Agaminews
Agaminews Banner

বরিশালে টিসিবির পণ্য বিতরণে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: নভেম্বর ০৯, ২০২১ ৬:০৪ অপরাহ্ণ বরিশালে টিসিবির পণ্য বিতরণে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ডিলারদের পণ্য বিতরণে অনিয়ম ও ডিলারদের দিয়ে খোলা বাজারে পন্য বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অফিস খরচ, শ্রমিকদের বকশিশের অজুহাতে ডিলারদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, অনিয়মিত ডিলারদের পণ্য সরবরাহ করা, খোলা বাজারে পন্য বিক্রিসহ নানা অনিয়ম চলছে এই সংস্থাটিতে।

টিসিবি পণ্যের ক্রেতা মূলত স্বল্প আয়ের মানুষ। করোনা মহামারিতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ভর্তুকি মূল্যে এসব পণ্য ট্রাকে করে বিক্রি করে থাকে সংস্থাটি। উদ্বেগের বিষয় হলো, বরিশালে বিভিন্ন স্থানে টিসিবির পণ্য কালোবাজারে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারি গুদাম থেকে টিসিবির পণ্য তুলে সরাসরি খোলাবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে কোনো কোনো ডিলার।

আবার অনেক ডিলার ক্রেতার কাছে বিক্রি না করে পণ্য গোপনে মজুত করে রাখছে। অনেক ডিলারের বিরুদ্ধে পণ্য ওজনে কম দেওয়ারও অভিযোগ আছে। টিসিবির পণ্য বিক্রির কার্যক্রমে এভাবে অনেক ডিলার অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। এ সকল অনিয়ম ও দূর্নীতি সবই হচ্ছে বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী কার্যনির্বাহী (অফিস প্রধান) মো. শহিদুল ইসলামকে ম্যানেজ করেই।

নিয়মিত পণ্য বিক্রি করেন বরিশাল সদর ও বিভাগের অন্য জেলা থেকে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ডিলার অভিযোগ করেন, নিয়ম হলো যেসব ডিলার নিয়মিত টিসিবির পণ্য বিক্রি করেন, তাঁদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া। কিন্তু এই নিয়ম উপেক্ষা করা হচ্ছে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে। তাঁরা অভিযোগ করেন, যেসব ডিলার ৪ বছর ধরে টিসিবির পণ্য নেননি, এবার টিসিবির অসাধু কিছু কর্মকর্তা আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাঁদের তালিকাভুক্ত করে পণ্য বিক্রির সুযোগ করে দিয়েছেন। রোটেশন অনুযায়ী ডিলাররা পণ্য পাওয়ার নিয়ম থাকলেও তা লঙ্ঘন করে পছন্দের ডিলারকে পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।

ডিলাররা বলেন, পণ্য বিক্রি করে তাঁরা যে কমিশন পান, তা কখনো হিসাব-নিকাশ শেষে কোনো কোনো দিন লোকসান গুনতে হয়। এর মধ্যে আবার অফিসে ৪০০, শ্রমিকদের ২০০ টাকা করে দিতে হয় খরচ হিসেবে। দিতে অনীহা দেখালে করা হয় হয়রানি।
বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, চলতি মাসের ৩ নভেম্বর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার গালুয়া এলাকায় টিসিবির পন্য বিক্রির ঘোষণা দেয়া হলেও সেখানকার ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করে টিসিবি কর্তৃপক্ষ ও ডিলার।

ওই দিন অর্থাৎ (৩ নভেম্বর) স্থানীয় ভোক্তারা টিসিবির পন্য ক্রয় করতে এসে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে থেকে হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরেন। কারণ ওই দিনি টিসিবির পন্য বিক্রি করেন নি ডিলার। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এর অনুমতি না পাওয়ায় ডিলার সুমন পন্য বিক্রি করতে জাননি গালুয়ায় এমন কথা বলা হলেও মুলত টিসিবির বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী কার্যনির্বাহী (অফিস প্রধান) এর নির্দেশনায়ই গালুয়ায় পন্য বিক্রি করা হয়নি ওই দিন।

আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে বরিশাল, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠীর মোট ১২২ জন ডিলার পণ্য তোলেন। এর মধ্যে ৪১ জন ডিলার আছেন যাঁরা নিয়মিত পণ্য বিক্রি করেন। এর মধ্যে রোটেশন অনুযায়ী বরিশাল নগরে পাঁচজন, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠিতে দুজন করে ডিলার ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করছেন। মোট কথা বরিশাল টিসিবির কর্যক্রম দূর্নীতিতে নিমজ্জিত হচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে প্রতিদিন আরও অনেক চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য আসতে শুরু করেছে।