Agaminews
Agaminews Banner

রংপুর বিভাগে ভারতের ট্রিপল ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: মে ০২, ২০২১ ৩:১৪ অপরাহ্ণ রংপুর বিভাগে ভারতের ট্রিপল ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
বার্তা ডেস্ক ॥
সীমান্ত ঘেঁষা হওয়ায় এবং বিভাগজুড়ে কয়েকটি স্থলবন্দর থাকায় ভারতের ট্রিপল ভ্যারিয়েন্ট করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে দিনাজপুরসহ রংপুর বিভাগ। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বন্দরগুলো দিয়ে মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হলেও প্রতিদিন এক হাজারেও বেশি পণ্যবাহী যান চলাচল করছে। আর এক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভারতীয় চালকসহ হেলপাররা মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। এতে বাড়ছে সংক্রমণ ঝুঁকি। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে কঠোর হওয়া না গেলে ঝুঁকিতে পড়বে বিভাগসহ পুরো দেশ। পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। বিশেষ পণ্যবাহী যান চলাচল চালু রয়েছে। তবে ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে আসা চালক ও হেলপাররা কোনো রকম স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছেন না। চলাফেরা করছেন খেয়াল খুশি মতো, মিশছেন বাংলাদেশি চালক ও স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে। একই চিত্র দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরেও। এখানে প্রতিদিন ভারত থেকে প্রবেশ করছে ১৮০ থেকে ২শ’ পণ্যবাহী ট্রাক। এর সঙ্গে আসছে চালক ও হেলপারসহ প্রায় ৪শ’ ভারতীয় মানুষ। এসব ট্রাক চালক ও হেলপার বাংলাদেশে অবস্থান করছে ২ থেকে ৩ দিন। পণ্য খালাস না হওয়া পর্যন্ত তারা থাকছেন বাংলাদেশেই। মেলামেশা করছেন বাংলাদেশি শ্রমিক ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে। মানছেন না কোনো স্বাস্থ্যবিধি। এদের দ্বারাই করোনাভাইরাসের ভারতের ভয়াবহ ট্রিপল ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে যাতে ভারতীয় এই ভয়াবহ ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়তে না পারে এবং বন্দরের আশপাশসহ বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় সাময়িকভাবে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার আহ্বান জানান হাকিমপুর পৌর মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত। কিন্তু তার এই আহ্বান আজও বাস্তবায়ন হয়নি। যদিও হিলি স্থলবন্দরের বেসরকারি অপারেটর পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মল্লিক জানান, বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ভারতীয় ট্রাকচালক ও হেলপারদের থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং ট্রাকগুলোতে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। ভারতীয় এই পণ্যবাহী ট্রাক চালক ও হেলপাররা বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, যেহেতু ভারতে করোনাভাইরাসের ট্রিপল ভ্যারিয়েন্ট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, সেহেতু এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। রংপুর বিভাগের চারটি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও হেলপারদের বাংলাদেশে আনাগোনার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেন রংপুর বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ আহাদ আলী। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ না করলে বাংলাদেশেও ভারতের এ ভয়াবহ ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২শ’, পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৩শ’ থেকে ৩৫০, কুড়িগ্রামের সোনাহাট দিয়ে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১শ’ এবং লালমনিরহাটের বুড়িমারী দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশের প্রবেশ করছে পণ্যবাহী প্রায় ২শ’ ট্রাক। সব মিলিয়ে এই চারটি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন প্রবেশ করছে প্রায় ১ হাজার পণ্যবাহী যানবাহন। প্রতিটি ট্রাক গড়ে ২ জন করে হিসেবে প্রায় দুই হাজার লোক ভারত-বাংলাদেশ যাওয়া আসা করছে। তবে বিধি নিষেধ মানবার ক্ষেত্রে সচেতনতা এবং চাপ না থাকায় উদ্বিগ্ন সচেতন মহল।