খুঁজুন
শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

আলোচিত শিক্ষিকাকে দুর্ব্যবহারের জন্য বরখাস্ত

নেছারাবাদ প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
আলোচিত শিক্ষিকাকে দুর্ব্যবহারের জন্য বরখাস্ত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দেয়ালে টাঙিয়ে রেখে আলোচনায় আসা পিরোজপুরের নেছারাবাদ রমেশচন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামিমা ইয়াছমিনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে দেয়ালে ছবি টাঙানোর জন্য নয়, অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার কারণে তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মোস্তফা কামাল  এই কথা জানান। এর আগে গত সোমবার রাতে পিরোজপুর জেলা শিক্ষা অফিস থেকে ওই শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে গতকাল বুধবার উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠিটি পৌঁছে দেওয়া হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোহাম্মাদ মোস্তফা কামাল বলেন, ছবি টাঙানোর জন্য নয়, বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকার মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার কারণে ওই শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মোট কথা, সবার সঙ্গে অসদাচরণের কারণে তাঁকে ওই সাজা দেওয়া হয়েছে। এখন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করার জন্য তদন্ত চলছে।

তাহলে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙিয়ে পত্রপত্রিকায় আলোচনায় আসার পরেই কেন তাঁর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা—এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক শামিমা ইয়াছমিনের বিরুদ্ধে আগে থেকে অনেক অভিযোগ শুনেছি। বুঝেছিলাম, সে নিজে থেকে শুধরে যাবে। শুধরায়নি।’

জানতে চাইলে বরখাস্ত শিক্ষক শামিমা ইয়াছমিন বলেন, ‘আমার অপরাধ সম্পর্কে আমি অবগত নই। বিগত সরকারের আমলে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের দেয়ালে বঙ্গবন্ধুর ছবি উঠেছে। ছবি নামানোর জন্য নতুন কোনো প্রজ্ঞাপনের কপি বা উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে কোনো নির্দেশনা এলে ছবি নামিয়ে ফেলতাম।

‘পরে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার ফোন পেয়ে ওই ছবি নামিয়ে ফেলেছি। ৫ আগস্টের পর থেকে ছবি সরানোর কোনো নির্দেশনা আসেনি বিধায় ছবি নামাইনি। এখন গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে আমাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি হাতে দেওয়া হয়েছে।’

বরখাস্তের চিঠিতে অপরাধের কী কারণ লেখা রয়েছে—জানতে চাইলে শিক্ষিকা বলেন, ‘চাকরিবিধি না মেনে অসদাচরণের কারণে চাকরি থেকে আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।’

বরখাস্তের চিঠি দেখতে চাইলে শিক্ষিকার স্বামী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা লোকাল প্রশাসন খেপাতে চাই না। দেখি ভালোয় ভালোয় সমাধানে আসতে পারি কি না। যদি না পারি, তাহলে সাংবাদিকদের বিষয়টা জানাব।’

‘আমার বিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি সরাতে পারব না’‘আমার বিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি সরাতে পারব না’ এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দীন বলেন, ‘বিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামানোর জন্য চিঠি আকারে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে ভেতরে-ভেতরে আমাদের ছবি নামানোর জন্য একটা নির্দেশনা ছিল। আমি আমার ক্লাস্টারের সবাইকে ছবি নামাতে বলেছিলাম। ওই শিক্ষিকা কেন নামায়নি, আমি বুঝি না।’

তাহলে ছবি না সরানোর অপরাধেই কি ওই প্রধান শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চিঠিতে কী লেখা আছে আমি জানি না।’ এ বিষয়ে কথা বলতে নেছারাবাদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দোকার জসিম আহমেদকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

 

৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

ডিসেম্বর মাসের প্রথম আট দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। এ জন্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে মূলত প্রবাসী ও রপ্তানি আয়ের ধারাকে সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার এই ডলার কেনা হয়।

এ সময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ২৭ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ২৯ পয়সা পর্যন্ত। কাট-অফ রেট ১২২ টাকা ২৯ পয়সা, যা মাল্টিপল প্রাইস নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা যায়, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এ পর্যন্ত নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ২৫১ কোটি ৪০ লাখ (২ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার) ডলার কিনেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ জুলাই থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি মাসের ১ থেকে ৮ ডিসেম্বর সময়ে দেশে ১০০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। এর মধ্যে ৮ ডিসেম্বর এসেছে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ৮৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ শতাংশ।

পাশাপাশি গত জুলাই থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৪০৪ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ১৯৬ কোটি ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন সমাবেশ, আন্দোলন করা থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সতর্ক করে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত যে কোনো ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন আন্দোলন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যারা বেআইনিভাবে সভা-সমাবেশে অংশ নেবেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর হয়- এটিই বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য। একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য যা যা করণীয় সরকার সেই দিকেই মনোনিবেশ করছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনী নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রায় নয় লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদনহীন সভা–সমাবেশ ও আন্দোলন নিয়ে সতর্ক করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, অনেকেরই নায্য দাবি-দাওয়া রয়েছে। গত দেড় বছরে দুই হাজারের বেশি আন্দোলন-বিক্ষোভ সংঘটিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীরা দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেছেন। সরকার নায্য দাবিতে সব সময়ই সাড়া দিয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাতে চেষ্টা করেছে।

‘কিন্তু আমরা এখন নির্বাচনমুখী সময়ে আছি। এ কারণে সকলের যা কিছু দাবি-দাওয়া আছে তা নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। আমরা আশা করব, এ সময়ের মধ্যে কেউ দাবি-দাওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি বা স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্ন করবেন না।’

চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

ত্রয়োদশ ‎জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহে হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল কখন ঘোষণা করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘এই সপ্তাহে তফসিল হয়ে যাবে।’

দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির দপ্তরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিইসি। সাক্ষাৎ শেষে প্রধান বিচারপতির দপ্তর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। দুপুর দেড়টার দিকে সিইসি সুপ্রিম কোর্টে এলে তাঁকে স্বাগত জানান সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ওনার (প্রধান বিচারপতি) সাথে কথা হয়েছে। উনি অবসরে চলে যাচ্ছেন। একটা ফেয়ারওয়েল কল (বিদায়ী সাক্ষাৎ) করতে এসেছি ওনার সাথে।…উনি এ মাসে অবসরে যাবেন। আমরা একসাথে কাজ করেছি। সে জন্য ওনার সাথে একটা ফেয়ারওয়েল কলের মতো, সৌজন্য সাক্ষাৎ আছে না একটা, ফেয়ারওয়েল কল করতে এসেছিলাম ওনার সঙ্গে। অন্য কোনো বিষয় নয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’ (নির্বাচনী তদন্ত কমিটি) যাতে ওনারা ডিপ্লয় করবেন, আমাদের তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে। এই কাজটা যাতে উনি ত্বরান্বিত করেন, সে বিষয়ে ওনাকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

প্রধান বিচারপতি কী আশ্বাস দিয়েছেন—এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘উনি (প্রধান বিচারপতি) জাস্ট, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির যে লোকজন দেওয়ার কথা আছে, ডেপ্লয়মেন্ট আছে, সে ব্যাপারে ওনারা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং নেবেন, কোনো অসুবিধা হবে না বলে অ্যাসিউর (আশ্বস্ত) করেছেন।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, মামলা নিয়ে কোনো কথা হয়নি।