পুরো দেশ জ্বালানিবিহীন এ বিদ্যুতে আলোকিত হবে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র শীল বলেন, জোয়ার ভাটার পানির স্রোত দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা শুনে আমাদের কাছে অকল্পনীয় এবং অবাস্তব মনে হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ঘাটাঘাটি করে মনিরুল তা বাস্তবে পরিণত করেছেন। মনিরুলের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না। যদি তাকে সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা করা হয়, তাহলে তার এ উদ্ভাবনের মাধ্যমে উপকূলের যারা এখনো বিদ্যুৎ পায়নি তাদের প্রত্যেকের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

স্বামীর সফলতার বিষয়ে মনিরুলের স্ত্রী মোসা. তাসলিমা বেগম বলেন, জোয়ার ভাটার পানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব তা কখনোই ভাবতে পারিনি। তবে আমার স্বামীর দীর্ঘদিনের চেষ্টায় তিনি তা সফল করেছেন। তার এ কাজে সরকারি সহযোগিতা পেলে তিনি ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করতে পারবেন।

প্রতিদিন নদীতে দুইবার জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পায়। আর এ ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব জানিয়ে উদ্ভাবক মনিরুল ইসলাম বলেন, ২০০৬ সাল থেকে দেশ প্রেম থেকেই বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবনী চিন্তা শুরু করেছি। পরে জ্বালানি তেল কেনার খরচ বাঁচাতে নদীর জোয়ার ভাটাকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষে কাজ করতে শুরু করি। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে মাধ্যম তৈরি করেছি তাতে নদীর পানির উচ্চতা ৫ ফুট ব্যবধান হলেই পানির স্রোতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। তবে আরেকটু সংযোজন করলে মাত্র ৩ ফুট উচ্চতার ব্যবধানেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এ উদ্ভাবনটি যদি মানুষের মাঝে প্রকাশ করা যায় তাহলে এক সময় জলবিদ্যুৎ দিয়ে পুরো বাংলাদেশ আলোকিত করা সম্ভব হবে। এছাড়াও বিদ্যুতের জন্য জ্বালানি তেল এবং কয়লা ব্যবহারে যে খরচ হতো তাও হবে না। একবার শুধু জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ স্থাপন করলেই ব্যয়হীনভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে।

জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল হতে কতদিন সময় লেগেছে এবং কী ধরনের ব্যয় হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা চালালেও তিন মাসের চেষ্টায় নাদীর জোয়ার ভাটাকে ব্যবহার করে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল হয়েছি। ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ করে লোহার অ্যাঙ্গেল ও লোহার প্লেট দিয়ে একটি ফ্যান এবং স্ট্রাকচার তৈরি করেছি। পানির চাপে লোহার ওই ফ্যান ঘুরলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মনিরুল বলেন, যেহেতু এটি একটি জলবিদ্যুৎ, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার নদীতে সরকারের সহযোগিতা পেলে এ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। আমার প্রকল্পটি যদি যুক্তিসঙ্গত এবং বিজ্ঞানসম্মত হয় তাহলে চাইলেই জ্বালানি ছাড়া ব্যয়হীন জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশকে আলোকিত করা যাবে।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড বরিশাল জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. গোলাম রব্বানী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তেল গ্যাসসহ যা যা প্রয়োজন হয় এর মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস ছাড়া বাকি সব কিছুই আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সবই ব্যয়বহুল। এছাড়া গ্যাসের মজুতও ধীরে ধীরে কমবে। তবে যদি প্রাকৃতিকভাবে সৌর, বায়ু এবং পানির শক্তিকে ব্যবহার উপযোগী করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় তাহলে জ্বালানি খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশই বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা কমিয়ে এনেছে। আমাদের দেশেও প্রাকৃতিক যেসব উৎস আছে সেগুলোকে কাজে লাগাতে সরকারের দিক থেকেও পরিকল্পনা রয়েছে, পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও সোলার, বায়ু এবং পানি যেখানে যা সম্ভব সেগুলো ব্যবহার করা প্রয়োজন।

 

৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

ডিসেম্বর মাসের প্রথম আট দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। এ জন্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে মূলত প্রবাসী ও রপ্তানি আয়ের ধারাকে সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার এই ডলার কেনা হয়।

এ সময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ২৭ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ২৯ পয়সা পর্যন্ত। কাট-অফ রেট ১২২ টাকা ২৯ পয়সা, যা মাল্টিপল প্রাইস নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা যায়, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এ পর্যন্ত নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ২৫১ কোটি ৪০ লাখ (২ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার) ডলার কিনেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ জুলাই থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি মাসের ১ থেকে ৮ ডিসেম্বর সময়ে দেশে ১০০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। এর মধ্যে ৮ ডিসেম্বর এসেছে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ৮৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ শতাংশ।

পাশাপাশি গত জুলাই থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৪০৪ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ১৯৬ কোটি ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন সমাবেশ, আন্দোলন করা থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সতর্ক করে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত যে কোনো ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন আন্দোলন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যারা বেআইনিভাবে সভা-সমাবেশে অংশ নেবেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর হয়- এটিই বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য। একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য যা যা করণীয় সরকার সেই দিকেই মনোনিবেশ করছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনী নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রায় নয় লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদনহীন সভা–সমাবেশ ও আন্দোলন নিয়ে সতর্ক করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, অনেকেরই নায্য দাবি-দাওয়া রয়েছে। গত দেড় বছরে দুই হাজারের বেশি আন্দোলন-বিক্ষোভ সংঘটিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীরা দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেছেন। সরকার নায্য দাবিতে সব সময়ই সাড়া দিয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাতে চেষ্টা করেছে।

‘কিন্তু আমরা এখন নির্বাচনমুখী সময়ে আছি। এ কারণে সকলের যা কিছু দাবি-দাওয়া আছে তা নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। আমরা আশা করব, এ সময়ের মধ্যে কেউ দাবি-দাওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি বা স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্ন করবেন না।’

চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

ত্রয়োদশ ‎জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহে হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল কখন ঘোষণা করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘এই সপ্তাহে তফসিল হয়ে যাবে।’

দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির দপ্তরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিইসি। সাক্ষাৎ শেষে প্রধান বিচারপতির দপ্তর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। দুপুর দেড়টার দিকে সিইসি সুপ্রিম কোর্টে এলে তাঁকে স্বাগত জানান সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ওনার (প্রধান বিচারপতি) সাথে কথা হয়েছে। উনি অবসরে চলে যাচ্ছেন। একটা ফেয়ারওয়েল কল (বিদায়ী সাক্ষাৎ) করতে এসেছি ওনার সাথে।…উনি এ মাসে অবসরে যাবেন। আমরা একসাথে কাজ করেছি। সে জন্য ওনার সাথে একটা ফেয়ারওয়েল কলের মতো, সৌজন্য সাক্ষাৎ আছে না একটা, ফেয়ারওয়েল কল করতে এসেছিলাম ওনার সঙ্গে। অন্য কোনো বিষয় নয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’ (নির্বাচনী তদন্ত কমিটি) যাতে ওনারা ডিপ্লয় করবেন, আমাদের তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে। এই কাজটা যাতে উনি ত্বরান্বিত করেন, সে বিষয়ে ওনাকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

প্রধান বিচারপতি কী আশ্বাস দিয়েছেন—এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘উনি (প্রধান বিচারপতি) জাস্ট, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির যে লোকজন দেওয়ার কথা আছে, ডেপ্লয়মেন্ট আছে, সে ব্যাপারে ওনারা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং নেবেন, কোনো অসুবিধা হবে না বলে অ্যাসিউর (আশ্বস্ত) করেছেন।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, মামলা নিয়ে কোনো কথা হয়নি।