খুঁজুন
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৬ মাঘ, ১৪৩২

কুয়াকাটার সৈকতে ঝিনুকের ঝলক, পর্যটকে মুখরিত বালুচর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
কুয়াকাটার সৈকতে ঝিনুকের ঝলক, পর্যটকে মুখরিত বালুচর

স্টাফ রিপোর্টার : ভোরের হিমেল বাতাসে যখন কুয়াকাটার নীল সমুদ্র ধীরে ধীরে ছুঁয়ে যায় তীর, তখন চোখে পড়ে এক অসাধারণ দৃশ্য। ঢেউ ভাঙা বালুচরে ছড়িয়ে থাকা ঝিনুকের সারি। সূর্যের প্রথম আলো পড়তেই সেই রঙিন ঝিনুকগুলো ঝিকিমিকি করে ওঠে, যেন সমুদ্র নিজেই সাজিয়েছে মুক্তোর মালা। একদিকে বিশাল সমুদ্র, আরেক পাশে সবুজ বনবেষ্টনী।

তার মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা বীচ পথ। হেঁটে চলতে চলতে মনে হয় প্রকৃতি যেন খুলে দিয়েছে নিজের সেরা প্রদর্শনী। দূর থেকে দেখলে বালুচরকে মনে হয় রূপালি কারুকাজে আঁকা এক বিশাল ক্যানভাস, আর সেই দৃশ্য দেখতে সকাল থেকেই ভিড় জমে পর্যটকদের। ঢেউয়ের ফাঁকে ছোট ছোট শিশুরা খুঁজে বেড়ায় ঝিনুক।

পেলে আনন্দে ভরে যায় তাদের চোখ-মুখ। তরুণ-তরুণীরা হাতে তোলে রঙিন ঝিনুক। কেউ রাখে স্মৃতির খাতায়, কেউ ক্যামেরার ফ্রেমে। আবারো ঢেউ আসে, আবার ঝিনুক পানিতে হেসে ওঠে।

বিকালের সোনালি আলোয় সৈকতের রূপ যেন আরো বদলে যায়। তখন ঝিনুক শুধু প্রকৃতির উপাদান নয়, হয়ে ওঠে ছবির কেন্দ্রবিন্দু। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ বসে; ঝিনুক হাতে ছবি তুলতে ব্যস্ত সবাই। কুয়াকাটায় আসা মানেই যেন একবার ঝিনুক হাতে ছবি না তুললে সফরটাই অপূর্ণ থেকে যায়। ভাটার সময় যখন সমুদ্রের পানি সরে যায়, তখন বালুচরে নেমে পড়েন স্থানীয় নারীরা।

তারা সংগ্রহ করেন ঝিনুক, যা শীতের মৌসুমে হয়ে ওঠে অর্থকড়ির উৎস। সৈকতের ধারে বসে যায় অস্থায়ী দোকান, যেখানে বিক্রি হয় ঝিনুক দিয়ে তৈরি হার, দুল, শোপিস, ছোট বাক্স। পর্যটকরা সেগুলো কিনে নিয়ে যান কুয়াকাটার একটি টুকরো স্মৃতি হিসেবে।

সেই দোকানগুলোর একটিতে বসে ফাতেমা বেগম ঝিনুক গেঁথে বলছিলেন, এই ঝিনুক দিয়েই সংসার চলে। মৌসুমে যা বিক্রি হয়, তা দিয়েই অনেক খরচ মেটাতে পারি। তবে তিনি জানেন, ঝিনুক সংগ্রহে পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু জীবিকা তো আর থেমে থাকে না।

এই সৌন্দর্যের আড়ালে আছে এক ধরনের শঙ্কা। পরিবেশকর্মী আরিফুর রহমান সতর্ক করে বলেন, ঝিনুকের সৌন্দর্য উপভোগ করুন, কিন্তু লাগামহীন সংগ্রহ চলতে থাকলে কুয়াকাটার জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়বে। প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। উপকূলের পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু বলেন, ঝিনুক শুধু দেখার বস্তু নয়, এটি উপকূলের প্রাণ। ঢেউয়ের তালে যখন ঝিনুক ঝলমল করে, মনে হয় প্রকৃতিই যেন তুলেছে তার সেরা রঙতুলি।

কবি হেনরী স্বপনের ভাষায়, কুয়াকাটার ঝিনুক মানেই এক খণ্ড কবিতা। সকাল থেকে সন্ধ্যা ঝিনুক আর ঢেউ মিলিয়ে তৈরি করে এক অনবদ্য ছন্দ, যা হৃদয়ে থেকে যায় দীর্ঘকাল। আর সেই মুহূর্তে, সৈকতের ধারে দাঁড়িয়ে মনে হয় সমুদ্র শুধু ঢেউ নয়, তার গভীরে লেখা আছে প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ কবিতা, ঝিনুকের ভাষায় আর ঢেউয়ের ছন্দে।

 

‘নির্বাচনে অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
‘নির্বাচনে অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, প্রশাসনের একপাক্ষিক আচরণের যে অভিযোগ প্রার্থীরা করছেন তা রাজনৈতিক, তারা ভোটার টানতে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন।

 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আয়োজিত বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা মিটিং শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। যার যার বক্তব্য সে সে দেবে। পলিটিক্যাল বক্তব্য একেকজন একেকভাবে দেবে।

এ সময় তিনি নির্বাচনে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে ১ লাখ সেনাবাহিনী, দেড়লাখ পুলিশ, ৫ হাজার নেভি, ৩৭ হাজার বিজিবি ১০ হাজার র‌্যাব, ৫ হাজার কোস্টগার্ড ও প্রায় ৬ লাখ আনসার মোতায়েন করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড এবং নেভির সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ হয়, সে লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

এবার নির্বাচনে বিএনসিসিও নিয়োগ করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবার বডি ক্যামেরা রাখা হয়েছে, অপরাধ করে কেউ পাড় পাবে না। সিসি ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া, সুরক্ষা অ্যাপের সহায়তায় এর আগে পূজা শান্তিপূর্ণ হয়েছে, ইলেকশনও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পুলিশের আইজি বাহারুল আলম, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানসহ বিভাগের ছয় জেলার সরকারি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার: প্রেস সচিব

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার: প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে অসংখ্য অপতথ্য মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার। মিথ্যা খবর প্রচারের ফলে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আইনি ব্যবস্থার সুযোগ থাকা উচিত।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা ইনটারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেস সচিব জানান, নানামুখী অপতথ্য মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা সীমিত। তবুও অন্তর্বর্তী সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশকে নিয়ে নিয়মিত মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। বিভিন্নজন নামে-বেনামে ইউটিউব চ্যানেল খুলেও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ তার।

ঝালকাঠির দু’টি আসনেই ধানের শীষের আধিপত্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখার সাথে

রাসেল হোসেন:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
ঝালকাঠির দু’টি আসনেই ধানের শীষের আধিপত্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখার সাথে

বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝালকাঠির দুইটি আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীরা এগিয়ে থাকছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখার সাথে। জানা গেছে, ঝালকাঠি-১ ও ঝালকাঠি-২ উভয় আসন বিএনপির ভোটব্যাংক বলে পরিচিত। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় আর জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন জোট ভেঙ্গে যাওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বিএনপির প্রার্থীরা।

জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের জোট থাকলে বিএনপির প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তেন। ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামালের সাথে প্রতিদ্বন্দিতা হবে জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লায় প্রার্থী ড.ফয়জুল হক ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখায় প্রার্থী মাওলানা ইব্রাহিম আল হাদির ।

এছাড়া এ আসনে মোরগ মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থি মো. সাব্বির আহমেদ, তারা মার্কায় জেএসডির মোঃ সোহরাব হোসেন, কলম প্রতীকে জনতার দলের মোঃ জসিম উদ্দিন তালুকদার, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মোঃ কামরুজ্জামান খান, হাস প্রতীকে স্বতন্ত্রে এম মঈন আলম ফিরোজী, গণ অধিকার পরিষদের মোঃ শাহাদাত হোসেন প্রতীকে এবং জাতীয় পার্টি জেপি থেকে মোঃ রুবেল হাওলাদার বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর সাথে প্রতিদ্বন্দিতা হবে জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লায় প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখায় প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সিরাজীর সাথে। এছাড়া এ আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফোরকান হোসেন আম, জেএসডির মাসুদ পারভেজ তারা, গণঅধিকার পরিষদের মাহমুদুল ইসলাম সাগর ট্রাক এবং স্বতন্ত্র থেকে মোঃ নুরউদ্দিন সরদার কলস ও সৈয়দ রাজ্জাক আলী মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীদের বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, “আগের মত অবস্থা নেই।

নতুন বাংলাদেশে মানুষ নতুন করে ভাবে। মানুষ পরিবর্তন চায়। এবার আমরা দুটি আসনেই জয়ী হব বলে আশা রাখছি।” ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, “ঝালকাঠি বিএনপির দুর্গ। এখানে ধানের শীষের জোয়ার বইছে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে কে সাধারন মানুষ ভোট দিবে না। ধানের শীষ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে ইংশা আল্লাহ।”