Agaminews
Agaminews Banner

মেঘনার কাছে অসহায় প্রশাসন অবশেষে নিলামে সাইক্লোন সেন্টারটি


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২১ ৫:২৭ অপরাহ্ণ মেঘনার কাছে অসহায় প্রশাসন অবশেষে নিলামে সাইক্লোন সেন্টারটি
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
অবশেষে রক্ষা পেল না বরিশালের হিজলা উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টারটি। মেঘনা নদীর সর্বনাশি হানায় রক্ষা করা যায়নি এই বিদ্যালয়টি। যেন উপজেলা প্রশাসনও অসহায় মেঘনার কাছে। তাই আগামী ২২ এপ্রিল বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টারটি উন্মক্ত ডাকে দেয়া হয়েছে। বিগত বছর জুড়ে আলোচিত ছিল হিজলা উপজেলার ৪টি সাকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেঘনার গর্ভে বিলীনের পথে। এরই ধারাবাহিকতায় এই বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টারটি নিলামে দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, হিজলার বাউশিয়া গ্রামে ২০০০ সালে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মান করা হয়েছিল বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টারটি। গতকাল রোববার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এক স্বাক্ষরে নিশ্বেষ বিদ্যালয়টি। এখন উন্মুক্ত নিলাম ডাকে বিদ্যালয়। এবারের পালা গ্রাম শুন্য। গ্রামটিতে এখনও ৫টি বিদ্য্যালয় রয়েছে। দক্ষিণ বাউশিয়া, দক্ষিণ পশ্চিম বাউশিয়া, উত্তর বাউশিয়া, মধ্য বাউশিয়া এবং হিজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মেঘনা পাড়ের এই গ্রামটিতে ১০ বছর আগেও ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল। ২০০০ সালের দিকে ২টি বিদ্যালয় মেঘনার তান্ডবে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয় ঐ সময়ে। এবার যাচ্ছে আরও একটি। তবে স্থানীয়রা বলছেন একটি নয়, এ বর্ষায় হারিয়ে যাবে বাকি স্কুলগুলো। জনশূন্য হতে যাচ্ছে গ্রামটি। বাউশিয়া গ্রামের মোঃ সুমন বলেন, সরকার বার বার প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজের কাজ কিছুই করেননি সরকার বা কোন কর্তৃপক্ষ। ক’দিন আগেও মাইকিং হচ্ছিল পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৬শ কোটি টাকা ব্যায়ে বাঁধ নির্মান হতে যাচ্ছে। তাও শুধু মাইকিং এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। বাউশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার রক্ষা বিষয় উপজেলা শিক্ষা অফিসার আঃ গাফ্ফার জানান, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এক বছর আগে থেকেই আমরা মেঘনার পেটে ছিলাম। আর পারছি না। স্কুল কমিটি নিয়ে আলোচনা করেই ভাঙ্গার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এব্যাপারে হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বকুল চন্দ্র কবিরাজ জানান, আর কত অপেক্ষা। সরকারের সম্পত্তি রক্ষা করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে একটা প্রকল্পের কথা শুনেই ভরসা পাচ্ছিলাম। কিন্তু আর পারছি না। তাই ভাঙ্গার ব্যবস্থা। এখন বাউশিয়া গ্রামে প্রমত্তা মেঘনার পাড়ে ও আরও তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে বিপদে রয়েছি।