খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১ পৌষ, ১৪৩২

আ.লীগ নেতার বাধায় বন্ধ, আইএলএসটি প্রকল্পের কাজ চালুতে জটিলতা

স্টাফ রিপোর্টার :
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
আ.লীগ নেতার বাধায় বন্ধ, আইএলএসটি প্রকল্পের কাজ চালুতে জটিলতা

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বাধার কারণে ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (আইএলএসটি) বন্ধ হয়ে যাওয়া কাজ আবারও চালু করার চেষ্টা চলছে। তবে প্রকল্পের বরাদ্দ ফেরত যাওয়ায় সহসাই জটিলতা কাটছে না।

যদিও সম্প্রতি বিষয়টি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নতুন করে অবগত করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় সরকারি হাঁস-মুরগির খামারের পাশে প্রাণিসম্পদ খাতের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। কিন্তু জলাশয় ভরাটের অভিযোগ তুলে তৎকালীন সিটি মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। এরপর আর প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।

বরিশাল জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক কারণে ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএলএসটি) স্থাপন প্রকল্পের কাজ করা সম্ভব হয়নি বরিশালে। এরপর প্রকল্পের অর্থ-ই ফেরত চলে যায়, আমরা কাজটি পুনরায় শুরু করা যায় কি না সেটির চেষ্টা করছি।

তবে প্রকল্পের টাকা ফেরত গেলে সেই কাজ আবারও নতুন করে শুরু থেকে আরম্ভ করতে হয়। অর্থাৎ আবার এই প্রকল্পের বিষয়টি একনেকে পাস হয়ে আসতে হবে। তাই অনেকটা জটিলতার সৃষ্টি এখন হয়েছে। যদিও কিছুদিন আগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বরিশালে আসলে তাকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের মহোদয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বরিশালে চালু হলে যে সুবিধা পাওয়া যাবে, বিভাগের অন্য কোথাও হলে সেই উপকার হয়ত পাওয়া যাবে না, তাই বরিশালেই এটি চালু করার চেষ্টা চলমান রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী প্রাণিসম্পদ বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করতে পারতো। প্রকল্পের আওতায় একাধিক অ্যাকাডেমিক ভবন এবং ছাত্র-ছাত্রী হোস্টেল ছাড়াও অফিস ভবন, টিচার্স ডরমিটরি, বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন, হেলথ কেয়ার সেন্টার ছাড়াও একটি অত্যাধুনিক প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল স্থাপনের কথা ছিল। এখানে রাজস্ব খাতে প্রায় ৫০ জন জনবল নিয়োগ হতো। এছাড়াও আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে আরও অন্তত ২৫ জনের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হতো। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের প্রাণিসম্পদ চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের সূচনা হতো।

প্রকল্পের সাবেক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পের ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু করার পর ওই সময়ের মেয়র কাজটি বন্ধ করে দেয়। তাকে কোনোভাবে কাজ শুরুর বিষয়ে রাজি করানো যায়নি। ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ছিল। তাই প্রকল্পটি বাতিল হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস জানিয়েছেন, যে জমিতে প্রতিষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল, সেটি জলাশয়। এ কারণে তখনকার মেয়র (শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ) সেখানে বালু ভরাট ও ভবন নির্মাণে বাধা দেন। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তবে এর থেকে বেশি কিছু জানাতে রাজি হননি তিনি। বাংলানিউজ

 

৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

ডিসেম্বর মাসের প্রথম আট দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। এ জন্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে মূলত প্রবাসী ও রপ্তানি আয়ের ধারাকে সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার এই ডলার কেনা হয়।

এ সময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ২৭ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ২৯ পয়সা পর্যন্ত। কাট-অফ রেট ১২২ টাকা ২৯ পয়সা, যা মাল্টিপল প্রাইস নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা যায়, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এ পর্যন্ত নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ২৫১ কোটি ৪০ লাখ (২ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার) ডলার কিনেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ জুলাই থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি মাসের ১ থেকে ৮ ডিসেম্বর সময়ে দেশে ১০০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। এর মধ্যে ৮ ডিসেম্বর এসেছে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ৮৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ শতাংশ।

পাশাপাশি গত জুলাই থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৪০৪ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ১৯৬ কোটি ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন সমাবেশ, আন্দোলন করা থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সতর্ক করে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত যে কোনো ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন আন্দোলন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যারা বেআইনিভাবে সভা-সমাবেশে অংশ নেবেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর হয়- এটিই বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য। একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য যা যা করণীয় সরকার সেই দিকেই মনোনিবেশ করছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনী নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রায় নয় লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদনহীন সভা–সমাবেশ ও আন্দোলন নিয়ে সতর্ক করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, অনেকেরই নায্য দাবি-দাওয়া রয়েছে। গত দেড় বছরে দুই হাজারের বেশি আন্দোলন-বিক্ষোভ সংঘটিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীরা দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেছেন। সরকার নায্য দাবিতে সব সময়ই সাড়া দিয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাতে চেষ্টা করেছে।

‘কিন্তু আমরা এখন নির্বাচনমুখী সময়ে আছি। এ কারণে সকলের যা কিছু দাবি-দাওয়া আছে তা নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। আমরা আশা করব, এ সময়ের মধ্যে কেউ দাবি-দাওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি বা স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্ন করবেন না।’

চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

ত্রয়োদশ ‎জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহে হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল কখন ঘোষণা করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘এই সপ্তাহে তফসিল হয়ে যাবে।’

দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির দপ্তরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিইসি। সাক্ষাৎ শেষে প্রধান বিচারপতির দপ্তর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। দুপুর দেড়টার দিকে সিইসি সুপ্রিম কোর্টে এলে তাঁকে স্বাগত জানান সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ওনার (প্রধান বিচারপতি) সাথে কথা হয়েছে। উনি অবসরে চলে যাচ্ছেন। একটা ফেয়ারওয়েল কল (বিদায়ী সাক্ষাৎ) করতে এসেছি ওনার সাথে।…উনি এ মাসে অবসরে যাবেন। আমরা একসাথে কাজ করেছি। সে জন্য ওনার সাথে একটা ফেয়ারওয়েল কলের মতো, সৌজন্য সাক্ষাৎ আছে না একটা, ফেয়ারওয়েল কল করতে এসেছিলাম ওনার সঙ্গে। অন্য কোনো বিষয় নয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’ (নির্বাচনী তদন্ত কমিটি) যাতে ওনারা ডিপ্লয় করবেন, আমাদের তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে। এই কাজটা যাতে উনি ত্বরান্বিত করেন, সে বিষয়ে ওনাকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

প্রধান বিচারপতি কী আশ্বাস দিয়েছেন—এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘উনি (প্রধান বিচারপতি) জাস্ট, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির যে লোকজন দেওয়ার কথা আছে, ডেপ্লয়মেন্ট আছে, সে ব্যাপারে ওনারা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং নেবেন, কোনো অসুবিধা হবে না বলে অ্যাসিউর (আশ্বস্ত) করেছেন।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, মামলা নিয়ে কোনো কথা হয়নি।