Agaminews
Agaminews Banner

আওয়ামী লীগের সাথে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে  দিলেন হিজলা উপজেলা চেয়ারম্যান


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২১ ৪:১৯ অপরাহ্ণ আওয়ামী লীগের সাথে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে  দিলেন হিজলা উপজেলা চেয়ারম্যান
হিজলা প্রতিনিধি ॥
বরিশালের হিজলা উপজেলায় চারটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের মনোনীত দলীয় নৌকা মার্কার প্রার্থীর বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিজলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন ঢালী। হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া, বড়জালিয়া, মেমানিয়া ও হরিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বেলায়েত হোসেন ঢালী তার দলবল নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করলে তৃণমূল আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ। যে কোনো সময় বিস্ফোরণের আশঙ্কা। জানা যায় গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী অধ্যাপক শাহজাহান তালুকদার, কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন ঢালী তার কর্মীদেরকে আনারস ও ঘোড়ামারা ভোট চাওয়ার নির্দেশ প্রদান করে। তার মূল প্রার্থী ঘোড়া মার্কার অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম চৌধুরী স্বপন, ৬ নং ওয়ার্ড কাউরিয়া কেন্দ্র কে চেক দেয়ার জন্য নামেমাত্র এসহাক মুন্সীকে দাড় করায়। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের একাধিক আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন বেলায়েত হোসেন ঢালী ছাড়া তার পরিবারের কেউ আওয়ামী লীগ করে না। তার বড় ভাই ইউনুছ ঢালী হিজলা উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ছিলেন, সেজো ভাই তারু ঢালি উপজেলা বিএনপি’র সদস্য, ৪ নং ভাই অধ্যাপক মিজানুর রহমান বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে হিজলার প্রায় আশি ভাগ কাজ একাই করেন, তার ছোট ভাই ফারুক ঢালি তিনি ঢাকায় ছোটখাটো একজন ব্যবসায়ী কখনো আওয়ামী রাজনীতির সাথে তার সম্পৃক্ততার দেখা যায়নি, বেলায়েত হোসেন ঢালীর ছেলে রাজু নামেমাত্র ছাত্রলীগের সদস্য হিজলার আওয়ামী লীগের দলীয় কোনো কার্যক্রমে তাকে দেখা যায়নি।উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাম ভাঙ্গিয়ে এরইমধ্যে ১৪ কোটি টাকার কাজ ভাগিয়ে নিয়েছে এমনকি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তার ইটভাটার পাশের ইটভাটাটি বন্ধ করে দিয়েছে শুধু তাই না বালুখেকোদের চেয়েও বড় খেকো তিনি মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে চারটি পুকুর ভরাট করে যা ক্রয় করতে হলে কমপক্ষে ২ কোটি টাকা লাগতো।  এমনকি কয়েক একর জমি দখল করে বসে আছে তিনি। বেলায়েত হোসেন ঢালী তিন তিনবার গুয়াবাড়িয়াা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন একবারও দলের মনোনীত ছিলেন না বিদ্রোহী হয়েই তিনি নির্বাচিত হয়েছেন এর কারণ তিনি নিজে কে দাবি করেন আওয়ামী লীগ পরিবারের বাকি সবাই বি এন পি। নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয় পক্ষের ভোটে সহজেই তিনি নির্বাচিত হয়ে যেতো। এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেলায়েত হোসেন ঢালী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও হিজলা মেহেন্দিগঞ্জ সংসদীয় আসনের এমপি পঙ্কজ দেবনাথের সাথে। বেলায়েত হোসেন ঢালী কখনোই দলের মনোনয়ন পাইনি এবং দলীয় প্রতীক পাইনি আমি ইউনিয়ন পরিষদের তিনবার উপজেলা পরিষদে একবার  মোট চারবার নির্বাচিত হয়েছি কারো দয়ার বা দানে নয় ব্যক্তি এমিস সবার ঊর্ধ্বে। এসকল বিষয়ে বেলায়েত হোসেন ঢালী নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন কর্মীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীর পিছনেই যাবে এটাই স্বাভাবিক আর এবার তো বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না সেই ক্ষেত্রে প্রতীক মুখ্য বিষয় নয় ব্যক্তি হচ্ছে প্রধান। দলের সাথে চ্যালেঞ্জ এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি ওই রকম নয় সঠিক ব্যক্তিকে নৌকার প্রতীক না দেয়ার কারনে এই সমস্যার সৃষ্টি। আমি একবারও দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারিনি তারপরও পরাজায় শব্দটি আমার সাথে যোগ হয়নি। এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় এমপি পংকজ নাথ বেলায়েত হোসেন ঢালী সহ উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা কর্মীদেরকে ঢাকায় ডেকে সোজা সাপটা ভাবে বলে দিয়েছে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর সুপারিশে যারা দলীয় মনোনয়ন পেয়েছে। সবাই একযোগে নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে এমন নির্দেশনা প্রদান এর পরেও রহস্যজনক হলেও সত্য ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত নেতা মুন্সী মোহাম্মদ ইসহাক আমীন এবং অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম স্বপন চৌধুরী দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে যেভাবে নোংরা বক্তব্য প্রদান করেন যা আওয়ামী লীগ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে এমনটাই ধারণা তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ টিপু বলেন, বেলায়েত হোসেন ঢালীর পরিবারের একমাত্র তিনি আওয়ামী লীগ বাকিরা সবাই অন্যান্য দল এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাদের ভূমিকার সবসময়ই রহস্যজনক।