Agaminews
Agaminews Banner

ধান ক্ষেতে ইটভাটা, হুমকির মুখে পরিবেশ জীববৈচিত্র


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২১ ৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ ধান ক্ষেতে ইটভাটা, হুমকির মুখে পরিবেশ জীববৈচিত্র

আমতলী সংবাদদাতা ॥

সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বরগুনার আমতলী-তালতলী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে লোকালয়ে ও ধান ক্ষেতে ইটভাটা নির্মাণ করা হয়েছে। ওই ইটভাটার অতিরিক্ত তাপমাত্রায় প্রভাবে পরিবেশ, জীব বৈচিত্র ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পরেছে ।

স্থানীয় প্রশাসন নিবর ভুমিকা পালন করছে। তারা অবৈধভাবে ইটভাটা বন্ধের কার্যকরী কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। জানাগেছে, সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লোকালয়ে ও কৃষি জমিতে অবৈধ ইটভাটা নির্মাণ করা হয়েছে। আমতলী ও তালতলী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষি জমিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, কৃষি অফিসের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ছাড়া ২১ টি ঝিকঝ্যাঁক ও ড্রাম চিমনি (ব্যারেল) ভাটায় ইট পোড়ানোর কাজ দ্রুত গতিতে শুরু হয়েছে।

স্বল্প উচ্চতার ড্রাম চিমনি ও ১২০ ফুট উচ্চতার স্থায়ী চিমনি ইটভাটার স্থাপন করা হয়েছে। জ্বালানী হিসাবে অনেক ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহার করছে। গ্রাম থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। এতে পরিবেশগত বিপর্যয় জণস্বাস্থ্যের মারাত্মক হুমকির আশঙ্কা করেছে পরিবেশবাদীরা। কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র মারাত্মক হুমকির মুখে পরেছে এবং ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসলি জমি। এদিকে ইটভাটা নির্মাণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক অফিস ও কৃষি অফিসের ছাড়পত্রের প্রয়োজন হলেও অধিকাংশ ভাটায় এ সকল ছাড়পত্র নেই। সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রভাবশালীরা ইটভাটা গড়ে তুলেছেন।

আমতলী উপজেলার আমতলী সদর, হলদিয়া, চাওড়া, কুকুয়া, গুলিশাখালী, আঠারগাছিয়া ইউনিয়ন ও তালতলী উপজেলার ছোটবগী, কড়ইবাড়ীয়া ইউনিয়নে ২১ টি ঝিকঝ্যাঁক ও ড্রাম চিমনিতে ইট পোড়ানোর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। বরগুনা জেলা প্রশাসক দপ্তর সুত্রে জানাগেছে, আমতলী ও তালতলী উপজেলায় ১০ টি ইটভাটা রয়েছে। মঙ্গলবার সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, আমতলী সদর ইউনিয়নের মহাসড়কের পাশে র‌্যাব, জিমি, এসইউএবি ও এমএসবি চারটি ঝিকঝ্যাঁক ইটভাটায় ধান ক্ষেতের মধ্যে ঝিকঝ্যাঁকের চুল্লীতে ইট তৈরীর কাজ চলছে। আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের বাদুরা নামক স্থানের ধান ক্ষেতের পাশে ঢাকা ব্রিকস ঝিকঝ্যাঁক ইটভাটার ইট পোড়াচ্ছে। কুকুয়া ইউনিয়নের রায়বালা গ্রামে ধান ক্ষেত ও লোকালয়ে বিবিসি নামের একটি ব্রিকস ইট পোড়ানো হচ্ছে। কল্যাণপুর গ্রামের আবদুল বারেক বলেন, কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করায় যেমন ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, তেমনি পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। এর প্রভাবে অনেক গাছপালা মরে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, ধান ক্ষেত ও লোকালয়ে ইটভাটা নির্মাণ করায় ফসলি জমি ও পরিবেশ নষ্ট করছে। তারা আরো বলেন, ইটভাটার কারনে এ বছর তেমন জমিতে ধান ফলেনি। অনেক জমির পুড়ে গেছে। দ্রুত ফসলি জমি রক্ষায় ইট ভাটা নির্মাণ বন্ধের দাবী জানান তারা।

চালিতাবুনিয়া গ্রামের কয়েকজন বলেন, চারিপাশে ধান ক্ষেত। ভিতরে ইটভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে। তারা আরো বলেন, ইট ভাটায় অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারনে অনেক জমি পুড়ে গেছে। আবার অনেক জমিতে তেমন ফসল হয়নি। কৃষি জমি রক্ষায় দ্রুত ওই ই্টভাটাগুলো অপসরণ করা প্রয়োজন।

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার সিএম রেজাউল করিম পাঁচটি ইটভাটায় ছাড়পত্র দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারনে কৃষি জমি এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল কার্যালয়ের পরিচালক মোঃ হালিম মিয়া বলেন, কৃষি জমিতে ইট ভাটাসহ কোন ধরনের শিল্পকারখানা নির্মাণ করতে পারবে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা লংঘণ করে কেউ যদি ইটভাটা নির্মাণ করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।