Agaminews
Agaminews Banner

বিদ্রোহীরাই নৌকাকে শেষ করেছে


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৮, ২০২১ ১২:৩৮ অপরাহ্ণ বিদ্রোহীরাই নৌকাকে শেষ করেছে

অনলাইন ডেস্ক:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে।

গত রবিবার চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ২টিতে নৌকা, ৬টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে চারজন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। নৌকার কোনো প্রার্থী ভোটের হিসাব অনুযায়ী চতুর্থ আবার কেউ পঞ্চম হয়েছেন।

জানা যায়, ব্রাহ্মণপাড়ার সাহেবাবাদ ইউনিয়নে নৌকার শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মনির হোসেন চৌধুরী ৫ হাজার ১০০ ভোটে বিজয়ী হলেও থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নৌকার প্রার্থী মোস্তফা ছারোয়ার খান ১ হাজার ২৯ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ করা শিদলাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও নৌকার প্রার্থী মো. মোস্তবা কামাল সরকার পেয়েছেন ১ হাজার ৮৭৩ ভোট। তিনি ভোট গণনায় হয়েছেন তৃতীয়। এই ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম।

চান্দলা ইউনিয়নে কাপ পিরিজ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ওমর ফারুক ২ হাজার ৭১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা আলী হেরে গেছেন। দুলালপুর ইউনিয়নে ঘোড়া প্রতীকের আনিসুর রহমান ভূইয়া রিপন ৩ হাজার ৫৪০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। আর উপজেলা যুবলীগ সদস্য ও নৌকার প্রার্থী মো. তফাজ্জল হোসেন পেয়েছেন ২ হাজার ৮৮১ ভোট।

শশীদল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আতিকুর রহমান রিয়াদ ৭ হাজার ৬০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হলেও নৌকা প্রতীকের মো. নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৩৯ ভোট। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। মালাপাড়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন ২ হাজার ৮৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নৌকার প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ১১১৮ ভোট। ভোট গণনায় তিনি হয়েছেন পঞ্চম। মাধবপুর ও ব্রাহ্মণপাড়া সদরে নৌকা প্রতীকের ফরিদ উদ্দীন ও জহিরুল হক বিজয়ী হয়েছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল বারী বলেন, বিদ্রোহীরাই আমাদের শেষ করেছে। ওয়ার্ড কমিটির সাথে সমন্বয় করে থানা কমিটিকে ইউপি প্রার্থীদের একটি তালিকা দিয়েছি। এই তালিকা অনুযায়ী থানা কমিটি চূড়ান্ত মনোনয়নের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু আমরা বুঝতে ভুল করেছি। যারা ওয়ার্ড কমিটিতে আছে তারা পদের জন্য পূর্বের চেয়ারম্যানদের আওয়ামী লীগে মনোনয়নের জন্য ভোট দিয়েছে।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শশীদল ও মালাপাড়া ইউনিয়নে আমাদের প্রার্থী বাছাই ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, যারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে লিখিত অভিযোগ এসেছে। দল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।