খুঁজুন
সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫ মাঘ, ১৪৩২

গোল্ডেন সিল্ক রোড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন দেশের ২৯ সাংবাদিক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
গোল্ডেন সিল্ক রোড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন দেশের ২৯ সাংবাদিক

চীন বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো ‘গোল্ডেন সিল্ক রোড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্ব ফুটিয়ে তোলার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার পেলেন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২৯ জন সাংবাদিক।

বুধবার শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রতিটি বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারীকে নগদ এক লাখ টাকা ও সনদ, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দুই জনকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও সনদ এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী তিন জনকে ৩০ হাজার টাকা করে এবং সনদ দেওয়া হয়। মোট পাঁচটি শ্রেণিতে দেওয়া হয় পুরস্কার।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওফেং, চায়না মিডিয়া গ্রুপ–সিএমজির বাংলা বিভাগের পরিচালক ইউ কুয়াং ইউয়ে আনন্দী, চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস এসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হান খুন, আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টারের প্রেসিডেন্ট চুয়াং লিফং। এছাড়া প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিশিষ্টজনরা।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, গোল্ডেন সিল্ক রোড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস কেবল সেরা কাজের স্বীকৃতি নয়, বরং দুই দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। তথ্য ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান আমাদের দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বকে আরও গভীর করবে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ চর্চার মাধ্যমে আমাদের সাংবাদিকরা দুই দেশের উন্নয়ন ও জনজীবনের গল্পগুলো বিশ্বদরবারে তুলে ধরবেন।

বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, গোল্ডেন সিল্ক রোড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সংবাদমাধ্যম কেবল তথ্য সরবরাহ করে না, বরং দুই দেশের সমাজ ও সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।

পুরস্কার পেলেন যারা

৫টি ক্যাটাগরিতে জমা পড়া মনোনয়ন থেকে বছরের সেরা ২৯টি প্রতিবেদনকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বা সম্প্রচারিত প্রতিবেদনগুলোকে মনোনয়নের জন্য বিবেচনা করা হয়।

অর্থনীতি ও প্রযুক্তি বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন ডেইলি সানের মো. মুনির হোসেন, দ্বিতীয় হয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনের গোলাম মওলা এবং রূপালী বাংলাদেশের আব্দুর রহিম। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ডেইলি সানের রফিকুল ইসলাম, ঢাকা পোস্টের আব্দুর রহমান এবং ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের আসজাদুল কিবরিয়া।

খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন দৈনিক ভোরের কাগজের এস এম নাজমুল হক ইমন। দ্বিতীয় হয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনের তানজিম আহমেদ, সকাল সন্ধ্যার রাহেনুর ইসলাম। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ঢাকা পোস্টের জোবায়ের হোসেন, স্টার নিউজের ফাসিউর রহমান সিফাত এবং দৈনিক ইনকিলাবের কামরুল হাসান খান।

ভিজ্যুয়ালস শ্রেণিতে প্রথম হয়েছেন বিডিনিউজের মাহমুদ জামান অভি। দ্বিতীয় হয়েছেন সারাবাংলার হাবিবুর রহমান। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন আজকের পত্রিকার জাহিদুল ইসলাম সজল, নাগরিক প্রতিদিনের ওলিদ ইবনে শাহ এবং বিডিনিউজের মাসুম বিল্লাহ।

জেনারেল নিউজ ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছেন রূপালী বাংলাদেশের সেলিম আহমেদ। দ্বিতীয় হয়েছেন ডেইলি সানের মৌসুমি ইসলাম এবং কালের কণ্ঠের মোহাম্মদ শরীফুল আলম। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন জাগো নিউজের মফিজুল সাদিক, বিডিনিউজের জেসমিন মলি এবং যমুনা টিভির সালাউদ্দিন আহমেদ।

মিডিয়া ইনোভেশন বিভাগ প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন আরটিভির মো. ইমরুল হাসান। যৌথভাবে দ্বিতীয় হয়েছেন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের রাশেদুর রহমান, ইনডিপেনডেন্ট টিভির ওয়ালিউল আলম বিশ্বাস এবং একই রিপোর্টের জন্য যৌথভাবে বাংলা ট্রিবিউনের আরশাদ আলী ও সুদীপ্ত নুরুল কবীর পুরস্কৃত।

অনুষ্ঠানে দীপ্ত টিভি, চ্যানেল ২৪, আরটিভি, বাংলাভিশন এবং রেডিও টুডেকে আউটস্ট্যান্ডিং পার্টনারশিপ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠাগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন সিএমজি বাংলা বিভাগের পরিচালক ইউ কুয়াং ইউয়ে আনন্দী।

এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, ডিপ্লোম্যাটিক কারেসপন্ডেন্ট এসোসিয়েশন বাংলাদেশ, ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সিনে-জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশ, টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশন, অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স, বাংলাদেশ চায়না আপন মিডিয়া ক্লাবকে আউটস্ট্যান্ডিং অর্গানাইজেশন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন।

চীনা দূতাবাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে চায়না মিডিয়া গ্রুপের বাংলা বিভাগ। সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টার, চায়নিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ, ওভারসিজ চায়নিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ চায়না আপন মিডিয়া ক্লাব, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিক্যাব, ইআরএফ, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সিনে-জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশ, অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স।

জমকালো এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ঋতু রাজ, কানিজ খন্দকার মিতু, সাজিয়া সুলতানা পুতুল, লুইপা, ওয়েন্ডি লিউ এবং জেসন ওয়াং সংগীত পরিবেশন করেন। এ ছাড়া আগত অতিথিদের জন্য ছিল র‌্যাফেল ড্র। পুরস্কার হিসেবে ছিল চীনের জনপ্রিয় মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনরের স্মার্টফোন।

অনুষ্ঠানে সমপানী বক্তব্যে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, গোল্ডেন সিল্ক রোড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডসে আপনাদের সাথে উপস্থিত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে আমি সকল বিজয়ী মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। একই সাথে দুই দেশের সেই সকল মিডিয়া গ্রুপ ও বন্ধুদের ধন্যবাদ জানাই যারা দীর্ঘকাল ধরে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে সমর্থন দিয়ে আসছেন। মিডিয়া বিনিময় বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শেখার সুযোগ তৈরি করে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সংবাদ আদান-প্রদানের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। চীন-বাংলাদেশ মিডিয়া সহযোগিতা মানুষের জীবনযাত্রার প্রকৃত উন্নতি এবং সাংস্কৃতিক বন্ধনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

তথ্য প্রযুক্তি খাতে ন্যাশনাল টেক অ্যাওয়ার্ড পেলেন বরিশালের ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা

বার্তা ডেস্ক ‍॥
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
তথ্য প্রযুক্তি খাতে ন্যাশনাল টেক অ্যাওয়ার্ড পেলেন বরিশালের ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম সম্মানজনক পদক ‘ন্যাশনাল টেক অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অর্জন করেছেন ইঞ্জিনিয়ার বিডি নেটওয়ার্ক-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) জিহাদ।

বাংলাদেশের টেক শিল্পে বিশেষ অবদান এবং দক্ষ জনবল তৈরির স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে (কর্পোরেট আইকোন সিইও) সম্মাননা প্রদান করা হয়।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর কাকরাইলস্থ আইডিবি অডিটোরিয়ামে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠানে দেশের আইটি খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নিজের বলার মত গল্প ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান ও ফ্রীল্যান্সিং মেন্টর জনাব ইকবাল বাহার জাহিদ, এবং টেক টিউবার সোহাগ ৩৬০ এর ফাউন্ডার সোহাগ মিয়া।

২০০৯ সালে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে ওয়েব হোস্টিং ও ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ফার্ম হিসেবে ‘ইঞ্জিনিয়ার বিডি নেটওয়ার্ক’-এর যাত্রা শুরু করেন জিহাদ। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণদের নিয়ে একটি দক্ষ সাপোর্ট টিম তৈরির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে আসছেন।

বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ার বিডি নেটওয়ার্ক এর রয়েছে ৪ হাজার এর অধিক গ্রাহক ডোমেইন, ওয়েব হোস্টিং, ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইটি সেবা প্রদান করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য—বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় বিশ্বস্ত ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের আইটি সেক্টরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা নিয়ে কাজ করছেন।

পুরস্কার প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় জিহাদ বলেন, “এই অর্জন শুধু আমার নয়, বরং পুরো ইঞ্জিনিয়ার বিডি টিমের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। আমরা আগামীতে আরও উন্নত প্রযুক্তি ও সেবা নিয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাবো।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায়  নিহত ৩

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার তাঁতিবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এ দিকে দুর্ঘটনার পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। এতে ভোগান্তিতে পড়েন দক্ষিণ অঞ্চলের বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার যাত্রীরা।

মাদারীপুরের মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রাজৈরের টেকেরহাট থেকে একটি কাভার্ডভ্যান বরিশালের দিকে যাচ্ছিল। মাঝপথে সদর উপজেলার তাঁতিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে অপর দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানকে সামনে থেকে চাপা দেয় ওই কাভার্ডভ্যানটি। এতে ঘটনাস্থলেই নারীসহ দুই ভ্যানযাত্রী নিহত হন। আহত হন দুজন। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শহর শয্যা জেলা হাসপাতালে নিলে সেখানে মারা যান এক নারী।

বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা চেয়ে আদালতে আবেদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা চেয়ে আদালতে আবেদন

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিটে বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত হতে পৃথক তিনটি আবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এদিকে চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা চেয়ে আদালতে আবেদন দিয়েছে রিট আবেদনকারীপক্ষ। বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন নথিভুক্ত করে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন রেখেছেন।

পক্ষভুক্ত হতে যাঁরা আবেদন দিয়েছেন তাঁরা হলেন বার্থ অপারেটর এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন সেলিম, স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির পক্ষে প্রধান সমন্বয়ক জিয়াউল হক ও শ্রমিকনেতা তসলিম উদ্দিন।

এর আগে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিটের ওপর গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বিভক্ত রায় দেন বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

২০১৫ সালের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) আইন ও ২০১৭ সালের জিটুজির নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব। এর সঙ্গে একমত নন উল্লেখ করে বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট আবেদন (রুল ডিসচার্জ) খারিজ করে রায় দেন।

এ অবস্থায় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে একটি একক বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি। বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হয়। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রিটটি আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত বলেন, অবকাশ শেষে রিটটি শুনবেন। অবকাশ শেষে ৪ জানুয়ারি নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শুরু হয়।

আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী হেলাল চৌধুরী শুনানিতে অংশ নেন। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আনোয়ার হোসেন। শাহাদাত হোসেন সেলিমের পক্ষে আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ কে এম ফয়েজ এবং শ্রমিকনেতা তসলিম উদ্দিনের পক্ষে আইনজীবী সাকিব মাহবুব শুনানিতে ছিলেন।

‘হাইকোর্টের দ্বিধাবিভক্ত রায় সত্ত্বেও এনসিটির চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে’ শীর্ষক বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন যুক্ত করে স্থিতাবস্থা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারীর আইনজীবী আনোয়ার হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিভক্ত রায়ের পর রুলের ওপর বিষয়বস্তুতে ৪ ও ৮ জানুয়ারি এবং আজ শুনানি হয়। তৃতীয় বেঞ্চে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাই চলমান প্রক্রিয়ার ওপর স্থিতাবস্থা চেয়ে আজ আবেদনটি দাখিল করা হয়, যা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পৃথক ব্যক্তি–সংগঠনের পক্ষে রিটে বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত হতে তিনটি আবেদন দাখিল করা হয়েছে, যা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

শ্রমিকনেতা তসলিম উদ্দিনের আইনজীবী সাকিব মাহবুব প্রথম আলোকে বলেন, রিটে বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত হতে আবেদন দাখিল করা হয়েছে। আবেদনটি নথিতে রেখেছেন আদালত। পক্ষভুক্ত হতে করা আবেদনকারীদের বক্তব্য শুনবেন বলেছেন আদালত। সে জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন রেখেছেন। রিট সমর্থন করে শুনানিতে অংশ নেবেন বলেন জানান এই আইনজীবী।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক হয়। এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন গত বছর ওই রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৩০ জুলাই হাইকোর্ট রুল দেন। রুলের ওপর শুনানি শেষে গত ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে বিভক্ত রায় হয়।

চালু এই টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির আওতায় জিটুজি ভিত্তিতে টার্মিনালটি ছেড়ে দেওয়ার এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন, পেশাজীবী ও শ্রমিকেরা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন।

২০০৭ সালে বন্দর এই টার্মিনাল নির্মাণ করে। টার্মিনালটি নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সংযোজনে বন্দর কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে মোট ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার আগপর্যন্ত চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেডের এই টার্মিনাল পরিচালনা করার কথা রয়েছে।