Agaminews
Agaminews Banner

গরম আর লোডশেডিং, নয়া দুর্ভোগে নগরবাসী


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২১ ৫:০২ অপরাহ্ণ গরম আর লোডশেডিং, নয়া দুর্ভোগে নগরবাসী
শফিক মুন্সি ॥
প্রাণঘাতি করোনা জীবাণুর প্রকোপে নাকাল পুরো বিশ্ব। বাংলাদেশের সাথে সাথে দক্ষিণের বরিশালেও প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এরই মধ্যে গত সপ্তাহজুড়ে দাবদাহ সহ তীব্র গরম অনুভব করেছে এই অঞ্চলের মানুষ। তবে নগরবাসীকে গরমের উষ্ণতা আরো বেশি ভোগ করতে হয়েছে লোডশেডিং সমস্যার কারণে। পরিবেশের ভারসাম্য ভেঙে গিয়ে সৃষ্ট হওয়া তীব্র গরমের সঙ্গে বেড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকার মাত্রা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সংযোগের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কাজ করতে গিয়ে সরবরাহ বিঘিœত হচ্ছে কিছুটা। আর গরমের তীব্রতা থেকে মুক্তি পেতে বৃক্ষরাজির রোপন ও সংরক্ষণ বাড়িয়ে দেবার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বরিশাল নগরী জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রধান দায়িত্ব পালন করে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)। প্রতিষ্ঠানটির দুটি বিক্রয় ও বিপণন বিভাগ রয়েছে নগরীতে। এই দুই বিভাগের আওতাধীন প্রায় এক লাখ দশ হাজার বৈদ্যুতিক সংযোগ। মৌসুমি প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে এসব সংযোগকে নিরাপদ রাখতে বছরের এই সময়টাতে রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কিছু কাজ করতে হয় তাদের।যেকোনো ধরনের ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি কিংবা জলোচ্ছ্বাস যেন খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি সাধন না করতে পারে সেজন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রেখে এসব কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে, পরিবেশের ভারসাম্য ভেঙে পরার দরুন গত এক সপ্তাহ যাবৎ তীব্র গরম অনুভব করছে বরিশালবাসী। আবহাওয়াবিদদের মতে পরিবেশে উষ্ণতার পারদ ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁলেই মাঝারি মাত্রার দাবদাহ শুরু হয়। বরিশালের তাপমাত্রা গত সপ্তাহের শনিবার থেকে শুরু করে বুধবার পর্যন্ত ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। সর্বশেষ হিসেব মতে, গত দুই যুগে একটানা এতটা গরম অনুভব করেনি এ অঞ্চলের মানুষ। একে তো লোডশেডিং তার ওপরে এতটা গরম জনজীবনে চরম দুর্ভোগ টেনে এনেছে। মূলত দুর্যোগকালীন মৌসুমের প্রাক প্রস্তুতিমূলক কিছু কাজের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা বিঘিœত হচ্ছে বলে স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ। ওজোপাডিকোর বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী অমূল্য কুমার সরকার জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রতিবছরই এপ্রিল – মে মাসে কিছু কাজ করতে হয় তাদের। এরমধ্যে বৈদ্যুতিক দুর্বল তার ও খুঁটি পরিবর্তন, নতুন যন্ত্রাংশ স্থাপন, লাইন প্রতিস্থাপন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। মূলত যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচতে এসব কাজ করা হয়। বর্তমানে নগরীতে এগুলো সম্পন্ন করতে কিছু কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এদিকে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে,  গত সপ্তাহের শনিবার থেকেই তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠে যায় বরিশালে।  রোববার বরিশালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা বিগত ৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।পরদিন সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার আকাশে কিছুটা মেঘের উপস্থিতি থাকায় গরম কিছুটা কমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জেষ্ঠ পর্যবেক্ষক প্রণব কুমার বলেন,তাপমাত্রা  ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেই মাঝারি মাত্রার দাবদাহ শুরু হয় পরিবেশে। সে হিসেবে প্রায় সপ্তাহখানেক জুড়ে  দাবদাহের তীব্রতা অনুভব করছে বরিশালবাসী।এরআগে একটানা এতদিন যাবৎ দাবদাহে ভোগে নি এ অঞ্চলের মানুষ। টানা দু – তিনদিন মাঝারি মাত্রার দাবদাহের পরই বৃষ্টিপাত গরমের তীব্রতা কমিয়ে দিয়েছে। সর্বশেষ রেকর্ড অনুযায়ী ১৯৯৭ সালের এপ্রিল মাসে একটানা ৫ দিন মাঝারি মাত্রার দাবদাহে পুড়েছে বরিশাল। এ ব্যাপারে আলাপকালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড.সুব্রত কুমার দাস জানান, পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার অন্যতম নিয়ামক হচ্ছে নির্দিষ্ট মাত্রার বৃক্ষরাজির উপস্থিতি এবং উষ্ণতা বৃদ্ধিতে দায়ী গ্যাস গুলোর অনুপস্থিতি। বর্তমানে অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে আশেপাশের শ্যামলতা এবং গাছপালা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অধিক শিল্পায়ন কার্বন ডাই অক্সাইড সহ পরিবেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারক গ্যাসের অতিমাত্রায় নিঃসরণ ঘটাচ্ছে। এই কারণগুলো মূলত পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এমন দাবদাহ সৃষ্টির পিছনে দায়ী। পরিবেশের এই সংকট মোকাবিলায় বেশি করে বৃক্ষ রোপণ এবং পরিকল্পনা মাফিক শিল্প কারখানা নির্মাণের ওপর জোর দেন ড.সুব্রত কুমার দাস। তিনি বলেন, একটি দেশের মোট ভূমির ২৫ শতাংশ বনায়নের আওতায় থাকা দরকার। কিন্তু আমাদের দেশে এই পরিমাণ গাছপালা নেই। তাই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সামাজিক ও পারিবারিক বনায়নে যুক্ত হতে হবে। একই সঙ্গে শিল্প কারখানা নির্মাণের পূর্বে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী কার্বন নিঃসরণের মানদ- বজায় রাখা নিশ্চিত করতে হবে।