খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১ পৌষ, ১৪৩২

উজিরপুরে সওজের জমিতে বিএনপি কার্যালয়

স্টাফ রিপোর্টার :
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:২১ অপরাহ্ণ
উজিরপুরে সওজের জমিতে বিএনপি কার্যালয়

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জমি দখল করে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ওই স্থানে গত বছরের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের নেতারা ছাপরা তুলে কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

প্রায় দুই মাস ধরে শ্রমিক দিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা দুই কক্ষের ভবনের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, দুই মাস ধরে সড়কের জমি দখল করে ভবন নির্মাণের কাজ চললেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশাল-বানারীপাড়ার সড়কে সবচেয়ে ব্যস্ততম গুঠিয়া সেতু। এটি ওই এলাকার বাণিজ্যিক বন্দর এবং গুঠিয়ার সন্দেশ প্রসিদ্ধ হওয়ায় সব সময় জমজমাট থাকে। বরিশাল থেকে বানারীপাড়া যেতে সেতু পার হওয়ার পর ঢালের শুরুতে দক্ষিণ পাশে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ভবন নির্মাণ করেছেন।

গতকাল বুধবার সড়ক ও জনপথ বিভাগের উজিরপুর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমি খবর পেয়ে আজ (বুধবার) নির্মাণাধীন ওই ভবন দেখে এসেছি। ভবনে ওঠার জন্য একটি সিঁড়িও করা হয়েছে। ওই ভবন এবং সিঁড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমির ওপর করা হয়েছে কি না, তা সার্ভেয়ার এনে মেপে দেখতে হবে।’

অপর দিকে স্থানীয় বিএনপির নেতারা বলছেন, সরকারের প্রয়োজন হলে তাঁরা জমি ছেড়ে দেবেন। জানা গেছে, একই স্থানে ২০২৩ সালের দিকে অবৈধভাবে টিনের ছাপরা তুলে গুঠিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় করা হয়েছিল। গত বছর ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন অফিসটিতে লুটপাট করে আগুন দেওয়া হয়।

গুঠিয়ার একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সেতুর ঢাল যেখানে শুরু হয়েছে, সেখান থেকে আনুমানিক ৫ ফুট দূরত্বে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। দুটি লম্বা কক্ষ করা যাবে, এমন আকারের ভবনটি করা হয়। নিচু জায়গায় এরই মধ্যে পিলারের ওপর দাঁড় করানো ভবনে গাঁথুনি ও ছাদের ঢালাই শেষ হয়েছে। প্রকাশ্যে সড়কের জমি দখল করে ভবন করা হলো, কিন্তু সরকারি সংস্থাটির কারও নজরে পড়েনি, এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়।’

গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও উজিরপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন হাওলাদার বলেন, ‘খালি জমি পড়ে আছে, ভবন করেছি। সরকারের যদি কোনো দিন প্রয়োজন হয় ছেড়ে দেব। তবে সেখানে আগে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ছিল না।’

সেতুর ঢাল ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এবং সরকারি জমিতে পাকা ভবন নির্মাণ ঠিক কি না, এ প্রসঙ্গে শাহিন বলেন, ‘ঢাকায় সরকারি জমিতে অনেক দলের অফিস হয়েছে, তাতে হয়েছে কী?’

উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন খান বলেন, ‘পোলাপানে কার্যালয় করতে পারে। তারা অবশ্য বিষয়টি থানা বিএনপিকে জানায়নি। এ জন্য সঠিক বলতে পারব না।’

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘গুঠিয়া ব্রিজসংলগ্ন সড়ক ও জনপথের জমিতে ভবন করা হচ্ছে কি না, তা আমার জানা নেই। আমাকে কেউ জানাননি। সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

ডিসেম্বর মাসের প্রথম আট দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। এ জন্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে মূলত প্রবাসী ও রপ্তানি আয়ের ধারাকে সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার এই ডলার কেনা হয়।

এ সময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ২৭ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ২৯ পয়সা পর্যন্ত। কাট-অফ রেট ১২২ টাকা ২৯ পয়সা, যা মাল্টিপল প্রাইস নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা যায়, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এ পর্যন্ত নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ২৫১ কোটি ৪০ লাখ (২ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার) ডলার কিনেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ জুলাই থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি মাসের ১ থেকে ৮ ডিসেম্বর সময়ে দেশে ১০০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। এর মধ্যে ৮ ডিসেম্বর এসেছে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ৮৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ শতাংশ।

পাশাপাশি গত জুলাই থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৪০৪ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ১৯৬ কোটি ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন সমাবেশ, আন্দোলন করা থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সতর্ক করে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত যে কোনো ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন আন্দোলন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যারা বেআইনিভাবে সভা-সমাবেশে অংশ নেবেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর হয়- এটিই বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য। একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য যা যা করণীয় সরকার সেই দিকেই মনোনিবেশ করছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনী নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রায় নয় লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদনহীন সভা–সমাবেশ ও আন্দোলন নিয়ে সতর্ক করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, অনেকেরই নায্য দাবি-দাওয়া রয়েছে। গত দেড় বছরে দুই হাজারের বেশি আন্দোলন-বিক্ষোভ সংঘটিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীরা দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেছেন। সরকার নায্য দাবিতে সব সময়ই সাড়া দিয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাতে চেষ্টা করেছে।

‘কিন্তু আমরা এখন নির্বাচনমুখী সময়ে আছি। এ কারণে সকলের যা কিছু দাবি-দাওয়া আছে তা নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। আমরা আশা করব, এ সময়ের মধ্যে কেউ দাবি-দাওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি বা স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্ন করবেন না।’

চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

ত্রয়োদশ ‎জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহে হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল কখন ঘোষণা করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘এই সপ্তাহে তফসিল হয়ে যাবে।’

দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির দপ্তরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিইসি। সাক্ষাৎ শেষে প্রধান বিচারপতির দপ্তর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। দুপুর দেড়টার দিকে সিইসি সুপ্রিম কোর্টে এলে তাঁকে স্বাগত জানান সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ওনার (প্রধান বিচারপতি) সাথে কথা হয়েছে। উনি অবসরে চলে যাচ্ছেন। একটা ফেয়ারওয়েল কল (বিদায়ী সাক্ষাৎ) করতে এসেছি ওনার সাথে।…উনি এ মাসে অবসরে যাবেন। আমরা একসাথে কাজ করেছি। সে জন্য ওনার সাথে একটা ফেয়ারওয়েল কলের মতো, সৌজন্য সাক্ষাৎ আছে না একটা, ফেয়ারওয়েল কল করতে এসেছিলাম ওনার সঙ্গে। অন্য কোনো বিষয় নয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’ (নির্বাচনী তদন্ত কমিটি) যাতে ওনারা ডিপ্লয় করবেন, আমাদের তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে। এই কাজটা যাতে উনি ত্বরান্বিত করেন, সে বিষয়ে ওনাকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

প্রধান বিচারপতি কী আশ্বাস দিয়েছেন—এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘উনি (প্রধান বিচারপতি) জাস্ট, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির যে লোকজন দেওয়ার কথা আছে, ডেপ্লয়মেন্ট আছে, সে ব্যাপারে ওনারা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং নেবেন, কোনো অসুবিধা হবে না বলে অ্যাসিউর (আশ্বস্ত) করেছেন।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, মামলা নিয়ে কোনো কথা হয়নি।