মঠবাড়িয়ায় হোল্ডিং ট্যাক্সের টাকা আত্মসাৎ

মোঃ শাহজাহান, মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি ।।
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬ । ৯:২৪ অপরাহ্ণ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ১০ নং হলতা গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্সের টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম ঝনো, অবসরপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) হেমায়েত উদ্দিন, বর্তমানে কর্মরত সচিব কাইয়ূম হাওলাদার এবং আদায়কারী ও ভুয়া এনজিও কর্মী সোহেল রানার বিরুদ্ধে। হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে প্রাপ্ত টাকা জনগনের কল্যানে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করেছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদটিতে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৬ বছরের হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা হয়েছে। তবে মোট কত টাকা আদায় করা হয়েছে তার কোন হিসাব নেই পরিষদে। এ বিষয়ে কিছুই জানে না ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশরাও।স্থানীয় সরকারের বিধিমালা না মেনে মনগড়াভাবে ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ট্যাক্স আদায় করে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের নেতৃত্বে ভাগাভাগি করা হয়েছে। আদায়কৃত এ টাকা দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকারের বিধিমালা অনুযায়ী, হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে প্রাপ্ত টাকা ব্যয় করার জন্য একটি কমিটি করার কথা থাকলেও আদৌ কোন কমিটি করা হয়নি।৯ ওয়ার্ডে ৯টি রিভিউ কমিটিও করা হয়নি।তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়নি ইউপি সদস্যদের।স্থানীয় জনগনের কোন অভিযোগ আছে কিনা তা অবগত করার জন্য কোন নোটিশ দেওয়া হয়নি।খানা ভিত্তিক জরিপের মাধ্যমে হোল্ডিং ট্যাক্সের খসড়া তালিকা ও চুড়ান্ত তালিকা অদ্যাবধি পর্যন্ত কোনটিই করা হয়নি।

ট্যাক্স আদায়কারী সোহেল রানার বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়।তিনি নিজেকে কখনো সাংবাদিক আবার কখনো এনজিও কর্মী পরিচয় দেন।সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের পিরোজপুর জেলা সমন্বয়কারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে জানান তিনি।বাস্তবে সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারনা করে আসছেন তিনি।২ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ কর্মী নিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের সচিবদের সাথে যোগসাজশ তৈরি করে ট্যাক্স আদায়ের নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এ চক্রটি।সচিবরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে তাল মিলিয়ে চলায় তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায় না কেউ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইউপি সদস্য জানান,৬ বছরে কত টাকা আদায় করা হয়েছে এর কোন হিসাব দিতে হয়নি আদায়কারীদের।এ নিয়ে এখন পর্যন্ত আদৌ কোন মিটিং করা হয়নি।

আরেকজন ইউপি সদস্য জানান,আদাযকৃত ট্যাক্সের টাকা কোথায় ব্যয় করা হয়েছে তা কেউ জানে না।যদি কোন মেম্বার এ নিয়ে কথা বলে তাহলে সে তার এলাকার জন্য পরিষদ থেকে কোন বরাদ্দ পাবেনা।

হলতা গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার জামাল হোসেন জানান, এখন গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে ট্যাক্স আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাহিরের লোক দিয়ে আর আদায় করা হবে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আকলিমা আক্তারকে একাধিকবার ফোন দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

প্রকাশক ও সম্পাদক: মেহেরুন্নেছা বেগম।  কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক আজকের বার্তা সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন