Agaminews
Agaminews Banner

প্রদীপ প্রজ্জলনের মাধ্যমে জাতীয় চার নেতাকে স্মরণ করলো বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: নভেম্বর ০২, ২০২১ ১:৩৪ অপরাহ্ণ প্রদীপ প্রজ্জলনের মাধ্যমে জাতীয় চার নেতাকে স্মরণ করলো বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট

আগামীকাল জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহকর্মী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে কারাগারে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রের হেফাজতে হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনাটি বাংলাদেশে পালিত হয়ে আসছে ‘জেলহত্যা দিবস’ হিসেবে। দিবসটি শুরুর আগে প্রদীপ প্রজ্জলনের মাধ্যমে জেলখানায় নিহত জাতীয় চার নেতাকে স্মরণ করলো বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট।

আজ সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংগঠনের পক্ষ থেকে সমাবেশ শেষে এ প্রদীপ প্রজ্জলন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠশিল্পী রফিকুল আলম এর সভাপতিত্বে জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অভিনেত্রী ও জোটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিন জাহান, ড. লায়ন মিজানুর রহমান, সাংবাদিক সুজন হালদার, প্রণিল সামসাদ জাদিদ, অভিনেত্রী শিরিন শীলা, সাংবাদিক শিমুল খান, মনিরুজ্জামান অপূর্ব, অরুন সাহা, রাজ সরকার, অভিনেত্রী সোনিয়া পারভীন শাপলা, অভিনেত্রী পারুল আক্তার লোপা, দিলীপ সরকার, বাউল শিল্পী বিদ্যুৎ সরকারসহ চলচ্চিত্র পরিচালক, নাট্য পরিচালক, সাংস্কৃতিক অঙ্গণের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জেনারেল জিয়াউর রহমান জাতীয় চার নেতার হত্যাকারীদের দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন এবং তাদের পুরস্কৃত করেছিলেন। জেনারেল জিয়ার মরণোত্তর বিচারের দাবি করে বলেন, অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে অনেককেই হত্যা করেছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে বেঈমানী করেছিল। তিনি একজন বেঈমান, বিশ্বাসঘাতক ব্যক্তি। ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর ও ২১ আগস্ট একই সূত্রে গাঁথা। ইতিহাসের মানবতাবিরোধী খলনায়করাই এ ধরনের ঘৃণ্য ও জঘন্য হত্যকাণ্ড চালিয়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড ছিল জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতা। এ ধরনের বর্বর হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। ষড়যন্ত্রকারীরা এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলার মাটি থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নাম চিরতরে মুছে ফেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস এবং বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশুন্য করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানসৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাতকারী সেনাসমর্থিত চক্রান্তকারীরাই কারাগারে চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করেছিল। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ইতিহাসে বিরল। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তার ঘনিষ্ট চার নেতাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তী অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্যু-পাল্টা ক্যুর ধূম্রজালের মধ্যে ৩ নভেম্বর সংঘটিত হয় জেল হত্যাকাণ্ড।