খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

অগ্রণী ব্যাংক ভোলার কালীনাথ রায়ের বাজার শাখায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
অগ্রণী ব্যাংক ভোলার কালীনাথ রায়ের বাজার শাখায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি

রীতিমতো গ্রাহকদের কৃষিঋণ বিতরণে পাল্লা দিয়ে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছেন ভোলার কালিনাথ রায়ের বাজার শাখা অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ম্যানেজার। এক ব্যক্তিকে একাধিক বার ঋণ প্রদান, একই এনআইডি কার্ডে দুজন বা তিনজনকে ঋণ বিতরণ, প্রতিবারই ঋণ দেওয়ার নামে ১০% কমিশন গ্রহণ ছাড়াও ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রেও চরম জালিয়াতি স্পষ্ট হয়েছে কালিনাথ রায়ের বাজার শাখার অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি তাদের এই নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণ বিতরণের প্রমাণ পেয়েছেন উর্ধতন কর্মকর্তারাও। ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা ব্যাংকের অনুমোদন প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র মতে, কালিনাথ রায়ের বাজার শাখার আমানতের পরিমাণ মাত্র ১৫ কোটি টাকা। যা থেকে তাদের সর্বোচ্চ ৮০% ঋণ দেয়ার অনুমোদন রয়েছে। সে অনুযায়ী তাদের ঋণ বিতরণ সক্ষমতা দাড়ায় ১২ কোটি টাকা। অথচ তারা ঋণ বিতরণ করেছে ৫২ কোটি টাকা। যা আমানতের প্রায় ৩৫৭% । এ বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধানের দাবি স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের।

কোনোরকম পুরাতন ঋণ আদায় না করেই ইউনিয়ন ভিত্তিক দালালদের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা নতুন ঋণ বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে এই শাখায়। আর এই ঋণ বিতরণে জড়িত রয়েছেন বেশ কয়েকজন বহিরাগত এজেন্ট বা দালাল। এদের মধ্যে ভেদুরিয়াতে সিদ্দিকুর রহমান, পাতা ভেদুরিয়াতে ইউসুফ, চরকালিতে জাহানারা বেগম নামের দালালের মাধ্যমে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার নতুন করে ঋণ বিতরণ চলছে।

কৃষক ছাড়াই কৃষি ঋণ বিতরণ
অভিযোগ রয়েছে, ঋণগ্রহীতাদের কোনোরকম যাচাই-বাছাই, অনুমোদন, ফাইল প্রক্রিয়া এবং মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শন ছাড়াই “ম্যানুয়াল তালিকা” ও ব্যক্তিগত পরিচয়ে ঋণ অনুমোদন করা হচ্ছে। প্রতিটি ঋণ হতে ৫ হাজার টাকা উৎকোচ বাবদ রাখা হয়। যা থেকে শাখা ব্যবস্থাপক ৩ হাজার টাকা নিয়ে- ১ হাজার টাকা করে জোনাল অফিসে প্রদান করেন। বাকী ২০০০/- টাকা করে ফাইল প্রতি দেয়া হয় দালালদের।
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি কালীনাথ রায়ের বাজার শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, মাঠপর্যায়ে ঋণ বিতরণে যুক্ত আছেন ছিদ্দিকুর রহমান, মোঃ ইউসুফ, জাহানারা বেগম, মোঃ মিজানুর রহমান, সুমী নন্দী, আব্দুল মালেক কবিরাজ। যাঁরা “ফিল্ড রিপ্রেজেন্টেটিভ” বা “ঋণ সংগ্রাহক” হিসেবে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের কেউই অগ্রণী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এসব ব্যক্তি ঋণ বিতরণ ও সংগ্রহের নাম করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং ব্যাংকের অফিসিয়াল রেকর্ড ছাড়াই লেনদেন করছেন। এতে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন, আর কিছু মধ্যস্বত্বভোগী লাভবান হচ্ছেন। আবার বাণিজ্যিক ঋণ বিতরণ ব্যবস্থা থাকলেও এই শাখা থেকে সবসময় ‘কৃষক নন’ এমন ব্যক্তিদেরকেই কৃষিঋণ প্রদান করা হচ্ছে।
বিগত তিনটি বছর ধরে এভাবেই ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন শাখা ব্যবস্থাপক খায়রুল বাশার পাভেল। বিনিময়ে ১০% কমিশন নিয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তিনি। একইসাথে অগ্রণী ব্যাংক কালিনাথ রায়ের বাজার শাখাটি চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করছেন। ভোলা জোনাল অফিসের সহকারী ব্যবস্থাপক গণেশ চন্দ্র দেবনাথকে ম্যানেজ করেই খায়রুল বাশার বিগত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে অবাধে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও বরিশাল সার্কেল অফিসে তার নিজস্ব লোকজন রয়েছে- যারা কৃষি ঋণের উৎকোচের টাকা মাসিক হিসাবে ভাগ পান। যার ফলে খায়রুল বাশার ধরাকে সরা জ্ঞান করেন বলে জানিয়েছেন কালিনাথ বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী। তারা বলেন, শুধুমাত্র গত আগস্টেই ভেদুরিয়াতে ১০ লক্ষ ও বাপ্তাতে ৯ লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ঋণগুলো বিতরণে শুরু থেকে শেষ অবধি দুইজন মাঠকর্মী ম্যানেজারের নির্দেশে দালালদেরকে সহযোগিতা করেন। ফাইল রেডি থেকে টাকা ভাগ বাটোয়ারা পর্যন্ত ভেদুরিয়াতে দালালদের পাশাপাশি মাঠকর্মী মাকসুদুর রহমান ও বাপ্তাতে সাইমুন জড়িত। তারা নিজেরা মাঠে গিয়ে লোন আদায়ের কথা থাকলেও, ম্যানেজারের নির্দেশে দালালদের সাথে নিয়ে মাঠে যান।

নির্ধারিত এলাকার বাইরেও ঋণ বিতরণ
শুধু তাই নয়, অগ্রণী ব্যাংক ভোলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক গণেশ চন্দ্র দেবনাথ স্বাক্ষরিত বরাদ্ধপত্র সূত্রে জানা জায়, অগ্রণী ব্যাংক কালীনাথ রায়ের বাজার শাখার ঋণ বিতরণ এলাকা হচ্ছে- বাপ্তা, ভেদুরিয়া ও ভেলুমিয়া ইউনিয়ন। কিন্তু নির্ধারিত এলাকায় ঋণ না দিয়ে অনেক ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে ভোলা পৌরসভাসহ অন্যান্য এলাকায়। যার বেশ কিছু তথ্য এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ভোলা পৌরসভার পৌরনবীপুর এলাকার বাসিন্দা রিপনচন্দ্র মজুমদারকে ৪৫ হাজার টাকা কৃষি ঋণ দেয়া হয়েছে, তার অ্যাকাউন্ট নম্বর ০২০০০২১৭২১৭৩৫। ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ভোলা পৌরসভার তিনখাম্বা শিকদার বাড়ির বাসিন্দা সেলিনা বেগমকে (অ্যাকাউন্ট নম্বর ০২০০০২৩২৭৫৫৬৮১) ৬৮ হাজার এবং একই বাড়ির আবদুর রহিম শিকদারকে (অ্যাকাউন্ট নম্বর ০২০০০২২৬৫০৯৫২) ৫৮ হাজার টাকা কৃষি ঋণ প্রদান করা হয়। জানা গেছে, এদের কেউই কৃষক নন। এধরণের অনেকের তথ্য প্রতিবেদকের সংগ্রহে রয়েছে।

দুর্নীতি ঢাকতে ফাইল মিসিং
অগ্রণী ব্যাংক ভোলা জোনাল অফিসের পক্ষ থেকে কালীনাথ রায়ের বাজার শাখার বিভিন্ন অনিয়ম বিষয়ে ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই তারিখে পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- এই শাখার আওতাধীন বাপ্তা ইউনিয়নের ১৯টি কৃষি ঋণের ফাইল মিসিং হয়েছে। এ বিষয়ে ফাইলগুলোর তথ্য জোনাল অফিসে জানাতে বলা হলেও তা এখন পর্যন্ত জানানো হয়নি। এদিকে এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে দেখা দেখা গেছে, ভেদুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি এবং বাপ্তা ইউনিয়নের আরো প্রায় শতাধিক কৃষি ঋণের ফাইল মিসিং রয়েছে। এই ফাইলগুলোর ঋণ বিতরণ সম্পর্কে তথ্য গোপন করতেই তা দালালদের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংক কালীনাথ রায়ের বাজার শাখা ব্যবস্থাপক খায়রুল বাশার পাভেল বলেন, “এ জাতীয় অভিযোগ তিন বছর আগে ছিলো। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তদন্ত করে ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে। আমি দায়িত্ব পালন করছি তিন বছর, এরমধ্যে কোনো অনিয়ম হয়নি। একই ব্যক্তির একাধিক লোন বা এজাতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট। তবে গরীব কৃষক লোন পরিশোধ করতে না পারলে তাকে ঐ ঋণই পুনরায় ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান খায়রুল বাশার পাভেল।

অগ্রণী ব্যাংক ভোলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক গণেশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, এজাতীয় কোন অভিযোগ আমি এখন পর্যন্ত পাইনি। পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া নেয়া হবে। তবে তিনি স্বীকার করেন নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে কৃষি ঋণ বিতরণের কোন সুযোগ নেই। চাহিদার অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ সম্পর্কে সহকারী ব্যবস্থাপক বলেন, পূর্বের ঋণসহ ৫২ কোটি টাকা স্থিতি হয়েছে এই শাখার। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া টার্গেট পূরণ করতে এমনটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে জানতে অগ্রণী ব্যাংক বরিশাল সার্কেলের জি.এম জাহিদ ইকবাল জানান, তিনি ভোলার কালীনাথ রায়ের বাজার অগ্রণী ব্যাংক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের একটি অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

ডিসেম্বর মাসের প্রথম আট দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। এ জন্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে মূলত প্রবাসী ও রপ্তানি আয়ের ধারাকে সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার এই ডলার কেনা হয়।

এ সময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ২৭ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ২৯ পয়সা পর্যন্ত। কাট-অফ রেট ১২২ টাকা ২৯ পয়সা, যা মাল্টিপল প্রাইস নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা যায়, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এ পর্যন্ত নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ২৫১ কোটি ৪০ লাখ (২ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার) ডলার কিনেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ জুলাই থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি মাসের ১ থেকে ৮ ডিসেম্বর সময়ে দেশে ১০০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। এর মধ্যে ৮ ডিসেম্বর এসেছে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ৮৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ শতাংশ।

পাশাপাশি গত জুলাই থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৪০৪ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ১৯৬ কোটি ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন সমাবেশ, আন্দোলন করা থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সতর্ক করে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত যে কোনো ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন আন্দোলন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যারা বেআইনিভাবে সভা-সমাবেশে অংশ নেবেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর হয়- এটিই বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য। একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য যা যা করণীয় সরকার সেই দিকেই মনোনিবেশ করছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনী নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রায় নয় লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদনহীন সভা–সমাবেশ ও আন্দোলন নিয়ে সতর্ক করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, অনেকেরই নায্য দাবি-দাওয়া রয়েছে। গত দেড় বছরে দুই হাজারের বেশি আন্দোলন-বিক্ষোভ সংঘটিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীরা দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেছেন। সরকার নায্য দাবিতে সব সময়ই সাড়া দিয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাতে চেষ্টা করেছে।

‘কিন্তু আমরা এখন নির্বাচনমুখী সময়ে আছি। এ কারণে সকলের যা কিছু দাবি-দাওয়া আছে তা নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। আমরা আশা করব, এ সময়ের মধ্যে কেউ দাবি-দাওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি বা স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্ন করবেন না।’

চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

ত্রয়োদশ ‎জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহে হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল কখন ঘোষণা করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘এই সপ্তাহে তফসিল হয়ে যাবে।’

দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির দপ্তরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিইসি। সাক্ষাৎ শেষে প্রধান বিচারপতির দপ্তর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। দুপুর দেড়টার দিকে সিইসি সুপ্রিম কোর্টে এলে তাঁকে স্বাগত জানান সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ওনার (প্রধান বিচারপতি) সাথে কথা হয়েছে। উনি অবসরে চলে যাচ্ছেন। একটা ফেয়ারওয়েল কল (বিদায়ী সাক্ষাৎ) করতে এসেছি ওনার সাথে।…উনি এ মাসে অবসরে যাবেন। আমরা একসাথে কাজ করেছি। সে জন্য ওনার সাথে একটা ফেয়ারওয়েল কলের মতো, সৌজন্য সাক্ষাৎ আছে না একটা, ফেয়ারওয়েল কল করতে এসেছিলাম ওনার সঙ্গে। অন্য কোনো বিষয় নয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’ (নির্বাচনী তদন্ত কমিটি) যাতে ওনারা ডিপ্লয় করবেন, আমাদের তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে। এই কাজটা যাতে উনি ত্বরান্বিত করেন, সে বিষয়ে ওনাকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

প্রধান বিচারপতি কী আশ্বাস দিয়েছেন—এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘উনি (প্রধান বিচারপতি) জাস্ট, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির যে লোকজন দেওয়ার কথা আছে, ডেপ্লয়মেন্ট আছে, সে ব্যাপারে ওনারা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং নেবেন, কোনো অসুবিধা হবে না বলে অ্যাসিউর (আশ্বস্ত) করেছেন।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, মামলা নিয়ে কোনো কথা হয়নি।